শুক্রবার, ১৮ এপ্রিল, ২০১৪

ইসলাম ' শৃঙ্খল ' নয় , ' শৃঙ্খলা '

ইসলাম ' শৃঙ্খল ' নয় , ' শৃঙ্খলা ' !!!
বিছমিল্লাহির রাহমানির রাহীম(দয়াময় মেহেরবান আল্লাহ্‌র নামে শুরু করছি)
লেখাটি একটু বড় হলেও মনোযোগ দিয়ে পড়ার অনুরোধ রইলো ।

এই সমাজ শইতানের মনোমুগ্ধকর শইতানি উপস্থাপনাকে গ্রহন করতে গিয়ে তার জীবনের লক্ষ্য(জান্নাত) থেকে আস্তে আস্তে দূরে সরে গিয়ে আল্লাহর ইচ্ছার পরিবর্তে শইতানের ইচ্ছা গুলোকে আন্তরিকতার সাথে প্রশ্রয় দিচ্ছে , যার ফলে সমাজ দিন দিন কুলুষিত-নোংরাময় হয়ে যাচ্ছে , মানুষ তার প্রয়োজনের দোহায় দিয়ে হালাল-হারামকে একসাথে মিশিয়ে ফেলতেছে , শইতানের ধোঁকায় পতিত হয়ে এক মুসলিম ভাই ও অপর ভাইয়ের মধ্যে অহংকার-হিংসা-প্রতিহিংসা-পরনিন্দা-মিথ্যার আশ্রয়-চোগলকরী অভ্যাসের মত জাহান্নামমুখী গুনাহগুলো ভয়াবহ রুপ ধারন করেছে , সমাজ তথা রাষ্ট্র ব্যবস্থার রন্দ্রে রন্দ্রে ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক নীতিসুমুহ আমাদের গিলানো হচ্ছে , আর আমরা তা সানন্দে গ্রহন করে চলেছি । যার ফলে আমরা 'ইসলাম'কে পাশ কাটিয়ে স্বাভাবিক বিষয়গুলো অস্বাভাবিক এবং অস্বাভাবিক বিষয়গুলো স্বাভাবিক বিষয়ে পরিণত করে ফেলতেছি ।

নীতি বিবর্জিত এই সমাজে আমরা সাধারণত রাস্তায় প্রকাশ্য 'মদ' পান করতে দেখিনা কারন এইটা হারাম , কিন্তু রাস্তায় প্রকাশ্য মেয়েদের অর্ধ নগ্ন(জঘন্য হারাম)ভাবে চলাফেরা করতে দেখি । একজন বোন ঘর থেকে বাহির হওয়ার আগে আয়নায় সামনে দাড়িয়ে চিন্তা করে না সে কি আল্লাহকে খুশি করে বাসা থেকে বাহির হচ্ছে নাকি শইতানের ইচ্ছাকে মূল্য দিচ্ছে , ঠিক তেমনি একজন ভাই রাস্তায় বাহির হয়ে তার 'চোখ-অন্তরের' কার্যবিধি প্রয়োগ করার আগে ভুলে যায় যে আল্লাহ তাকে দেখছেন । আমরা নর্দমাযুক্ত নালার পানি দেখলে নাকে হাত দেই , কিন্তু এর চেয়েও নোংরা ' সুদ-ঘুষ ' খাওয়াকে কিছু মনে করছিনা । এই যেন এক মামুলি ব্যাপার ! হালাল-হারাম ভুলে কথার চাপাবাজিতে অপরকে ঠকানো এখন সমাজের নিয়মে পরিণত হয়েছে । আমরা আল্লাহকে ভুলে শইতানের তরে কাজগুলোকে নিজের অন্তরে গেঁথে শরীরের রক্তকে ' মাদকাসক্ত'দের মত দূষিত করে ফেলেছি । আমরা ভুলে যাচ্ছি দুনিয়াকে আল্লাহ ' ধোঁকা ' এবং রাসুল(সঃ) ' জেলখানা ' হিসাবে অভিহিত করেছেন , আমরা ভুলে যাচ্ছি সেই ভয়াবহ প্রতিফল দিবসের কথা ,যেইখানে আমাদের দুনিয়ার প্রতিটা কাজের জবাবদিহি করতে হবে । বিনিময়ে আমাদের জন্য থাকবে এমন জান্নাত যা কেউ দেখনি , কোন কান শুনেনি ,কোন অন্তর তা কল্পনাও করেনি এবং এমন জাহান্নাম যার ভয়াবহতার ব্যাপারে বলতে গিয়ে রাসুল(সঃ) বলেছেন ,“আল্লাহর শপথ! আমি যা জানি যদি তোমরা তা জানতে, কম হাসতে বেশী কদঁতে। বিছানায় স্ত্রীদের সম্ভোগ করার বোধ হারিয়ে ফেলতে। আল্লাহর সন্ধানে পাঁহাড়ে এবং উঁচুস্থানসমূহে বের হয়ে যেতে।” (সহীহ বুখারি/মুসলিম)


আমার প্রিয় ভাই ,
'ইসলাম' আপনাকে ডাকছে সুমহান আদর্শের সুন্দরযের ছায়াতলে যা আপনাকে জাহান্নামের ভয়াবহ আযাবের পরিবর্তে জান্নাত পর্যন্ত পোঁছায় দিবে । আমরা জান্নাত কেন্দ্রিক জীবন পরিচালনা করার পরিবর্তে দুনিয়ার চাকচিক্যময় জীবনকেই বেশি প্রাধান্য দেই । আমাদের মধ্যে ধর্মীয় অনুশাসন না থাকার কারনে আমরা দীনের হুকুমের পরিবর্তে শইতানের ইচ্ছাগুলোকেই বেশি প্রশ্রয় দেই । খুব খারাপ লাগে যখন কোন ভাইকে দেখা যায় , জাহান্নামের যাওয়ার কারন ‘টাখনুর নীচে’ এমনভাবে প্যান্ট পড়তে যেন কোমর ধরে পিছন দিক থেকে কেউ একজন উনার প্যান্ট টা জোর করে টেনে নামিয়ে দিচ্ছে , তদ্রুপ একজন মুসলিম ভাই কতোটা বিকৃত মস্তিষ্কের স্বরূপ হলে মেয়েদের মত 'কানে দুল' পড়তে পারে , একটু চিন্তা করে দেখুন পুরুষ জাতির জন্য তা কতোটা লজ্জাজনক । ব্যাপারটা এমন , জন্মগত ভাবে মুসলিম কিন্তু চলাফেরা করি ইহুদী-খ্রিষ্টানদের কালচারে । লজ্জা নারীর ভূষণ ; তার মানে এই নয় যে নির্লজ্জতা পুরুষের অহংকার । পুরুষের জন্যও লজ্জা ঈমানের অঙ্গ । রাস্তায় হাঁটার সময় 'বিল বোর্ডে' বেপর্দা ছবির দিকে তাকানো টাও লজ্জা!
আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) বলেন, 'রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) পর্দানশীল কুমারী মেয়েদের চেয়েও অধিক লজ্জাশীল ছিলেন' (বুখারী হা/৩৫৬২,রিয়াযুছ ছালেহীন) । আমরা সেই রাসুল(সঃ) এর উম্মত হয়ে বরফ গলানোর মত করে লজ্জাকে আস্তে আস্তে বিসর্জন দিচ্ছি ।

ভাই আমার , একদিকে আপনি মুসলিম হিসাবে জন্ম গ্রহন করায় জান্নাত চাইতেছেন অন্যদিকে টি শার্টের একপাশে 'চে' এর ছবি এবং অন্য পাশে 'রক' স্টারের ছবি বহন করে তাদের অনুকরন করার চেষ্টায় আছেন । সপ্তাহে মাত্র ১ দিন ১ ওয়াক্ত ১ বার জামায়াত বদ্ধভাবে ২ রাকাত নামাজ পড়া হয় , তাও আবার পুরো সপ্তাহে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো নিয়ে সামগ্রিক আলোচনা করে মসজিদকে আড্ডার স্থান না বানালে চলেই না । ব্যস , কাজ শেষ ! এইবার বাকী ছয়দিন খাও,ঘুমাও, এবং মাস্তি কর ।ভাই আপনি-ই নিজে বিচার করুন , আপনার বর্তমান অবস্থান কোথায় ?? যতদিন পর্যন্ত আমরা আমাদের জীবনে রাসুল(সঃ) এর আদর্শ জাগিয়ে তুলতে পারব না , ততদিন পর্যন্ত আমরা জান্নাত কেন্দ্রিক জীবন পরিচালনা করতে পারব না । আর জান্নাত কেন্দ্রিক জীবন পরিচালিত না হলে নিঃসন্দেহে 'জাহান্নাম'-ই আমাদের একমাত্র অবধারিত স্থান । আল্লাহ কুরানে বলেন ,
“বলুন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালবাস, তাহলে আমাকে অনুসরণ কর, যাতে আল্লাহ ও তোমাদিগকে ভালবাসেন এবং তোমাদিগকে তোমাদের পাপ মার্জনা করে দেন। আর আল্লাহ হলেন ক্ষমাকারী দয়ালু।“ (আল-ইমরান:৩১)

জান্নাতের কথা বলতে গিয়ে রাসুল(সঃ) বলেন , আবূ সাইদ খুদরী (রাঃ) ও আবূ হুরাইরা (রাঃ)হতে বর্ণিত,
“জান্নাতীরা যখন জান্নাতে প্রবেশ করে যাবে, তখন একজন ঘোষণাকারী ঘোষণা করবে যে, তোমাদের জন্য এখন অনন্ত জীবন; তোমরা আর কখনো মরবে না। তোমাদের জন্য এখন চির সুস্বাস্থ্য; তোমরা আর কখনো অসুস্থ হবে না। তোমাদের জন্য এখন চির যৌবন; তোমরা আর কখনো বৃদ্ধ হবে না। তোমাদের জন্য এখন চির সুখ ও পরমানন্দ; তোমরা আর কখনো দুঃখ-কষ্ট পাবে না।” (মুসলিম ২৮৩৬,২৮৩৭)।

রাসুল(সঃ) এর আদর্শ অনুস্মরণ না করে আখেরাত বিমুখী পার্থিব আদর্শকে প্রাধান্য দেই , তাদের ব্যাপারে আল্লাহ বলেন ,
“যে ব্যক্তি পার্থিব জীবন ও এর চাকচিক্য কামনা করে আমি তাদেরকে দুনিয়াতেই তাদের আমলের পূর্ণ প্রতিফল প্রদান করি এবং এখানে তাদেরকে কম দেয়া হবে না। এদেরই জন্য আখেরাতে অগ্নি ব্যতীত অন্য কিছুই নাই এবং তারা এখানে যা করে, আখেরাতে তা নিষ্ফল হয়ে যাবে। আর তারা যে সব কাজ-কর্ম করে সবই নিরর্থক। [সূরা হুদ, ১৫-১৬ ]

ভাই আমার , ইসলাম আপনাকে দিয়েছে শৈশব থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সর্বজন স্বীকৃত , দুনিয়ার সর্বশ্রেষ্ঠ মানব রাসুল(সঃ) এর সর্বোত্তম অনুকরণীয় জান্নাত কেন্দ্রিক জীবনাদর্শ । আল্লাহ্‌র ইচ্ছায় যে রাসুল(সঃ) সারাজীবন উম্মতের জন্য কষ্ঠ করেছেন , উম্মতের জন্য চোখের পানি ফেলেছেন , অনেক যুদ্ধ করেছেন , সে রাসুল(সঃ) এর জীবনী কি একবারও পড়া হয়েছে ? রাসুল(সঃ)কে যখন বাংলাদেশসহ বিশ্বব্যাপী ব্যঙ্গাত্তক করা হয় তখন কি একবারও আপনার অন্তর কেঁদেছে ? অথচ দেখুন , আপনার চোখের পানি পড়ে হুমায়ুন আহমেদের জন্য যিনি আল্লাহ্‌র ইচ্ছাদিন মানবজাতির আয়ুষ্কাল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন । আপনার অন্তর কাঁদে একজন নাস্তিক আজাদ কে নিয়ে যিনি গর্ভবতী মহিলাকে নিয়ে বিদ্রুপ মন্তব্য করে নারীজাতিকে চরম অসম্মান করেছেন । আপনি আদর্শ ভেবে আছেন একজন 'জাফর ইকবাল' কে যিনি ধর্ম নিয়ে স্পষ্ট বিভ্রান্তি ও বিভক্তিকর মন্তব্য করে চলেছেন , যিনি মেয়ে বয়সি ছাত্রীদের সাথে ড্যান্স করতে নিজের মূল্যবোধ নিয়ে একটুও চিন্তা করেননি।
আফসুস ! আপনি পাগলের মত 'হিমু' সেজে হুমায়ুন আহমেদের কবরে গিয়ে চোখের পানি ফেলেন , অথচ যার সুপারিশ ছাড়া আপনি জান্নাত পাবেন না সে মহামানব কে নিয়ে কুটুক্তি করায় প্রতিবাদ তো দূরের কথা ওইসব নাস্তিক-মুশরিক-কাফেরদের হেদায়েতের জন্যও আপনার দু'হাত উঠে না । একটু ভেবে দেখুন তো ভাই , কিসের বিনিময়ে আল্লাহ্‌র কাছে আপনি জান্নাত আশা করেন , যেইখানে রাসুল(সঃ) এর আদর্শ বাদ দিয়ে আপনি একজন নাস্তিক 'চে' এর জীবনাদর্শ নিয়ে জীবন পরিচালনা করেন । সেক্সপিয়ার-সুনীল-হুমায়ুন আহমেদ দের অসংখ্য বই পড়ে শৈশব-যৌবন পার করছেন , তাদের লেখার মাঝে জীবনের এমন আদর্শ খোঁজার চেষ্টা করছেন যা আপনাকে জান্নাতের ধারে কাছেও নিবে না । কিন্তু আপনার জীবনের ধারক-বাহক ,জান্নাত প্রাপ্তির জন্য সরল পথের একমাত্র ঠিকানা কুরান-হাদীস খুলে কি কখনো জানার চেষ্টা করেছেন কি আছে এতে ? হয়তো দীর্ঘদিন স্পর্শ না করার কারনে তা ধুলোবালি নিয়ে বাসার কোন উঁচু স্থানে আছে ।

১৪ বছরের একজন 'মালালাকে' আহত(ইসলাম কোন অন্যায় কে সমর্থন করে না ) করায় আপনার বজ্র কণ্ঠ ভেসে উঠে , কিন্তু মুসলমানদের পবিত্র ভুমিতে জোরপূর্বক প্রবেশ করে ১৪বছরের কম অসংখ্য মালালাকে বোমা হামলা করে মেরে ফেলা হচ্ছে সেইদিকে আপনার কোন ভ্রূক্ষেপ নাই । সম্পদ লুটের স্বার্থে মিথ্যা ষড়যন্ত্র করে যখন ইরাকের হাজার হাজার শিশুকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল তখন কোথায় ছিল আপনার এই আকুতি ? মিয়ানমারে নারী ধর্ষণ , সম্পদ লুটসহ নৃশংসভাবে গণহারে মুসলিম নিধন চলতেছে এতে আপনার হৃদয় নাড়া দেই না , কাশ্মির-ভারতের আসামে সাম্প্রতিক মুসলিম নিধনে আপনার প্রতিবাদী ধরজ কণ্ঠ জেগে উঠে না ।
কারন পশ্চিমা মিডিয়া আপনার 'ব্রেইন ওয়াশ' করে ফেলেছে । 'ইসলাম' দিয়ে ভাল-মন্দের পার্থক্য না করে তাদের মিডিয়া কত্রিক আপনাকে যা গিলানো হয়েছে আপনি তা-ই গিলেছেন । আপনাকে যা শিখানো হবে আপনি তাই বিশ্বাস করবেন । এইভাবে এক পর্যায়ে আস্তে আস্তে আপনি তাদের কেনা দাস হয়ে যাবেন এবং এক সময় একজন মুসলিম হয়ে মুসলিমদের বিরুদ্ধে আপনি কলম ধরবেন । এইরকম অহরহ হচ্ছে , হয়েছিল , হবে । একমাত্র যারা আল্লাহ্‌র দেয়া বিবেক বোধ দিয়ে ইসলাম কেন্দ্রিক বিষয় গুলো আল্লাহ্‌র সন্তুষ্টি মোতাবেক চিন্তা করবে , তারাই আসলটা উপলব্ধি করতে পারবে । কুরান-হাদীসে বলে দেওয়া হয়েছে , ইহুদী-খ্রিস্টান কখনো আমাদের বন্ধু হতে পারে না , তারা কখনো মুসলিমদের ভাল চাই না । তারা যখন মুসলিমের ভালোর জন্য কোন পদক্ষেপ নিবে , তখন মনে করতে হবে সেইখানে মুসলমানের বিরুদ্ধে বিশাল 'ফাঁদ' লুকায়িত । তাই আমাদের সতর্ক থাকা সরকার এবং এই ক্ষেত্রে আবেগের চাইতে বিবেককে জাগ্রত রাখা জরুরী ।আল্লাহ কুরানে বলেন ,
" মুমিনগণ, তোমরা আমার ও তোমাদের শত্রুদেরকে বন্ধরূপে গ্রহণ করো না। তোমরা তো তাদের প্রতি বন্ধুত্বের বার্তা পাঠাও, অথচ তারা যে সত্য তোমাদের কাছে আগমন করেছে, তা অস্বীকার করছে। তারা রসূলকে ও তোমাদেরকে বহিস্কার করে এই অপরাধে যে, তোমরা তোমাদের পালনকর্তার প্রতি বিশ্বাস রাখ। যদি তোমরা আমার সন্তুষ্টিলাভের জন্যে এবং আমার পথে জেহাদ করার জন্যে বের হয়ে থাক, তবে কেন তাদের প্রতি গোপনে বন্ধুত্বের পয়গাম প্রেরণ করছ? তোমরা যা গোপন কর এবং যা প্রকাশ কর, তা আমি খুব জানি। তোমাদের মধ্যে যে এটা করে, সে সরলপথ থেকে বিচ্যুত হয়ে যায়" [সূরা আল মুমতাহিনা(৬০):১]
আল্লাহ বলেন ,
" আল্লাহ কেবল তাদের সাথে বন্ধুত্ব করতে নিষেধ করেন, যারা ধর্মের ব্যাপারে তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে, তোমাদেরকে দেশ থেকে বহিস্কৃত করেছে এবং বহিস্কারকার্যে সহায়তা করেছে। যারা তাদের সাথে বন্ধুত্ব করে তারাই জালেম " , "মুমিনগণ, আল্লাহ যে জাতির প্রতি রুষ্ট, তোমরা তাদের সাথে বন্ধুত্ব করো না। তারা পরকাল সম্পর্কে নিরাশ হয়ে গেছে যেমন কবরস্থ কাফেররা নিরাশ হয়ে গেছে।"। [সূরা আল মুমতাহিনা(৬০):৯,১৩]


প্রিয় বোন আমার ,
'ইসলাম' আপনাকে দিয়েছে উত্তম জীবনাদর্শ , দিয়েছে সম্মান , করেছে অলংকৃত । দীনের হুকুম 'পর্দা' আপনাকে দিয়েছে আত্মসম্মান , দীনের আদর্শ 'চারিত্রিক গুণাবলি' আপনাকে দিয়েছে সমাজ পরিবর্তনের কারিগরি ক্ষমতা । একটু ভাবলেই দেখবেন , একজন পুরুষ যতই খারাপ(মনুষ্যত্ব-মূল্যবোধহীন ও বিকৃত মস্তিষ্ক ছাড়া) হোক , সে 'আদর্শবান' একজন নারীর প্রতি সবসময় শ্রদ্ধাশীল । আর একজন 'আদর্শবান' নারী-ই পারে একজন আদর্শবান স্বামী-সন্তান-পরিবার-সমাজ গড়ে তুলতে । অথচ দেখুন , ইসলাম আপনার জন্য সবসময় অনুকরণীয় আদর্শ তৈরি রেখেছে , আর আপনি তা অগ্রাহ্য করে ইবলিশের দোসরদের পছন্দের উপস্থাপনা অনুকরণ করছেন । সবচাইতে খারাপ লাগে যখন একজন বোন মশারির মত কাপড় পরিধান করে রাস্তায় বাহির হয় , অর্ধ নগ্ন পোশাক ও পুরুষের পোশাক পড়ে পরপুরুষের কাছে আকর্ষণীয় ভাবে নিজেকে উপস্থাপন করে তখন সে একবারও ভাবে না যে, প্রথমত বেপর্দার জন্য তার গুনাহ হচ্ছে , দ্বিতীয়ত অশালীন পোশাক পড়ে নির্লজ্জ ভঙ্গিতে পরপুরুষের সামনে নিজেকে উপস্থাপিত করায় ওই ব্যক্তির গুনাহ'র ভাগিদারও সে হচ্ছে । ব্যাপারটা একটু সুস্থ মস্তিষ্কে ভাবলেই বোঝা যায় , নারী জাতির জন্য তা কতোটা ' হতাশাজনক' । যারা বেহায়্যাপনার মাধ্যমে সমাজে নগ্ন তা ছড়িয়ে দেন , তাদের ব্যাপারে আল্লাহ বলেন , "যারা পছন্দ করে যে, ঈমানদারদের মধ্যে ব্যভিচার প্রসার লাভ করুক, তাদের জন্যে ইহাকাল ও পরকালে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি রয়েছে। আল্লাহ জানেন, তোমরা জান না"[সূরা আন-নুর(২৪) :১৯]
ঠিক তেমনি আবাক লাগে যখন শোনা যায়, একজন প্র্যাকটিসিং হিজাবি বোন আল্লাহ্‌র ভয়ে বাসা থেকে পর্দা করে বাহির হয় কিন্তু বাসায় ভারতীয় চ্যানেল/হারাম টিভি অনুষ্ঠান নিয়ে পড়ে থাকে । একজন প্র্যাকটিসিং মুসলিমাহ ঘরের মধ্যে যদি নিজেকে হেফাজত রাখতে অসমর্থ হয় তাহলে সে ঘরের বাইরে ফিতনা থেকে নিজেকে কতোটুকু হেফাজত রাখবে তা প্রশ্নবিদ্ধ ! বর্তমান বাংলাদেশের পরিবারগুলোর মধ্যে অশান্তির অন্যতম প্রধান কারন হচ্ছে , ভারতীয় চ্যানেল ! 'স্টার' ও 'জী' গ্রুপের প্রতিটা চ্যানেল ইসলামের সুন্দর্যের বিপরীতে একটা সুখী-সুন্দর পরিবারের জন্য বিষধর সাপের চাইতে ভয়ংকর ! আমরা শিক্ষণীয় সামাজিক অনুষ্ঠানের দোহায় দিয়ে এইসব হারাম বিদ্বেষমূলক অনুষ্ঠান নিয়ে পড়ে থাকি কিন্তু দীনের সুন্দরয আমাদের যে পারিবারিক শিক্ষা দিয়েছে তা আমরা একবারও খোঁজে দেখার চেষ্টা করিনা । বিশেষ করে শিশুদের উপর এইসব অনুষ্ঠান মারাত্মক ভাবে প্রভাব পড়ছে ।

বোন আমার ! লজ্জা মানবজীবনের অনেক বড় সম্পদ ! যখন কেউ এটা হারাতে থাকে তখন তার জীবনের আত্মসম্মান বলতে যদি কিছু থাকে , তা আস্তে আস্তে চলে যায় । এমন কোন কিছুর সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখা উচিত নয় যার জন্য কাল আল্লাহ্‌র দরবারে ভয়াবহ ভাবে জিজ্ঞাসিত হবেন । নিজেকে জিজ্ঞাসা করে দেখুন তো , স্কুল-কলেজ-ভার্সিটিতে কতোবার মা-বাবার চোখ ফাঁকি দিয়ে বয় ফ্রেন্ডের সাথে ঘুরতে বেড়িয়েছেন , কতোবার এমন অনেক কিছুর সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছেন যা আপনার অভিভাবকের কাছে লজ্জায় প্রকাশ করা যাবে না কিন্তু যাকে ফাঁকি দেওয়া সম্ভব না সে আল্লাহ তো আপনার কার্যবিধি দেখছেন । আপনি হয়তো অপ্রকাশ্য কাজগুলো করার সময় আল্লাহকে ভুলে থাকেন , কিন্তু আল্লাহ আপনাকে দেখেন এবং ঠিকই আপনার দৃশ্যমান-অদৃশ্যমান সকল কাজের পরিপূর্ণ হিসাব নিবেন । আল্লাহ বলেন ,
"যেদিন প্রকাশ করে দেবে তাদের জিহবা, তাদের হাত ও তাদের পা, যা কিছু তারা করত ; সেদিন আল্লাহ তাদের সমুচিত শাস্তি পুরোপুরি দেবেন এবং তারা জানতে পারবে যে, অল্লাহই সত্য, স্পষ্ট ব্যক্তকারী " ( সূরা আন-নুর , ২৪-২৫)

আলহামদুলিল্লাহ একজন নেককার , গুণবতী নারীকে ইসলাম কতো মর্যাদা দিয়েছে দেখুন , হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রাঃ) বর্ণনা করেন, রাসুলে আকরাম (সাঃ) বলেনঃ গোটা দুনিয়াই সম্পদে পরিপূর্ণ। এর মধ্যে সবচেয়ে উত্তম সম্পদ হলো পূর্ণবতী(নেককার) স্ত্রী। (মুসলিম) । ইসলাম আপনাকে দিয়েছে সর্বোচ্চ সম্মান , কিন্তু আপনি পাশ কাটিয়ে তা গ্রহন করা থেকে নিজেকে বিরত রাখছেন , কারন আপনার পা এখন নারীবাদীদের ফাঁদ পাতা গর্তে । আপনি তথাকথিত নারীবাদীদের ফাঁদে পা দিয়ে আজ লম্পটদের কাছে ভোগ পণ্যে পরিণত হচ্ছেন , হয়েছেন , হবেন । সংক্ষেপেই বলি , আমরা জানি নারীবাদীরা পর্দার বিরুদ্ধে সোচ্চার । এই পর্যন্ত বাংলাদেশে শত শত নারী ধর্ষিত হয়েছে তার মধ্যে একজনও কি দেখাতে পারবেন যিনি পর্দানশীল নারী ছিলেন ? এখন আপনি-ই চিন্তা করুন , নারীবাদীরা কি অর্থে 'নারীবাদী' !


আমার প্রিয় মুসলিম ভাই-বোন ,
শইতানের প্রধান অস্ত্র আমাদের চরিত্রকে ধ্বংস করা । সে যার চরিত্র নষ্ট করতে পারবে , তাকে দ্রুত দীনের অন্যান্য হুকুম-আহকাম থেকে বাহির করে আনতে পারবে । একটু খেয়াল করলেই দেখবেন যারা চরিত্রের ব্যাপারে উদাসীন, তারা দীনের হুকুম-আহকামের ব্যাপারেও উদাসীন ! তাই ইবলিশের প্রথম/প্রধান টার্গেট ,আমাদের উত্তম চরিত্র গঠনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন দুনিয়াবি চাকচিক্য উপস্থাপনের মাধ্যমে বাধা দেওয়া এবং শইতান তার এই শইতানি গুলো তার দোসরের মাধ্যমে আমাদের মাঝে মনোমুগ্ধকর করে উপস্থাপন করে , যাতে আমরা দুনিয়াবি মাস্তির মোহে আখেরাতের প্রতিফল দিবসে আমাদের কর্মের হিসাবের কথা ভুলে থাকি ।যার দরুন , আমরা বিয়ে পূর্ব হারাম রিলেশনের সাথে নিজেকে জড়িয়ে ফেলি । আল্লাহ আমাদের জন্য সঠিক সময়ে একজন জীবন সাথী বাছাই করে রেখেছেন । সারা দুনিয়াবাসী একত্রিত হয়ে তা পরিবর্তন করতে চাইলেও আল্লাহ যার জন্য আপনাকে নির্ধারণ করে রেখেছেন আপনি তার-ই হবেন । অথচ সেই আপনি আল্লাহ্‌র প্রতি আস্থা হারিয়ে হারাম রিলেশনে জড়িয়ে নির্ভেজাল গুনাহ'র উপর হাবুডুবু খাচ্ছেন ।
আপনি যে হাতে একজন বেগানা নারী/পুরুষের হাত স্পর্শ করছেন তা আপনার স্বামীর/স্ত্রীর হক ! আপনি আল্লাহ্‌র নিষেধ উপেক্ষা করে আপনার ভবিষ্যৎ জীবন সঙ্গীকে ঠকাচ্ছেন । ইসলাম বিয়ের পূর্ববর্তী নারীপুরুষের অবাধ মেলামেশা স্পষ্ট হারাম ঘোষণা করেছে , তা জেনেও আপনি আল্লাহ'র হুকুম অমান্য করছেন ! এতেই কি বুঝা যায়না আপনি আল্লাহকে ভুলে শইতানের কাজে সহযোগিতা করছেন ? একজন মানুষের জীবনে বিয়ে হচ্ছে এমন একটি নেয়ামত ও পবিত্র ভালবাসার বন্ধন যা তার ঈমানের অর্ধেক পূর্ণ করে দেই । অথচ আল্লাহ'র পক্ষ থেকে এমন একটি নেয়ামতকে আপনি হারামের সাথে মিশ্রণ জেনেশুনেই তো করতেছেন ? আপনি আজ কোন ছেলে/মেয়েকে নিজের মন থেকে নিয়ে সবকিছু উজাড় করে দিলেন , কাল আরেকজনকে দিলেন , পরশু আরেকজনকে , তারপর ? এখন আপনি-ই বলুন , আপনার চরিত্রকে আপনি কার সাথে তুলনা করবেন ? আল্লাহ বলেন ,
" মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহ তা’আলাকে ভয় কর। প্রত্যেক ব্যক্তির উচিত, আগামী কালের জন্যে সে কি প্রেরণ করে, তা চিন্তা করা। আল্লাহ তা’আলাকে ভয় করতে থাক। তোমরা যা কর, আল্লাহ তা’আলা সে সম্পর্কে খবর রাখেন। তোমরা তাদের মত হয়ো না, যারা আল্লাহ তা’আলাকে ভুলে গেছে। ফলে আল্লাহ তা’আলা তাদেরকে আত্ন বিস্মৃত করে দিয়েছেন। তারাই অবাধ্য। জাহান্নামের অধিবাসী এবং জান্নাতের অধিবাসী সমান হতে পারে না। যারা জান্নাতের অধিবাসী, তারাই সফলকাম "।
(সূরা আল হাশর৫৯:১৮-২০)

প্রিয় ভাই-বোন , আপনাকে ইসলামের অনুশাসন থেকে দূরে রাখার জন্য শইতানের দোসররা বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে । তারা আপনার কোমল অন্তরকে দুর্বলতা হিসাবে নিয়ে আপনাকে নিয়ে যাচ্ছে তাদেরই পরিকল্পিত চক্রে , যে চক্র আপনাকে শুধু ইসলাম থেকে দূরে রাখবে না , নিয়ে যাবে ধ্বংসের অতল গভীরে । আপনি খেয়াল করলে তাদেরই চিহ্নিত পত্রিকা গুলোতে দেখবেন , পত্রিকায় শুক্রবারে 'ইসলাম' নামক পেজে পর্দা নিয়ে কোন এক হুজুরের কলাম ছাপানো হয়েছে , আবার বিনোদন পেজে উলঙ্গ-অর্ধ নগ্ন নারীর ছবি দিয়ে আপনাকে যৌন সুড়সুড়ির রসদ যুগিয়েছে । ঠিক তেমনি আরেকটি হচ্ছে এফ.এম. রেডিও , যার কারনে আপনার ফজরের সময়টা কাটে ঘুমের মধ্যে । আর রাত্রে ঘুমের সময় আপনার সময় কাটে কানে হেডফোন বহন করে । আল্লাহ প্রতি রাত্রে আরশ থেকে প্রথম আসমানে গমন করেন এবং বলতে থাকেন , কে আছে এমন যে ক্ষমা চাইবে আমি তাকে ক্ষমা করব , কে আছে এমন রিযিক চাইবে আমি তাকে রিযিক দিব... এইভাবে ভোর পর্যন্ত বলতে থাকেন ।
চিন্তা করুন আল্লাহ আপনার জন্য প্রথম আসমানে এসে আপনাকে কল্যাণ-রহমত-নেয়ামতের জন্য আহবান করছে , আর আপনি সে আহবান আমলে না নিয়ে আল্লাহকে ভুলে সারা রাত এফ.এম. শুনছেন , বয়/গার্ল ফ্রেন্ডের সাথে হারাম ফোনালাপ করছেন , হার্ড ডিস্ক ফুলফিল করা মুভি দেখে রাত পার করে দিয়েছেন । এরপর আল্লাহ যখন প্রথম আসমান থেকে চলে যান তখন মুয়াজ্জিন আপনাকে আযান দিয়ে আহবান করে 'নামাজের পথে এসো , কল্যাণের পথে এসো' কিন্তু আপনি তখন ফজরের নামাজ আদায় না করে ল্যাপটপ-পিসি-মোবাইল বন্ধ করে ঘুমাতে যান । আল্লাহ চাইলে রাগান্বিত হয়ে এটাই আপনার জীবনের শেষ ঘুমে পরিণত করতে পারতেন কিন্তু করেন না । কারন আল্লাহ চান বান্দা তার ভুল বুঝে আল্লাহ্‌র দিকে প্রত্যাবর্তন করে ক্ষমাপ্রাপ্তদের সাথে অন্তর্ভুক্ত হয়ে জাহান্নামের কঠিন আযাব থেকে হেফাজত থাকুক । দেখুন , আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা কি পরিমান দয়ালু ও ক্ষমাশীল । সুবহান আল্লাহ এই হচ্ছে আমাদের আল্লাহ । আল্লাহ্‌র কাছে মন-প্রান সবকিছু আত্মসমর্পণ করে ভয়ে এবং অনুতপ্ত হৃদয়ে সিজদায় পড়ে আমাদের আজ-ই আল্লাহ্‌র কাছে তওবা করা উচিত । আল্লাহ আমাদের ক্ষমা করুন । আল্লাহ বলেন "হে ঈমানদারগণ, তোমরা শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না। যে কেউ শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করবে, তখন তো শয়তান নির্লজ্জতা ও মন্দ কাজেরই আদেশ করবে। যদি আল্লাহর অনুগ্রহ ও দয়া তোমাদের প্রতি না থাকত, তবে তোমাদের কেউ কখনও পবিত্র হতে পারতে না। কিন্তু আল্লাহ যাকে ইচ্ছা পবিত্র করেন। আল্লাহ সবকিছু শোনেন, জানেন "। (সূরা আন-নূর , ২১ নং আয়াতে)
আল্লাহ অন্য সূরায় বলেন ,
"বস্তুতঃ তোমরা পার্থিব জীবনকে অগ্রাধিকার দাও , অথচ পরকালের জীবন উৎকৃষ্ট ও স্থায়ী" (সূরা আলা-১৭-১৮)

আমরা যাই করিনা কেন মনে রাখতে হবে আল্লাহ আমাদের দেখছেন । আপনি একাকী-নির্জনে মোবাইল-পিসিতে আকাম-কুকাম দেখতেছেন , আপনাকে দুনিয়ার কেউই দেখতেছে না , আপনি তখন ভুল করবেন যদি ভুলে যান আল্লাহ আপনাকে দেখছেন । 'নাসা' তাদের স্যাটেলাইটের মাধ্যমে জানান দিয়েছে পৃথিবীবাসী তাদের কভারেজের মধ্যে আছে , এতেই মানুষ ভয় পাই । কিন্তু মানুষ এটা ভাবে না , যে মানবজাতি ভালভাবে নিজের পিঠ টা চুলকাইতে পারেনা , তারা যদি এমন প্রযুক্তি বানাতে পারে তাহলে যে আল্লাহ এই মানবজাতিসহ পৃথিবীর সবকিছু সৃষ্টি করেছে সে মহা-ক্ষমতাবান আল্লাহ্‌র কভারেজ ও পাকড়াও কেমন হতে পারে । সুড়সুড়িমূলক হারাম শিক্ষা দেওয়া এফ.এম. রেডিওর ভূত এফ.এম. শোনার পর রাত্রে অনেকে ভয়ে টয়লেটে যেতে পারে না । অবাক ব্যাপার ! কাল্পনিক ভূতের গল্প আপনাকে নাড়া দিয়েছে , অন্তরে ভয় ঢুকিয়ে দিয়েছে কিন্তু সুস্পষ্ট কুরান-হাদীসে জাহান্নামের ভয়াবহ আযাবের কথা আপনাকে একটুও বিচলিত করেনি । এ কেমন মুসলিম আপনি ??? আল্লাহ বলেন ,
‘যে ব্যক্তি অণু পরিমাণ ভালো কাজ করবে,সেখানে সে তা দেখতে পাবে। আর যে ব্যক্তি অণু পরিমাণ মন্দ কাজ করবে, সেও সেখানে তা দেখতে পাবে।
(সূরা যিলযাল : ৭-৮)


প্রিয় ভাই-বোন , আল্লাহ আমাদের সবকিছু ২৪ ঘণ্টা নিয়ন্ত্রন করছেন অথচ আমরা অন্তত ১ ঘণ্টা সময় দিয়ে নামাজ পড়ে আল্লাহ্‌র প্রতি কৃতজ্ঞতা আদায় করতে পারি না । নামাজ এমন এক মাধ্যম, যা আমাদের খারাপ কাজ থেকে দূরে রেখে ভাল কাজের দিকে উৎসাহ সৃষ্টি করে এবং আল্লাহ্‌র সাথে নৈকট্য বৃদ্ধি করে দেই । একজন মানুষ দৈনিক ২ বার কেন ৫ বার ফেচওয়াশ করে যতটা না ফ্রেশনেস খুজে পাই , দৈনিক ৫ বার উযু করে ৫ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করার ফলে তার চাইতে অনেক বেশী অতুলনীয় মনের প্রশান্তি খুজে পাই, চেহারার উজ্জ্বলতা অনুভব করে ; ঠিক তেমনি মেকআপ করে কৃত্রিম ভাবে ক্ষণিকের জন্য হয়তো সুন্দরয বৃদ্ধি করা যায় কিন্তু দৈনিক ৫ বার উযু করে নামাজ আদায় করার ফলে আল্লাহ'র পক্ষ থেকে চেহারার যে স্থায়ী সুন্দরয পাওয়া যায় , তা পৃথিবীর কোন বিউটিশিয়ানের পক্ষে সম্ভব নয় । তাই মুমিন ও কাফের মাঝে পার্থক্য স্থাপনকারী নামাজ ছেড়ে দেওয়া থেকে আমাদের বিরত থাকা উচিত । রাসুল(সঃ) বলেন ,
“মুমিন ও কাফের এর মধ্যে ব্যবধান হচ্ছে নামায ত্যাগ করা।”
(আহমদ, মুসলিম, আবু দাউদ, নাসায়ী ও তিরমিযী)
আল্লাহ বলেন ,
“সুতরাং দুর্ভোগ সে সব নামাযীর জন্য, যারা তাদের নামাযের ব্যাপারে উদাসীন।” (সুরা মাউন ৪-৫)

প্রিয় মুসলিম ভাই-বোন ,
'ইসলাম' আমাদের দিয়েছে সুস্পষ্ট পরিপূর্ণ জীবন বিধান , দিয়েছে 'জান্নাত-জাহান্নামে' প্রবেশের নমুনা-লক্ষণ । কিন্তু সেই ইসলামের হুকুম-আহকাম যখন আমাদের সামনে উপস্থাপন করা হয় , তখন আমরা তা ইসলাম সেকেলের বলে অগ্রাহ্য করি , অথবা নিজেকে আলেম সাজিয়ে 'ফতওয়া' দিয়ে নিজের গুনাহযুক্ত কাজগুলোকে জায়েজ করে নেই যা আল্লাহ্‌র দরবারে খুবই নিকৃষ্টতম কাজগুলোর একটি । আমরা ইসলাম পরিপূর্ণ ভাবে মানলে আল্লাহ'র কোন লাভ-ক্ষতি নাই , আমরা ইসলামের হুকুম-আহকাম পরিপূর্ণ না মানলেও আল্লাহ'র কোন লাভ-ক্ষতি নাই । তিনি যেমন আছেন / যেমন চান তেমন-ই থাকবেন । তিনি যা ইচ্ছা পোষণ করেন তাই করতে পারেন । তিনি যখন কোন কিছুকে বলেন ,' হয়ে যাও ' , তখন তা হয়ে যায় । আসমান থেকে যমিনের সবকিছুই তার ভয়ে সিজদায় অবনত । কিন্তু দুনিয়ায় আমাদের কৃত কর্মই আখেরাতে আমাদের ফলাফল নির্ধারণ করবে । তিনি সেইদিন যা ইচ্ছা তাই করবেন এবং আমরা তার বিচারের ফলাফল মানতে বাধ্য । আল্লাহ আমাদের রক্ষা করুন । আল্লাহ বলেন ,
“বিচারের সময় প্রত্যেকের রেকর্ড উপস্থিত করা হবে। তখন তুমি দেখবে,অপরাধীরা রেকর্ডের মধ্যে যা আছে, তাকে দেখে ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়বে। তারা বলবে,
হায় আমাদের ধ্বংস অনিবার্য। কিভবে এ নিখূঁত রেকর্ড করা হলো !আমাদের ক্ষুদ্র কি বৃহৎ একটি কাজও তো এখানে রেকর্ড হওয়া ছাড়া বাকি থাকেনি। হ্যাঁ,
তারা যা যা করেছে সবই সামনে দেখতে পাবে । তোমার প্রভু কারো সাথে বিন্দুমাত্র অবিচার করবেন না"।
(সুরা আল কাহাফ(১৮) : ৪৯)
"
"
"
ইসলাম ' শৃঙ্খল ' নয় , ' শৃঙ্খলা ' এবং একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা । যে এই জীবন ব্যবস্থা তার পরিচালিত জীবনে প্রবেশ করাতে পেরেছে , একমাত্র সেই জানে এই জীবন ব্যবস্থায় কতো 'অনাবিল শান্তি' লুকায়িত । আর যে এই পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থাকে অগ্রাহ্য করে তার জীবনে শইতানের থিউরি এপ্লায় করল , একমাত্র সেই জানে তার জীবনে প্রতি পরতে পরতে কতো 'অশান্তি' লুকায়িত। আমাদের উচিত , নিজেদের ভুলগুলো অনুধাবন করে খালেস দিলে তওবা করে আল্লাহ্‌র দিকে প্রত্যাবর্তন করে ক্ষমাপ্রাপ্তদের সাথে অন্তর্ভুক্ত হয়ে সিরাতোয়াল মুসলিম অর্জন করা,ইনশাআল্লাহ ।
রাসুল(সঃ) বলেন ,
‘প্রতিটি মানুষই ভুলকারী আর ভুলকারীদের মধ্যে তারাই উত্তম যারা তাওবাকারী।’[তিরমিযী : ২৪২৩]
আল্লাহ বলেন ,
"তারা আল্লাহর কাছে তওবা করে না কেন এবং ক্ষমা প্রার্থনা করে না কেন? আল্লাহ যে ক্ষমাশীল, দয়ালু" {সূরা মায়েদাহ : ৭৪}
উস্তাদ সাইয়্যিদ কুতুব বলেন ,
"মৃত্যুর পরে সব মানুষই আল্লাহর কাছে চলে যায়, কিন্তু সবথেকে সুখী মানুষ সেই যে জীবিত অবস্থায়ই আল্লাহর কাছে যেতে পেরেছে" ।

আল্লাহ আমাকে , আমাদের সবাইকে ক্ষমাপ্রাপ্তদের সাথে অন্তর্ভুক্ত করে সিরাতোয়াল মুস্তাকিম দান করুন এবং আমাদের জীবনকে সুন্দর ও সহজতর করুন । আমীন

আলহামদুলিল্লাহ(সকল প্রশংসা একমাত্র আল্লাহ্‌র জন্য), আল্লাহুয়াকবার(আল্লাহ শ্রেষ্ঠ) ।

<=====================>

আপনি একটা বিশাল বাড়ি বানাবেন । এর জন্য আপনি শহরের যত বড় বড় ইঞ্জিনিয়ার আছে তাদের ডাকলেন । তাদের মধ্য থেকে বাছাই করে একজন ভালো ইঞ্জিনিয়ার দিয়ে আপনার বাড়ি
বানানোর কাজ চালিয়ে যেতে লাগলেন । বাড়ির মূল যে ভিত্তিপ্রস্থর সেটা করার কিছু দিন পরেই আপনার পছন্দের ১ নাম্বার ইঞ্জিনিয়ার মারা গেলো । এবার আপনি নতুন আরেক ইঞ্জিনিয়ার আনলেন । সে পূর্বের ইঞ্জিনিয়ারের নকশা অনুযায়ী বাড়ির কাজ করতে অপরাগতা প্রকাশ করলো । কারন হিসেবে সে বললো এই বাড়ির মূল ভিত্তি ঠিক নেই , আপনাকে নতুন করে ভেঙ্গে বাড়ি করতে হবে । আপনিও তাই করলেন । একই ভাবে এই ইঞ্জিনিয়ারও নতুন মূল ভিত্তি বানাতে বানাতে মারা গেলো । আপনি আবারও বিপদে পড়লেন । আনলেন নতুন ইঞ্জিনিয়ার । তার মুখেও একই সূর । এই বাড়ির মূল বিত্তিই সঠিক না । নতুন করে করতে হবে । বলেন এবার আপনি কি করবেন ? আবারও নতুন ইঞ্জিনিয়ার আনবেন ? আবারও বাড়ি ভাঙ্গবেন ? যদি এই ইঞ্জিনিয়ার মারা যায় ? যদি নতুন ইঞ্জিনিয়ার আবারও একই কথা বলে ... তখন ?

-- তারা বলে ... আগে প্লাটফর্ম তৈরি করুন । এরপরে জ্বিহাদ করেন না হয় বোমা মারেন সেটা পরে কাম । বলি -- প্লাটফর্ম আবার নতুন করে কি বানাবো ? যেদিন আল্লাহ সুবাহানাল্লাহ "সূরা আল-মায়েদাহর ৩ নাম্বার আয়াতে" ঘোষণা দিছেন - " আজ আমি তোমাদের জন্যে তোমাদের দ্বীনকে পূর্নাঙ্গ করে দিলাম, তোমাদের প্রতি আমার অবদান সম্পূর্ণ করে দিলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জন্যে দ্বীন হিসেবে পছন্দ করলাম " - সেদিনতো প্লাটফর্ম তৈরি শেষ হয়ে গেছে । আল্লাহ স্বীকৃত প্লাটফর্ম এটা । এটাও আপনাদের পছন্দ হচ্ছে না ? নতুন করে আবার কি তৈরি করবো ?

দীর্ঘ ২৩ বছর ধরে , অসহ্য অত্যাচার সয়ে , ঘর বাড়ি এমনকি নিজ জন্মভুমি থেকে বিতাড়িত হয়ে , ২৭ টি যুদ্ধ করে , নিজের দন্ত মোবারক শহীদ করে যেই প্লাটফর্ম তৈরি করে গেছে সেটা কি আপনার ভালো লাগছে না ? আপনার এর চেয়েও ভালো প্লাটফর্ম লাগবে ?

কেন ভাই ? নতুন প্লাটফর্ম দিয়ে কি করবেন ? আপনার কাছে কি নতুন কোন কিতাব নাজিল হইতেছে ? (নাউজুবিল্লাহ) - যদি নতুন কিছু নাই আসে তবে কেন পুরানো প্লাটফর্ম যা আল্লাহ সুবাহানাল্লাহ থেকে স্বীকৃত সেই প্লাটফর্ম নিয়ে কাজ করছেন না ? নতুন প্লাটফর্ম যে ঐ বাড়ি বানানোর ইঞ্জিনিয়ারদের মত হবে না সেটা কি সিউর আপনি ? আজ আপনি এক প্লাটফর্ম বানাবেন , কাল আরেকজন এসে বলবে এই প্লাটফর্ম সঠিক না নতুন করে প্লাটফর্ম তৈরি করতে হবে । এমন করে জিন্দেগী ভর শুধু প্লাটফর্ম বানিয়েই যাবো ।

আপনাদের অর্থনীতি কি হবে , কেমন হবে , এমন প্রশ্নও অনেকে করে । তাদের অনুরোধ করবো হযরত ওমর (রাঃ) এর জীবনী পড়েন । একটা রাষ্ট্রের অর্থনীতি কেমন হবে আর কে তার রক্ষক হবে , কিভাবে সেটা জনগনের মাঝে বন্টন হবে সেগুলো জানতে পারবেন । ইসলাম পরিপূর্ণ জীবন ব্যবস্থা । কারো কোন সন্দেহ থাকলে নিজের ঈমান সার্ফএক্সেল দিয়ে ধুয়ে নেন । আপনার ঈমান কমের কারন ইসলাম না , আপনি নিজেই ।

আমরা লড়াই করবো ইনশাআল্লাহ - " মরলে শহীদ , আর বাচলে গাজী "








ইসলামের দৃষ্টিতে #ডেটিং হারাম নাকি হালাল !!!!!

আপনি কি একজন #মুসলমান এবং আপনার কি একটি #বান্ধবী আছে? উল্লিখিত অজুহাতের মধ্যে আপনার #অজুহাত কোনটি?

অজুহাত ১:আমি কিভাবে এমন একজন পাব যে আমার ধর্ম অনুযায়ী আমার জন্য উপযুক্ত? এমন কাউকে পাওয়া যাবে না। আমি যদি এখন একা থাকি তাহলে হয়ত আমার সারাজীবনই একা থাকতে হবে.....

আল্লাহ্ সুবানাহুতালা বলেনঃচরিত্রহীনা নারী চরিত্রহীন পুরুষের জন্য, আর চরিত্রহীন পুরুষ চরিত্রহীনা নারীর জন্য, চরিত্রবান নারী চরিত্রবান পুরুষের জন্য, আর চরিত্রবান পুরুষ চরিত্রবান নারীর জন্য। লোকেরা যা বলে তা থেকে তারা পবিত্র। তাদের জন্য আছে ক্ষমা ও সম্মানজনক জীবিকা। (সুরাহ নুর ২৬)

অজুহাত ২:এটা তো এমন না যে আমি জিনা(অবৈধ যৌন সঙ্গম) করছি। আমি আমার লিমিট জানি। আমি বেশি কিছুই করছি না। আমি যদি মন থেকে পরিস্কার থাকি তাহলেই তো চলে।

আল্লাহ্ সুবানাহুতালা আরও বলেনঃহে ঈমানদারগণ! তোমরা শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করোনা। কেউ শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করলে সে তাকে নির্লজ্জতা ও অপকর্মের আদেশ দেবে, তোমাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ ও দয়া না থাকলে তোমাদের একজনও কখনো পবিত্রতা লাভ করতে পারতো না। অবশ্য যাকে ইচ্ছা আল্লাহ্ পবিত্র করে থাকেন, আল্লাহ্ সব কিছু শোনেন, সর্ব বিষয়ে অবগত।( সুরাহ নুর ২১)

অজুহাত ৩:আমি তাকে ভালোবাসি। আমি জানি সে একজনই। তার মত আর কেউ হবে না।

আল্লাহ্ বলেন: কিন্তু তোমরা কিছু অপছন্দ কর সম্ভবত তোমাদের জন্য তা কল্যাণকর এবং সম্ভবত তোমরা কিছু পছন্দ কর অথচ তা তোমাদের জন্য অকল্যাণকর। বস্তুত তোমরা জাননা, আল্লাহ্ই জানেন।( সুরাহ বাকারাহ ২১৬)

অজুহাত ৪:আমি জানি তুমি ঠিক বলছ। কিন্তু এটা খুব কষ্টের কাজ। এই অবাধ মেলামেশার মধ্যে এটা সত্যিই খুব কঠিন কাজ। আমি আল্লাহর কাছে সাহায্য চেয়েছিলাম, কিন্তু আল্লাহ্ আমার দুয়ায় সাড়া দেননি। আগের সময়ে বিয়ে খুব সোজা ছিল। খুব কম বয়সেই তারা বিয়ে করতে পারত। কিন্তু এখন তো আর তেমন নাই। আমার মন পরিষ্কার। যেকোনভাবে হোক আমিতো জান্নাতে যাবোই।

আল্লাহ্ বলেন:তোমাদের কি এই ধারণা যে, তোমরা জান্নাতে চলে যাবে, অথচ সে লোকদের অবস্থা অতিক্রম করনি যারা তোমাদের পূর্বে অতীত হয়েছে। তাদের উপর এসেছে বিপদ ও কষ্ট। আর এমনি ভাবে শিহরিত হতে হয়েছে যাতে নবী ও তাঁর প্রতি যারা ঈমান এনেছিল তাদেরকে পর্যন্ত একথা বলতে হয়েছে যে, কখন আসবে আল্লাহর সাহায্য! তোমরা শুনে নাও, আল্লাহর সাহায্য একান্তই নিকটবর্তী।(সুরাহ বাকারাহ ২১৪)

অজুহাত ৫:
আমি এমন ঝুকি নিতে পারব না। তার মত একজন পাওয়া আমার সারাজীবনের ভাগ্য। কেমন হবে সেটা যদি আমি তাকে এখন ছেড়ে দেই এবং যখন আমার বিয়ে করার সামর্থ্য হবে তখন সে না থাকে বা আমার জন্য যে আসবে সে যদি তাঁর মত না হয়? আমার মনে হয়না যে আমি তাঁর মত আর কাউকে পাব।

আল্লাহ্ বলেন:শয়তান তোমাদেরকে অভাব অনটনের ভীতি প্রদর্শন করে এবং অশ্লীলতার আদেশ দেয়। পক্ষান্তরে আল্লাহ তোমাদেরকে নিজের পক্ষ থেকে ক্ষমা ও বেশী অনুগ্রহের ওয়াদা করেন। আল্লাহ প্রাচুর্যময়, সুবিজ্ঞ।(সুরাহ বাকারাহ ২৬৮)

অজুহাত ৬:
কিন্তু যখন আমি তার সাথে থাকি তখন আমি অনেক ভালো থাকি। তাকে ছাড়া আমি অসম্পূর্ণ। যখন আমি তার সাথে থাকি, তখন এক দিন যেন এক ঘণ্টা মনে হয়। এক ঘণ্টা যেন এক সেকেন্ড মনে হয়। সময় যেন চোখের পলকেই চলে যায়।

আল্লাহ্ বলেন:
অতএব, তোমাদেরকে যা দেয়া হয়েছে তা পার্থিব জীবনের ভোগ মাত্র। আর আল্লাহর কাছে যা রয়েছে, তা উৎকৃষ্ট ও স্থায়ী তাদের জন্যে যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও তাদের পালনকর্তার উপর ভরসা করে।(সুরাহ শুরাহ ৪২: ৩৬)

অজুহাত ৭:

আমি তাকে ভোলার অনেক চেষ্টা করেছি কিন্তু আমার সত্যিই এতো শক্তি নাই যে আমি তাকে ভুলে থাকতে পারব। আমি যদি তাকে ছেড়ে দিই, তাহলে আমি সত্যিই মরে যাবো। আমি এখান থেকে বের হতে পারব না।

আল্লাহ্ বলেন:

... আর যে আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্যে নিস্কৃতির পথ করে দেবেন। (সুরাহ তালাক ৬৫: ২)

অজুহাত ৮:

আমি এখনি বিয়ে করতে প্রস্তুত নই। আমার তেমন বয়স হয়নি; আমি কোন চাকুরি করি না। আমার ওসব করতে এখন অনেক সময় বাকি। আমি যদি এখনই তাঁর সাথে সম্পর্ক শেষ করে দিই তবে আমি অতদিন পর্যন্ত একা থাকতে পারবনা। ভাই আল্লাহর কাছে দুয়া করেন তিনি যেন আমাকে ধৈর্য দান করেন এবং তাড়াতাড়ি আমার বিয়ের ব্যাবস্থা করেন।

আল্লাহ্ বলেন:

ধৈর্য্যর সাথে সাহায্য প্রার্থনা কর নামাযের মাধ্যমে। অবশ্য তা যথেষ্ট কঠিন। কিন্তু সে সমস্ত বিনয়ী লোকদের পক্ষেই তা সম্ভব। (সুরাহ বাকারাহ ২: ৪৫)

অজুহাত ৯:

কেন আল্লাহ্ আমার কাছ থেকে আমার ভালবাসার জিনিস নিয়ে যেতে চান?

রসুল (স) বলেন:

নিশ্চয়ই, আল্লাহ্ যা ইচ্ছা নিয়ে যান, এবং তিনি যাই দান করেন সবই তাঁর, এবং সবকিছুর ব্যাপারে তিনি সময় নির্ধারণ করেছেন... তাই ধৈর্য্য ধারণ কর, তোমরা পুরস্কৃত হবে[ আল বুখারী]

অজুহাত ১০:

কেন ভাই তুমি আমাকে এসব বলছো? তোমার কি আর কোন কাজ নাই? দেখ আমি সব কিছু মানতে রাজি আছি কিন্তু তাকে আমি ছাড়তে পারব না। এই একটা জিনিসই আমি ভালোবাসি আর তুমি আমাকে এটাও ছাড়তে বলছ? আমার জন্য এটা সম্ভব না।

আল্লাহ্ বলেন:

আপনি কি তাকে দেখেন না, যে তারা প্রবৃত্তিকে উপাস্যরূপে গ্রহণ করে? তবুও কি আপনি তার যিম্মাদার হবেন? (সুরাহ ফুরকান ২৫: ৪৩)




"ইসলাম, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা, সাম্প্রদায়িকতা, মৌলবাদ ও জংঙ্গিবাদ সমাচার" আল্হামদুলিল্লাহি রাব্বুল আ’লামিন, বিস্মিল্লাহির রাহ্মানির রাহিম। ইসলামের কথা বললেই অনেকে তেলে বেগুনে জ্বলে উঠেন। ইসলামকে মৌলবাদ, জঙ্গিবাদ, সাম্প্রদায়িক বলে আখ্যায়িত করেন। ইসলামের অনুসরণকে বলেন পশ্চাদগামীতা, জাহিলিয়াতের যুগে ফিরে যাওয়া। ইসলামের অনুশাসনকে বলে থাকেন Backdated, Uncultured। ইসলামী দন্ডবিধীকে বলে থাকেন বর্বরতা। পক্ষান্তরে গণতন্ত্র ও সমাজতন্ত্রের ব্যাপারে এ প্রশ্নগুলি আসে না। আর ধর্মনিরপেক্ষতা হচ্ছে যার যার ধর্ম সে তার ইচ্ছা অনুযায়ী ব্যাক্তি জীবনে অনুসরণ করবেন, ধর্মকে কখনো রাজনীতির মধ্যে টেনে আনবেন না। এদের মতে রাজনীতির সাথে ধর্মের কোন সম্পর্ক নেই। যিনি যে যে তন্ত্রে বা মতবাদে বিশ্বাসী অর্থাৎ গনতন্ত্র ও সমাজতন্ত্র বা অন্য কোন তন্ত্র বা মতবাদ, সে দর্শনকেই সে মনে করে এটিই একমাত্র যুক্তিনির্ভর, সঠিক ও কার্যকর পদ্ধতি। তাই তো আমরা দেখতে পাই, যে কেউ নিজ নিজ ধর্ম পালন করেও গণতন্ত্রী, সমাজতন্ত্রী বা অন্য কোন তন্ত্রী হতে পারেন। গনতন্ত্র ও সমাজতন্ত্র বা অন্য কোন তন্ত্র, মতবাদ বা ইজমে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খৃষ্টান সবাই শামিল থাকতে পারেন। কিন্তু ইসলামের বেলায় ব্যাপারটি সম্পূর্ণ আলাদা। শুধুমাত্র এবং একমাত্র মুসলমানদের দ্বারাই ইসলামী সংগঠন পরিচালিত হয়ে থাকে। এখানে ভিন্ন ধর্মালম্বীদের সরাসরি যুক্ত থাকার কোন সুযোগ নেই। আর মূলতঃ এই কারণেই ভিন্ন ধর্মালম্বীরা তো বটেই নামকাওয়াস্তে মুসলমানেরাও ইসলামের বিরুদ্ধে বিষেদাগার করে থাকে এবং ইসলামের বিরুদ্ধে জেনে না জেনে প্রপাগান্ডা চালায়। কোন হিন্দু সংগঠন কি অন্য ধর্মের লোকদেরকে তাদের সংগঠনে প্রবেশাধিকার দেয়? অনুরূপভাবে খৃষ্টান বা অন্যান্য ধর্মীয় সংগঠনে কি ভিন্ন ধর্মের লোকদের প্রবেশাধিকার আছে? আমাদের দেশে একটি সংগঠন আছে যার নাম ‘হিন্দু খৃষ্টান বৌদ্ধ ঐক্য পরিষদ’। লক্ষ্য করুণ এখানে মুসলামানদের কোন সংশ্লিষ্টতা রাখা হয়নি। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠতার দেশে মুসলমানদের সাথে তারা ঐক্য করতে আগ্রহী নয়। অন্ততঃ সংগঠনটির নামকরণে সেটাই প্রতীয়মান হয়। গনতন্ত্র ও সমাজতন্ত্র কি জিনিষ? এর এক কথায় উত্তর গনতন্ত্র ও সমাজতন্ত্র মানুষের তৈরী মতবাদ, তন্ত্র বা আদর্শ। যার উপর ভিত্তি করে মানুষ তার দুনিয়াবী জীবন পরিচালনা করে থাকে। অর্থাৎ একটি রাষ্ট্রীয় কাঠামো কোন কোন নীতির ভিত্তিতে পরিচালিত হবে, তার সমাজনীতি, অর্থনীতি, পররাষ্ট্রনীতি কি হবে তার যতটা সম্ভব বিস্তারিত বর্ণনা এতে থাকে। ইসলামে কি তাহলে সমাজনীতি, অর্থনীতি, পররাষ্ট্রনীতি নাই যার কারণে ইসলাম ধর্মের অনুসারী হয়েও তাদেরকে ভিন্ন মতবাদের দারস্থ হতে হয়? এর উত্তরে বলা যায়, হয় ইসলাম সম্পর্কে অজ্ঞতা অথবা ইসলামী মতবাদ অপছন্দ হওয়া এর কারণ। আমার মতে ইসলামী মতবাদ অপছন্দ হওয়াই এর মূল কারণ। ইসলামী মতবাদ অপছন্দ হওয়ার কারণও আছে, ইসলাম কাউকে তার ইচ্ছা অনুযায়ী চলতে দেয় না। অর্থাৎ ইসলামী আইন কানুন রীতিনীতি কমবেশি করার বা বাদ দেয়ার অধিকার ইসলাম কাউকে দেয় না, যে কারণে স্বার্থান্বেষী মানুষের কাছে ইসলাম প্রিয় নয়। গনতন্ত্র বা সমাজতন্ত্র কিংবা অনান্য মতাদর্শ মানুষের চিন্তা প্রসূত সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালন পদ্ধতি। যারা গনতন্ত্র, সমাজতন্ত্র বা অনান্য মতাদর্শকে সঠিক বলে মনে করেন তাদের এই মনে করার ভিত্তি হচ্ছে, যে যে মতাদর্শে বিশ্বাসী সে সে মতাদর্শ সম্পর্কে পড়াশুনা বা জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে তাদের নিজেদের মধ্যে এমন আত্মোপলবদ্ধির সৃষ্টি হয় যে কারণে সে মনে করে তার পছন্দের মতাদর্শটিই সম্পূর্ণ সঠিক। ইসলামের বিষয়টিও তাই। যারা ইসলাম সম্পর্কে পড়াশুনা বা জ্ঞান অর্জন করেছেন তাদের মধ্যেও এমনি প্রকার আত্মোপলব্ধি ও আত্মবিশ্বাসের সৃষ্টি হয় যে, ইসলামকেই তারা সঠিক এবং ত্রুটি মুক্ত বলে মনে করেন। একটি দিক দিয়ে ইসলাম অপরাপর মতবাদের চাইতে সম্পূর্ণ আলাদা বৈশিষ্ট মন্ডিত আর তা হচ্ছে ইসলাম মানুষের মস্তিষ্ক প্রসূত কোন মতবাদ নয়। মানুষকে যিনি সৃষ্টি করেছেন সেই মহান স্রষ্টার কাছ থেকে আগত অর্থাৎ ঐশী বাণী। একমাত্র নাস্তিক ছাড়া প্রতিটি ধর্মের মানুষই মনে করেন তাদের একজন স্রষ্টা বা ঈশ্বর রয়েছেন। বিভিন্ন ধর্মে স্রষ্টার নামের ভিন্নতা রয়েছে বটে কিন্তু সবাই সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাসী। যে যার ধর্মীয় পদ্ধতি ও রীতিনীতি অনুযায়ী তাদের সৃষ্টিকর্তার উপাসনা বা ইবাদত করে থাকেন। এ পৃথিবীতে আজ পর্যন্ত যত মতবাদের সৃষ্টি হয়েছে তার প্রত্যেকটির প্রথম দাবী ছিল সেই মতবাদটিকে বিশ্বাস করা ও মনে প্রাণে গ্রহন করা । দ্বিতীয় দাবী ছিল তাকে প্রতিষ্ঠিত করা। কারণ কোন মতবাদ তা যত ভালই হউক না কেন তাকে যদি প্রতিষ্ঠিত করা না যায় তাহলে তার থেকে কোন সুফল মানুষ আশা করতে পারে না। উদাহরণ স্বরূপ আমরা যদি গনতন্ত্রের কথাই ধরি, এই গনতন্ত্রের যে সুফলের কথা বলা হয়, সে সূফল পেতে হলে সমাজে গনতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা করা ছাড়া অন্য কোন উপায় আছে কি? সমাজতন্ত্র মতাদর্শে বিশ্বাসীরা তারা তাদের মতবাদের সুফল পেতে সমাজে রাষ্ট্রে সমাজতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। গনতন্ত্রে বিশ্বাসীরাও তাদের মতবাদের সুফল পেতে গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করার জন্য প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এমনি করে প্রত্যেকটি মতবাদে বিশ্বাসীরা যে যার মত করে তাদের মতবাদের পক্ষে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। যে দেশ বা রাষ্ট্রে গনতন্ত্র মতাদর্শে বিশ্বাসীরা গনতন্ত্রের আলোকে রাষ্ট্র পরিচালনা করছেন সে দেশে সমাজতন্ত্র বা অন্য কোন মতাদর্শে বিশ্বাসীরা তাদের মতাদর্শকে প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন। অনুরুপভাবে যে দেশে কোন স্বৈরশাসক তার নিজস্ব মতাদর্শ বা খেয়াল-খুশি অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনা করছেন, সেখানে গনতন্ত্রপন্থী, সমাজতন্ত্রপন্থী এবং অন্যান্যরা তাদের নিজ নিজ মতাদর্শ অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা পাওয়ার সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে। ইসলামপন্থীরাও তাদের মতাদর্শ অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনা করার জন্য রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা পেতে চাইবেন সেটাই কি স্বাভাবিক নয়? কিন্তু না, ইসলামপন্থীরা যদি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা পেতে চান, তাহলে তাদেরকে গনতন্ত্রপন্থী, সমাজতন্ত্রপন্থী এবং অনান্য মতাদর্শের পন্থীরা তীর্যক ভাষায় আক্রমন করেন। যেন ইসলামপন্থীদের ইসলামীক পদ্ধতি অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় পরিচালনা করার এমনকি দাবী পেশ করারও কোন অধিকার থাকতে পারে না। এর কারণ কি? অন্যান্য মতাদর্শের লোকেরা কিন্তু পরস্পরের মধ্যে এতটা শত্রুতা পোষণ করে না যতটা ইসলামপন্থীদের বেলায় করে থাকে। এরই বা কারণ কি? ইসলামপন্থীদেরকে বলা হয় মৌলবাদী, জঙ্গি, পশ্চাদমুখী ইত্যাদি। কিভাবে তাদেরকে বিতর্কিত করা যায় সে প্রচেষ্টা এদের মধ্যে দিবানিশি চলতে থাকে। এ পর্যায়ে কিছু শব্দ ও তার অর্থ এবং এর প্রয়োগস্থল নিয়ে আলোচনার প্রয়াস চালাব, যে শব্দগুলি আমরা সাধারনতঃ ইসলামপন্থীদের বিরুদ্ধেই ব্যবহার হতে দেখি। ১) মৌলবাদ বা Fundamentalism : ইসলামপন্থীদের বিরুদ্ধে যে শব্দটি সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়ে থাকে তার নাম ‘মৌলবাদ’। ইসলামপন্থীদেরকে মৌলবাদী বলা হয় কেন? এ কারণে যে ইসলামপন্থীরা তাদের মূল আকিদা বা বিশ্বাস থেকে কখনো সরে আসেন না, তাই তাদেরকে বলা হয় মৌলবাদী। গনতন্ত্রপন্থী, সমাজতন্ত্রপন্থী এবং অন্যান্য পন্থীরা তারা তাদের মূল বিশ্বাস বা মতাদর্শ থেকে সরে আসেন কি? নিশ্চয়ই নয়। তাহলে তারা মৌলবাদী হন না কেন, শুধু ইসলামপন্থীরাই কেন মৌলবাদী উপাধী পায়? প্রত্যেকেই যার যার মতাদর্শের উপর মৌলবাদী। কেউ গনতন্ত্রীয় মৌলবাদী, কেউ সমাজতন্ত্রীয় মৌলবাদী, কেউ ধর্মনিরপেক্ষীয় মৌলবাদী, কেউ ইসলামী মৌলবাদী। শুধু ইসলামকে মৌলবাদ হিসাবে চিহ্নিত করা মূলতঃ শয়তানের অপকৌশলেরই অংশ। ইসলাম ব্যতীত সমস্ত মতবাদই শয়তানীয় মতবাদ। তাই তো দেখা যায় গনতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, ধরর্মনিরপেক্ষতা ও অনান্য মতাদর্শ নির্বিশেষে সবাই ইসলামের বিরোধীতা করে। তাদের নিজেদের মধ্যে সখ্যতা তৈরী হলেও ইসলামপন্থীদের সাথে তাদের কোন সখ্যতা হতে দেখা যায় না। গনতন্ত্রপন্থীদের সাথে মাঝে মধ্যে ইসলামপন্থীদের কোন সখ্যতা হলেও অনান্য পন্থীদের সাথে কখনোই তা হতে দেখা যায় না। আবার গনতন্ত্রপন্থীরা ইসলামপন্থীদের সাথে যে সখ্যতা গড়ে তুলে তা তাদের স্বার্থ উদ্ধারের জন্যই করে থাকে। সুতরাং ইসলামপন্থীরাই শুধু মৌলবাদী নয় অন্যান্য পন্থীরাও তাদের স্ব স্ব ক্ষেত্রে মৌলবাদী, অর্থাৎ সবাই-ই মৌলবাদী। ২) জঙ্গিবাদঃ ইসলামপন্থীদের বিশ্বাসকে জঙ্গিবাদ বলেও অভিহিত করা হয়। যদিও জঙ্গিবাদ বলে কোন মতবাদ আছে বলে আমার জানা নেই। জঙ্গি শব্দের অর্থ আমরা কমবেশি সবাই জানি। ইংরেজি Militant শব্দের বাংলা অর্থ করা হয়েছে জঙ্গি। অক্সফোর্ড ডিকশনারীতে Militant শব্দের যে অর্থ প্রকাশ করা হয়েছে তা এই, ‘using or willing to use, force or strong pressure to achieve your aims, especially to achieve social or political change’. অধ্যাপক জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী কর্তৃক সম্পাদিত বাংলা একাডেমি কর্তৃক প্রকাশিত অভিধানে Militant শব্দের অর্থ করা হয়েছে, ‘যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত, শক্তি বা জোড়ালো চাপ-প্রয়োগে নিয়োজিত বা এর সমর্থক, যুদ্ধংদেহি, জঙ্গি’। জঙ্গি এবং জঙ্গিবাদ দুটি সম্পূর্ণ আলাদা জিনিষ। ইসলামপন্থীদের ‘জঙ্গীবাদ’ বলে অভিহিত করা সম্পূর্ণই হীন উদ্দেশ্য প্রণোদিত। যে মতবাদের কোন অস্তিত্ত্বই নেই সেই মতবাদকে কোন গোষ্ঠির প্রতি প্রয়োগ করা সম্পূর্ণই বেআইনি এবং অসৎ উদ্দেশ্য প্রণোদিত। উপরে অভিধানে জঙ্গি শব্দের যে অর্থ বলা হয়েছে তাতে দেখা যাচ্ছে, বিশেষভাবে সামাজিক এবং রাজনৈতিক পরিবর্তনের জন্য যে বল প্রয়োগ করা হয় তাকেই জঙ্গি তৎপরতা বলা হয়। এ ক্ষেত্রে যারাই সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের জন্য বল প্রয়োগ করবে তারাই জঙ্গি হিসাবে চিহ্নিত হবে। এখানে গনতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা বা ইসলামের মধ্যে কোন প্রকার পার্থক্য করা হয়নি। তাহলে শুধু ইসলামপন্থীদের গায়ে জঙ্গি তকমা এঁটে দেওয়ার উদ্দেশ্য যে হীন তা বলার অপেক্ষা রাখে কি? যারাই হরতাল, অবরোধ, ঘেরাও ইত্যাদি কর্মসূচীর নামে বল প্রয়োগের আশ্রয় নেয় তারাই জঙ্গি তৎপরতায় লিপ্ত থাকে। একদল হরতাল বা এ জাতীয় অন্যান্য কর্মসূচী সফল করার নামে যে বল প্রয়োগের ঘটনা ঘটায় তারা যেমন জঙ্গি, তেমনি হরতালকে রুখে দেওয়ার জন্য বা তা বানচাল করার জন্য যে বল প্রয়োগের ঘটনা ঘটানো হয় তাও জঙ্গি কর্মকান্ড। সুতরাং যাদের কর্মকান্ড জঙ্গি শব্দের অর্থের সাথে মিলে যাবে তারাই জঙ্গি হিসাবে চিহ্নিত হবেন। এখানে ইসলামপন্থীদের আলাদাভাবে জঙ্গি অভিহিত করার কোন সুযোগ নেই। ৩) ধর্মনিরপেক্ষতা বা Secularism: Oxford অভিধান অনুযায়ী secularism-এর সংজ্ঞা। ‘The belief that religion should not be involved in the organization of society, education, etc. ধর্মনিরপেক্ষতা বলে যে কথাটির প্রচলন আছে সেটি আমার কাছে হাস্যকর মনে হয়। একমাত্র নাস্তিক ছাড়া যে কোন মানুষ কোন না কোন ধর্মালম্বী, হউক সে ধর্মীয় রীতিনীতি অনুশীলনকারী(Practici
ng) অথবা অনুশীলনকারী নয়(Non practicing), অর্থাৎ কোন না কোন ধর্মের পক্ষে। তাহলে এই ধর্মনিরপেক্ষতার অর্থ কি? উপরের সংজ্ঞা অনুযায়ী এর একটি অর্থ হচ্ছে রাজনীতিতে ধর্মের সংশ্লিষ্টতা বা সম্পৃক্ততা না থাকা, বা হতে না দেওয়া। কেউ যদি গনতন্ত্রের প্রতি বা অপরাপর মতাদর্শের প্রতি বিশ্বাস ও আস্থা ভাজন হয়, তাহলে সে তার ধর্মীয় বিশ্বাস এবং এর রীতিনীতি একান্ত ব্যাক্তিগতভাবে পালন করবে কিন্তু গনতন্ত্রের মধ্যে বা অপরাপর মতাদর্শের মধ্যে ধর্মীয় বিশ্বাসকে প্রয়োগ করবে না বা এ নিয়ে কোন প্রকার বাড়াবাড়ি করবে না। যার ফলে দেখা যায় গনতন্ত্র, সমাজতন্ত্র বা অন্যান্য মতাদর্শে বিশ্বাসীদের মধ্যে মুসলমান, হিন্দু, খৃষ্টান, বৌদ্ধ অর্থাৎ সব ধর্মের লোকের সমাহার। ৪) সাম্প্রদায়িকতা বা Communalism. Oxford dictionary-তে সাম্প্রদায়িকতার দুটি সংজ্ঞা দেওয়া হয়ছে। সংজ্ঞা দুটি নিম্নরুপ। 1. The fact of living together and sharing possession and responsibilities. 2. A strong sense of belongings to a particular especially religions community which can lead to extreme behavior or violence towards others. ইসলামে সাম্প্রদায়িকতার কোন স্থান নেই। ইসলামে ভিন্ন ধর্মালম্বীদের অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। ইসলামে ভিন্ন ধর্মালম্বীদের উপর কোন প্রকার নিপীড়ন নির্যাতনের কোন প্রকার সুযোগ নেই। এমনকি তাদের প্রতি ন্যায় বিচার নিশ্চিত করার জন্য বলা হয়েছে। আল-কুরআন বলছে, ** হে মু’মিনগণ! আল্লাহ্র উদ্দেশ্যে ন্যায় সাক্ষ্যদানে তোমরা অবিচল থাকিবে; কোন সম্প্রদায়ের প্রতি বিদ্বেষ তোমাদিগকে যেন কখনও সুবিচার বর্জনে প্ররোচিত না করে, সুবিচার করিবে, ইহা তাকওয়ার নিকটতর এবং আল্লাহ্কে ভয় করিবে, তোমরা যাহা কর নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তাহার সম্যক খবর রাখেন। ___ সূরা মায়িদা ৫:৮। এখানে আল্লাহ্তাআ’লা শুধু মাত্র সুবিচার করতেই নির্দেশ দেননি, এমনকি সুবিচার করতে ব্যর্থ হলে শাস্তি পেতে হবে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন। ইসলাম ছাড়া অন্য কোন ধর্মে ভিন্ন ধর্মালম্বীদের এতটা সুরক্ষা দিয়েছে বলে আমার জানা নেই। সাম্প্রদায়ীকতার প্রশ্নটি তুলে কিছু জ্ঞানপাপী তথাকথিত বুদ্ধিজীবির দল। আর রাজনীতিবিদেরা সাম্প্রদায়ীকতার ধুয়া তুলে তাদের হীন রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করে। ইসলাম ও অন্যান্য মতাদর্শের মধ্যে যে মৌলিক পার্থক্য তা হচ্ছে, ইসলাম ঈশ্বর বা সৃষ্টিকর্তা বা আল্লাহ্ কর্তৃক প্রদত্ত জীবন ব্যবস্থা। মানুষ তার জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে কিভাবে তাদের কর্ম সম্পাদন করবে বা কার্যক্রম পরিচালনা করবে তারই গাইড লাইন দেয়া আছে আল্লাহ্ প্রদত্ত বিধানে। ইসলামকে বলা হয় পরিপূর্ণ জীবন ব্যবস্থা অর্থাৎ জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে চাই তা সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাষ্ট্রীয়, পররাষ্ট্র হোক তার বিধান ইসলামে রয়েছে। আর এই জন্যেই ইসলামকে পরিপূর্ণ জীবন ব্যবস্থা বলা হয়ে থাকে। ইসলামের এই বিধিবিধান অপরিবর্তনীয়। ইচ্ছা করলেই কেউ এই বিধানে পরিবর্তন আনতে পারে না। ইসলামে সর্বময় ক্ষমতার মালিক এবং উৎস হচ্ছেন আল্লাহ্ অর্থাৎ সৃষ্টিকর্তা। ইসলামপন্থীরা তাদের সব কাজের জন্য আল্লাহ্তাআ’লার কাছে জবাবদিহিতায় বিশ্বাস করেন। পক্ষান্তরে গনতন্ত্র, সমাজতন্ত্র এবং অপরাপর মতবাদে সর্বময় ক্ষমতার মালিক এবং উৎস হচ্ছে জনগন এবং জনগনের কাছেই তাদের কাজের জন্য দায়বদ্ধ থাকা উচিত বলে তারা মনে করেন। ব্যক্তিগত কর্মকান্ডের বিষয়ে কেউ কেউ আবার নিজেদের বিবেকের কাছে দায়ী থাকেন বলে মনে করেন। ইসলামের মৌলিক বিশ্বাসগুলির অন্যতম পরকালে বিশ্বাস। অর্থাৎ মৃত্যুর পর মানুষকে আবার পুনরায় জীবিত করা হবে এবং প্রতিটি মানুষকে পৃথিবীতে জীবিত অবস্থায় বসবাস করা কালীন তার সমস্ত কাজের হিসাব দিতে হবে, এ বিশ্বাস ইসলামের প্রতিটি অনুসারীদের মধ্যে রয়েছে। ভাল কাজের পুরষ্কার স্বরূপ বেহেশত বা জান্নাত লাভ এবং মন্দ কাজের পরিণতি হিসাবে শাস্তি স্বরূপ দোজখ বা জাহান্নাম লাভ। প্রতিটি ধর্মের মধ্যেই দুনিয়ার কর্মের পরিণতি হিসাবে বেহশত-দোজখ, জান্নাত-জাহান্নাম বা স্বর্গ-নরকের কথা বলা আছে। ইসলামের এই বিশ্বাসটি নতুন কোন বিষয় নয়। এ ব্যাপারগুলি যেহেতু আমরা সবাই কম-বেশি জানি তাই বিস্তারিত আলোচনা পরিহার করা হলো। যেমনটা আগে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিটি মতবাদের প্রথম দাবী হলো তাকে বিশ্বাস করা। দ্বিতীয় দাবীটি হলো এই বিশ্বাসের আলোকে কর্ম সম্পাদন করা। অর্থাৎ সমাজে রাষ্ট্রে সে মতবাদকে প্রতিষ্ঠা করা। যেমন রাশিয়ার মার্কসবাদ লেনিনবাদ। এ মতবাদের প্রথম দাবীটি ছিল এ মতবাদকে মেনে নেয়া বা গ্রহন করা। কিছু লোক এ মতবাদটিকে মেনে নিল বা গ্রহন করলো। এর পরে ছিল এ মতবাদকে কায়েম করা। প্রশ্ন উঠলো ‘কি ভাবে কায়েম করতে হবে?’ উত্তরে বলা হলো সংগ্রাম করো, মাল দাও জান দাও এবং বর্তমান রাষ্ট্র ব্যবস্থা ভেঙ্গে চুরমার করে দাও। মার্কসবাদ লেনিনবাদের অনুসারীরা তাই-ই করল। এক কোটির উপর লোক জীবন দিল, বহু ধন-দৌলত বিসর্জন দেয়ার পর সেখানে কায়েম হলো তাদের সেই কাঙ্খিত মতবাদ। চীনের দিকে তাকালে দেখা যায় সেখানেও এক মতবাদের উদ্ভব ঘটে যার নাম ‘মাওবাদ’। এই মাওবাদ প্রতিষ্ঠা করার জন্য রাশিয়ার মতই মাওবাদের অনুসারীদের জান, মাল দিয়ে এবং সংগ্রাম করে তা কায়েম করতে হলো। আমরা যদি আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের দিকে তাকাই সেখানেও দেখতে পাই শেখ মুজিবর রহমানের ছয় দফার ভিত্তিতে বাংলাদেশের মুক্তিকামী জনগন জান ও মাল দিয়ে সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে দেশকে পরাধীনতা মুক্ত করে। যার মধ্য দিয়ে ছয় দফা বাস্তবায়নের পথ সুগম হয়। এখানেও শেখ মুজিবর রহমান কর্তৃক ছয় দফাকে বাস্তব সম্মত মনে করেই বাঙ্গালীরা তার পিছনে ঐক্যবদ্ধ হয়। এখন এই ছয় দফা প্রতিষ্ঠা করার পালা। শেখ মুজিবর রহমান আর জাতিকে আহ্বান জানিয়ে বললেন, ‘তোমাদের যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করতে হবে। রক্ত যখন একবার দিয়েছি তখন রক্ত আরো দিব তবুও এই দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়বো ইন্ শা আল্লাহ্’। শেখ মুজিবর রহমানের ডাকে তার অনুসারীরা তাই করেছিলেন। ইসলামকে কায়েম করার জন্য আল্লাহ্তাআ’লা কি নির্দেশ দিলেন? আল্লাহ্তাআ’লা বললেন, “তিনিই তাঁহার রাসূলকে প্রেরণ করিয়াছেন হিদায়ত ও সত্য দীনসহ সকল দীনের উপর উহাকে বিজয়ী করার জন্য, যদিও মুশরিকরা তা অপছন্দ করে। হে ঈমানদারগণ! আমি কি তোমাদেরকে এমন এক বাণিজ্যের কথা বলে দিব, যা তোমাদেরকে যন্ত্রনাদায়ক শাস্তি থেকে রেহাই দিবে? তা এই যে, তোমরা ঈমান আন আল্লাহ্র প্রতি ও তাঁর রাসূলের প্রতি এবং জিহাদ করবে আল্লাহ্র পথে তোমাদের ধন-সম্পদ ও জীবন দিয়ে, এটাই তোমাদের জন্য উত্তম যদি তোমরা বুঝতে। আল্লাহ্ ক্ষমা দিবেন তোমাদের সমস্ত গুনাহ্ এবং দাখিল করবেন এমন জান্নাতে যার পাদদেশে নদী প্রবাহিত এবং স্থায়ী জান্নাতের উত্তম বাসগৃহে। ইহাই মহা সাফল্য”। ___ সূরা আস্সফ ৬১:৯-১২। উপরের আয়াত সমূহে আল্লাহ্তাআ’লা যে ‘জিহাদ’-এর কথা বলেছেন বাংলায়ই সেটা সংগ্রাম। আর যে কোন সংগ্রামের জন্য যে জান মালের প্রয়োজন হয় আমাদের মুক্তিযুদ্ধই তার প্রমাণ। সুতরাং দেখা যাচ্ছে কোন মতবাদ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে পদ্ধতি একটিই। আর তা হচ্ছে সংগ্রাম করা, জান এবং মাল ব্যয় করা। ইসলামের ক্ষেত্রেও বিষয়টি মোটেও ভিন্ন নয়। আমরা দুনিয়ার জীবনে দেখতে পাই রাজনৈতিক দলগুলির যে নেতা কর্মীরা রাস্তায় মাঠে ময়দানে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলেন, ক্ষমতাসীনদের দ্বারা নির্যাযিত নিষ্পেষিত হন পরবর্তীতে উক্ত দল রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হলে দলের পক্ষ থেকে উক্ত নেতাকর্মীদের বিভিন্ন ভাবে পুরস্কৃত করা হয়। কাউকে মন্ত্রীত্ত্ব দেওয়া হয়, কাউকে প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্টিত করা হয়, কাউকে ব্যবসা বানিজ্যের সুযোগ করে দেয়া হয়। ইসলাম কায়েমের সংগ্রামে অংশ গ্রহন করলে আল্লাহ্তাআ’লাও পুরস্কৃত করেন। আর আল্লাহ্তাআ’লার পুরষ্কার হচ্ছে জান্নাত যা পৃথিবীতে কারো পক্ষেই দেওয়া সম্ভব নয়। গনতন্ত্র, সমাজতন্ত্র বা অপরাপর মতবাদ কি বলে যে, প্রয়োজনে মানুষের উপর অত্যাচার নির্যাতন চালিয়ে তাদের মতবাদকে গ্রহন করার জন্য বাধ্য করা যাবে? নিশ্চয়ই নয়, কারণ প্রতিটি মতবাদের লক্ষ্যই হচ্ছে মানুষের কল্যাণ। রাজনৈতিক দল সমূহের গঠনতন্ত্রে কি এমন কোন ধারা সংযুক্ত করা আছে যেখানে বলা হয়েছে বল প্রয়োগের মাধ্যমে তারা তাদের রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করতে পারবে? এখানেও নিশ্চয়ই তার উত্তর হবে, না তা নেই। বিভিন্ন পন্থীদের মধ্যে গনতন্ত্রপন্থীদেরকেই বেশিরভাগ সময় দেখা যায় হরতাল অবরোধের মত কর্মসূচী পালনে বাধ্য করার জন্য তারা বিভিন্নভাবে মানুষের উপর বল প্রয়োগ করে থাকে। জঙ্গি শব্দের সংজ্ঞা অনুযায়ী মানুষের উপর বল প্রয়োগের এই কাজটিই জঙ্গি তৎপরতা। উপসংহারঃ মৌলবাদ শুধু ইসলামের জন্যই প্রযোজ্য নয়, সবাই যার যার ক্ষেত্রে মৌলবাদী। কেউ গনতন্ত্রীয় মৌলবাদী, কেউ সমাজতন্ত্রীয় মৌলবাদী, কেউ আপন আপন মতবাদের উপর মৌলবাদী। ইসলামপন্থীরাই শুধু ধর্মান্ধ নয়, ধর্মান্ধ সবাই। যে গনতন্ত্রে বিশ্বাসী গনতন্ত্রই তার ধর্ম, কারণ গনতন্ত্রের প্রতিই সে নিবেদিত প্রাণ যে কারণ সে গনতন্ত্রানন্ধ। অন্যান্য তন্ত্র মন্ত্রের বেলায়ও একই কথা প্রযোজ্য। সে হিসাবে বলা যায় কেউ সমাজতন্ত্রান্ধ, কেউ ধর্মনিরেপক্ষান্ধ ইত্যাদি। জঙ্গি তৎপরতায় লিপ্ত প্রত্যেকেই জঙ্গি। জঙ্গি শব্দটি শুধু ইসলামের সাথে জুড়ে দেওয়া একটি রাজনৈতিক কৌশল ও অপতৎপরতা। গনতন্ত্রপন্থী, সমাজতন্ত্রপন্থী বা অন্যান্য পন্থীরা যখন রাস্তার গাড়ী ভাঙ্গে আগুন দেয়, মানুষকে পিটিয়ে গুলি করে হত্যা করে, মানুষের অবাধ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে এ সমস্ত কি জঙ্গি তৎপরতা নয়? একজন প্রকৃত মুসলমান কখনোই অত্যাচারী, নিপিড়নকারী, অপরের অধিকার হরণকারী, মন্দ বাক্য প্রয়োগকারী, অশ্লীল শব্দ ব্যবহারকারী, মিথ্যাবাদী অর্থাৎ যে সমস্ত কাজের দ্বারা কোন মানুষ সম্পর্কে বলা যায় সে অন্যায় করছে, সে সমস্ত প্রতিটি কাজ প্রকৃত কোন মুসলমান করতে পারে না। তেমনিভাবে কোন প্রকৃত মুসলমান কখনোই গনতন্ত্রপন্থী, সমাজতন্ত্রপন্থী, ধর্মনিরপেক্ষতাপন্থী বা অন্যান্য যে সমস্ত মতবাদ রয়েছে সে পন্থী হতে পারে না। প্রকৃত মুসলমান শুধুমাত্র একমাত্র ইসলাম....
 










chomotkar democracy

একটা চমৎকার জিনিস লক্ষ্য করুন।

বর্তমানে ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য মোটামোটিভাবে ৪ ধরনের দল আছে জামাআত-ইখওয়ান (গণতন্ত্রবাদী), সালাফী, হিযবুত তাহরীর, জিহাদী।

মজার ব্যাপার হল প্রত্যেক গ্রুপ সম্পর্কে অপর তিন গ্রুপের দ্বিধাহীন ঐক্যমত্য।

যেমন জামাআত-ইখওয়ান তথা গণতন্ত্রবাদীদের গণতন্ত্র যে একটা কুফরি মতবাদ তা নিয়ে হিযবুত তাহরীর বা সালাফী বা জিহাদীদের কোন সংশয় নেই।

আবার হিযবুত তাহরীরের বর্তমানে সেনাবাহিনীর নুসরাহর মাধ্যমে খিলাফত প্রতিষ্ঠার দাবী যে একটি হাস্যকর বিষয় তা নিয়ে বাকি তিন গ্রুপ তথা গণতন্ত্রবাদী, জিহাদী ও সালাফীদের কোন মতভেদ নেই।

আবার বর্তমানে জিহাদের মাধ্যমে রাষ্ট্রপ্রতিষ্ঠার দাবী যে উগ্রবাদ কিংবা জঙ্গিবাদ তা নিয়ে হিযবুত, সালাফী বা গণতন্ত্রবাদীদের কোন সংশয় নেই।

আবার টিপিক্যাল সালাফিরা যে সৌদি বাদশার দালাল তা নিয়ে গণতন্ত্রবাদী, হিযবুত বা জিহাদীদের কোন সংশয় নেই।

...

আমি যখন এই বিষয়টা নিয়ে ভাবি তখন বেশ কৌতুকবোধ করি।

ISN'T IT AN INTERESTING EQUATION??
আপনারা কি বলেন??



কারা প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু করেছে ?
মুসলিম রা ??
কারা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু করেছে?
মুসলিম রা ??
অস্ট্রেলিয়ার প্রায় ২০মিলিয়ন আদিম অধিবাসীদের কে কারা মেরেছিল ?
মুসলিম রা ??

নাগাসাকি, হিরশিমায় পারমানবিক বোমা কারা ফেলেছিল ? সাউথ আমেরিকায় ৫০ মিলিয়ন ইন্ডিয়ান দের কারা মেরেছিল? প্রায় ১৮০ মিলিয়ন আফ্রিকার মানুষ কে কারা ক্রীতদাস হিসেবে নিয়েছিল যাদের মাঝে ৮৮% মারা গিয়েছে আর অ্যাটল্যান্টিক মহাসাগরে নিক্ষেপ করা হয়েছিল ?

মুসলিম রা ??

নাহ!

একটাও মুসলিম রা করেনি !
আপনাদের ভাল করে জানা দরকার টেরারিস্ট শব্দটার মানে কি?! নন মুসলিম যদি কোনও অপরাধ করে তাহলে সেটা ক্রাইম হয়। আর কোনও মুসলিম যদি একই অপরাধটা করে তাহলে তখন সে টেরারিস্ট হয়ে যায় !

জবাবটি ছিল এক জার্মানি পণ্ডিত এর যখন তাঁকে সন্ত্রাসবাদ ও ইসলাম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল ! সাথে সাথে তিনি চমৎকার উত্তর ও দিয়ে দিয়েছেন! যারা অন্তর থেকে ঈমান এনেছে, যারা আল্লাহ্‌কে ভয় করে, পরকালকে বিশ্বাস করে, তারা কখনও টেরারিস্ট হতে পারেনা !

যারা নিজেকে মুসলিম দাবী করে এবং টেরারিস্ট এর মতো কাজ করে, অন্যায় ছাড়া কারো জীবন নিয়ে নেয় তারা মুসলিম না, শুধু মাত্র ইসলামের নাম ব্যবহার করছে !




সোমবার, ১৪ এপ্রিল, ২০১৪

পশ্চিমা গণতন্ত্র ব্যর্থ

নতুন গবেষণা: পশ্চিমা গণতন্ত্র ব্যর্থ !
সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে ধনী-গরীব, প্রভাবশালী ও সাধারন মানুষের মধ্যে পশ্চিমাদের গনতন্ত্রের এই বৈষম্য মূলক নীতি।
১. একটি সংগঠিত ইন্টারেস্ট গ্রুপ বা অর্থনৈতিক অভিজাতরা যখন বিশেষ কোনো নীতি সংসদে পাস করাতে চান তখন তাদের সফল হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি থাকে।
২.কিন্তু বিষয়টি যদি সাধারণ নাগরিকের দাবি হয়, এতে যদি সংখ্যাগরিষ্ঠ নাগরিকের সমর্থন থাকেও তবে সরকার ও নীতি নির্ধারকরা খুব একটা কেয়ার করেন না।

৩.অর্থাৎ ভোটে নির্বাচিত ক্ষমতাসীনদের ওপর ভোটারদের কোনো প্রভাব নেই বললেই চলে।
৪.সরকারের নীতি নির্ধারণে সাধারণ নাগরিকদের কোনো প্রভাব নেই বললেই চলে। বিপরীতপক্ষে নীতি নির্ধারণে বিত্তশালীদের প্রভাব খুবই দৃঢ়, অত্যন্ত অর্থপূর্ণ এবং স্বাধীন।
৫.কানেকটিকাট ইউনিভার্সিটির একটি গবেষণায় দেখানো হয়েছে, মার্কিন সিনেট ধনীদের স্বার্থ রক্ষার নীতিতেই বেশি সাড়া দেয়। গরীব বা মধ্যবিত্তদের জন্য সিনেটের খুব একটা মাথাব্যথা নেই।
৬.যে গণতন্ত্র নির্দিষ্ট সময় অন্তর একটি সাধারণ নির্বাচন সর্বস্ব হয়ে পড়ছে। এবং পশ্চিমারা তা তৃতীয় বিশ্ব ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে পাচার করার চেষ্টা করছে বা কখনো চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছে।



সোমবার, ৭ এপ্রিল, ২০১৪

গণতন্ত্র ও প্রশ্নোত্তর


গণতন্ত্র সম্পর্কে কয়েকটি প্রশ্নোত্তর
-- লিখেছেন লুৎফুর রহমান ফরায়েজী, সহকারী মুফতী-জামিয়াতুল আস’আদ আল ইসলামিয়া-ঢাকা

ক. গনতন্ত্র কি?
খ. গনতন্ত্র সম্পর্কে শরীয়তের বিধান কি?
গ. যারা গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য চেষ্টা করে তাদের ব্যাপারে ইসলাম কি বলে?
ঘ. গনতন্ত্রের মাধ্যমে কি ইসলাম প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব?
ঙ. গনতন্ত্র এবং শুরা কি একই? পার্থক্য থাকলে তা কি?

জবাব:

بسم الله الرحمن الرحيم

ক-গণতন্ত্র কি?

গণতন্ত্র শব্দটি গ্রীক শব্দ। democracy (ডেমোক্রেসি) এর অনুবাদ। পরিভাষায় গণতন্ত্র বলা হয়-জনসাধারণের প্রতিনিধি দ্বারা সাম্যের নীতি অনুসারে রাষ্ট্রশাসন করা। গণনতান্ত্রিক সরকার বলা হয় কোন শ্রেণী, গোষ্ঠী বা ব্যক্তিবিশেষ কর্তৃক শাসনের পরিবর্তে রাষ্ট্রের সকল নাগরিকের নিয়ন্ত্রণাধীন পরিচালিত সরকারকে।

খৃষ্টপূর্ব ৫০ ও ৪র্থ শতকে গ্রীক নগর রাষ্ট্রগুলোতে সর্বপ্রথম গণতন্ত্রের উন্মেষ ঘটে। রোমান প্রজাতন্ত্রে জন প্রতিনিধিত্ব নীতির উদ্ভব হয়। শাসিত ও শাসকের মধ্যে চুক্তি বিদ্যমান থাকার নীতি মধ্যযুগে উদ্ভুত। পিউরিট্যান বিপ্লব, মার্কিন স্বাধীনতা ও ফরাসী বিপ্লবের প্রভাবে আধুনিক গণতন্ত্রের প্রসার ঘটে। জন লক, জে জে রূশো, ও টমাশ জেফারসন গণতন্ত্রবাদের প্রভাবশালী তাত্ত্বিক ছিলেন। প্রথমে রাজনৈতিক ও পরে আইন সম্পর্কীয় সমান অধিকারের দাবী উত্থাপনের ফলে গণতন্ত্র বর্ধিত হয়। পরবর্তীকালে সামাজিক ও অর্থনৈতিক সাম্যের দাবিও গণতন্ত্র সম্প্রসারণের সহায়ক হয়। প্রতিযোগিতাশীল রাজনৈতিক দলসমূহের অস্তিত্বের উপর আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বিশেষভাবে নির্ভরশীল। কারণ প্রচালিত গণতন্ত্রে জনগণ কর্তৃক প্রতিনিধি নির্ধারণের জন্য নির্বাচন আবশ্যক, আর নির্বাচনের জন্য প্রতিযোগিতাশীল রাজনৈতিক দলসমূহের অস্তিত্ব আবশ্যক। গণতান্ত্রিকগণ মনে করেন একমাত্র রাজনৈতিক গণতন্ত্রের মাধ্যমেই জনগণের সুযোগ সুবিধার সাম্য রক্ষা সম্ভব। পক্ষান্তরে সমাজতান্ত্রিকদের অভিমত হল অর্থনৈতিক গণতন্ত্রই একমাত্র ভিত্তি। যার উপর সত্যিকার রাজনৈতিক গণতন্ত্রের সৌধ নির্মাণ করা যেতে পারে।

ইসলামে রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচন পদ্ধতিঃ(ইসলামের সাথে গণতন্ত্রের পার্থক্য বুঝতে সহায়ক হবে)

ইসলামে রাজ্য শাসন পদ্ধতি কি হবে তা নির্দিষ্ট। তা হল কুরআন-সুন্নাহর ভিত্তিতে রাজ্য পরিচালনা পদ্ধতি তথা ইসলামী খিলাফত পদ্ধতি। তবে সরকার প্রধান নির্বাচনের পদ্ধতির ক্ষেত্রে বাহ্যতঃ ইসলামে কয়েকটি পদ্ধতি পরিদৃষ্ট হয়। যথা-

১-পূর্ববর্তী খলীফা কর্তৃক পরবর্তী খলীফার মনোনয়ন। যেমন হযরত আবু বকর সিদ্দীক রাঃ তার পরবর্তী খলীফা হিসেবে হযরত ওমর রাঃ কে মনোনীত করে যান। উম্মতের সর্বসম্মত মতে এটা জায়েজ। তবে হযরত আবু বকর সিদ্দীক রাঃ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সাথে পরামর্শক্রমে এটা করেছিলেন।
এক্ষেত্রে মনোনয়নকৃত পরবর্তী খলীফা যদি মনোনয়নদানকারী খলীফার পুত্র হন, তাহলে প্রচলিত রাজতন্ত্রের সংজ্ঞা অনুযায়ী সেটা রাজতন্ত্র আখ্যায়িত হবে, কেননা সেটা বংশানুক্রমিক রাষ্ট্রপ্রদান শাসিত রাষ্ট্র বলে ধর্তব্য হয়। তবে অধিকাংশ ওলামায়ে কিরামের মতে ইসলামে এর অবকাশ আছে। অবশ্য কেউ কেউ বলেছেন-এটা যথাযথ কর্তৃপক্ষের সাথে পরামর্শক্রমে হতে হবে। যেমন হযরত মুয়াবিয়া রাঃ তার পুত্র ইয়াযীদকে পরামর্শক্রমে মনোনয়ন দিয়ে যান। আর সাহাবাগণ কর্তৃক এই মনোনয়নের বিরোধিতা করা হয়নি। এতে এ পদ্ধতির ব্যাপারে সাহাবায়ে কিরামরে মৌন ইজমা [ঐক্যমত্য] প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়। হযরত আব্দুল্লাহ বিন যুবায়ের ও হযরত হুসাইন রাঃ ইয়াযীদের বিরোধিতা এ কারণে করেন নি যে, ইয়াযিদ এই পদ্ধতিতে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁরা কখনো একথা বলেন নি যে, ইয়াযীদের মনোনয়ন শুদ্ধ নয়। বরং তারা বিরোধিতা করেছেন অন্য কারণে।

২-খলীফা তার পরবর্তী খলীফা নির্বাচনের জন্য বিশেষ জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি বোর্ড গঠন করে দিয়ে যেতে পারেন, যেমন হযরত ওমর রাঃ তাঁর পরবর্তী খলীফা নির্বাচনের জন্য ছয় সদস্য বিশিষ্ট একটি বোর্ড গঠন করে দিয়ে যান।

৩-খলীফা তাঁর পরবর্তী খলীফা নির্বাচনের রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচনের বিষয়টি জনগণের উপর ছেড়ে দিয়ে যাবেন। তারপর জনগণই তাদের খলীফা নির্বাচিত করবে। যেমন হযরত উসমান রাঃ তাঁর পরবর্তী খলীফা নির্বাচনের বিষয়টি পরবর্তীদের উপর ছেড়ে দিয়ে যান। পরে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের পরামর্শক্রমে হযরত আলী রাঃ কে খলীফা হিসেবে নির্বাচিত করা হয়।

গণতন্ত্র ও ইসলামী খেলাফতের মৌলিক পার্থক্য

১-গণতন্ত্র পদ্ধতিতে রাষ্ট্র পরিচালনা মানে হল-মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে রাষ্ট্র পরিচালনা করা। আর খেলাফতের ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনা মানে হল আল্লাহর প্রতিনিধি হিসেবে রাষ্ট্র পরিচালনা করা।
২-গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা মানে হল মানুষের সৃষ্ট মতবাদ প্রতিষ্ঠা। আর খেলাফত প্রতিষ্ঠা মানে হল আল্লাহর নির্ধারিত মতবাদ প্রতিষ্ঠা।
৩-গণতন্ত্রের মূল থিউরী হল মানুষকে সন্তুষ্ট করা যেভাবেই হোক। আর ইসলামী খিলাফতের মূল উদ্দেশ্য হল আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে জনসেবা করা আল্লাহর নির্ধারিত বিধান অনুপাতে।

খ, গ-ইসলামের দৃষ্টিতে গণতন্ত্র

প্রচলিত গণতন্ত্রে রাষ্ট্র প্রধান নির্বাচনের পদ্ধতি মাত্র একটাই। সেটা হল সাধারণ নির্বাচন। পক্ষান্তরে ইসলামী খেলাফত পদ্ধতিতে রাষ্ট্র প্রধান নির্বাচনেরর পদ্ধতি বহুবিধ।
প্রচলিত গণতন্ত্রে রাষ্ট্রের ছোট-বড়, যোগ্য-অযোগ্য, বুদ্ধিমান-নির্বোধ নির্বিশেষে সকলের রায় বা মতামত (ভোট) সমানভাবে মূল্যায়িত হয়ে থাকে। কিন্তু রাসূল সাঃ, খোলাফায়ে রাশেদা ও আদর্শ যুগের কর্মপন্থা পর্যালোচনা করলে দেখা যায় ইসলাম মতামত গ্রহণের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যথাযথ কর্তৃত্ব সম্পন্ন যোগ্য কর্তৃপক্ষ এর মতামতের মূল্যায়ন করে থাকে। ঢালাওভাবে সকলের মত গ্রহণ ও সকলের মতামতের সমান মূল্যায়ন দ্বারা সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছার বিষয়টি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। কুরআনের একটি আয়াত এদিকে ইংগিত পাওয়া যায়। আয়াতটি হল-
وَإِن تُطِعْ أَكْثَرَ مَن فِي الأَرْضِ يُضِلُّوكَ عَن سَبِيلِ اللَّهِ إِن يَتَّبِعُونَ إِلاَّ الظَّنَّ وَإِنْ هُمْ إِلاَّ يَخْرُصُونَ (116)
অর্থাৎ যদি তুমি পৃথিবীর অধিকাংশ লোকের কথামত চল, তবে তারা তোমাকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করে দিবে। {সূরা আন’আম-১১৬}
প্রচলিত গণতন্ত্রে জনগণকে সকল ক্ষমতার উৎস মানা হয়। জনগণকে আইনের উৎস মানা ঈমান পরিপন্থী। কেননা, ইসলামী আক্বিদা বিশ্বাসে আল্লাহকেই সর্বময় ক্ষমতার উৎস স্বীকার করা হয়। কুরআনে পাকে ইরশাদ হয়েছে-
قُلْ مَن بِيَدِهِ مَلَكُوتُ كُلِّ شَيْءٍ
অর্থাৎ তুমি বল সমস্ত কিছুর কর্তৃত্ব [সর্বময় ক্ষমতা] কার হাতে? {সুরা মু’মিনুন-৮৮}
قُلِ اللَّهُمَّ مَالِكَ الْمُلْكِ تُؤْتِي الْمُلْكَ مَن تَشَاء وَتَنزِعُ الْمُلْكَ مِمَّن تَشَاء وَتُعِزُّ مَن تَشَاء وَتُذِلُّ مَن تَشَاء بِيَدِكَ الْخَيْرُ إِنَّكَ عَلَىَ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ (26)
অর্থাৎ তুমি বল-হে সর্বভৌম ক্ষমতার মালিক আল্লাহ! তুমি যাকে ইচ্ছা ক্ষমতা প্রদান কর, এবং যার নিকট থেকে ইচ্ছা ক্ষমতা কেড়ে নাও। যাকে ইচ্ছা সম্মান দান কর। যাকে ইচ্ছে পদদলিত কর। সব কিছুই তোমার হাতে। নিশ্চয় তুমি সর্ব বিষয়ে ক্ষমতাবান। {সুরা আলে ইমরান-২৬}
إِنِ الْحُكْمُ إِلاَّ لِلّهِ
অর্থাৎ কর্তৃত্বতো আল্লাহরই। {সূরা আনআম-৫৭}
وَمَن لَّمْ يَحْكُم بِمَا أَنزَلَ اللَّهُ فَأُوْلَئِكَ هُمُ الْكَافِرُونَ (44)
অর্থাৎ আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন সে অনুযায়ী যারা বিধান দেয়না তারা হল কাফের। {সূরা মায়িদা-৪৪}
وَمَن لَّمْ يَحْكُم بِمَا أنزَلَ اللَّهُ فَأُوْلَئِكَ هُمُ الظَّالِمُونَ (45)
অর্থাৎ আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন সে অনুযায়ী যারা বিধান দেয়না তারা হল জালেম। {সূরা মায়িদা-৪৫}
وَمَن لَّمْ يَحْكُم بِمَا أَنزَلَ اللَّهُ فَأُوْلَئِكَ هُمُ الْفَاسِقُونَ (47)
অর্থাৎ আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন সে অনুযায়ী যারা বিধান দেয়না তারা হল ফাসেক। {সূরা মায়িদা-৪৪}
أَلَمْ تَرَ إِلَى الَّذِينَ يَزْعُمُونَ أَنَّهُمْ آمَنُواْ بِمَا أُنزِلَ إِلَيْكَ وَمَا أُنزِلَ مِن قَبْلِكَ يُرِيدُونَ أَن يَتَحَاكَمُواْ إِلَى الطَّاغُوتِ وَقَدْ أُمِرُواْ أَن يَكْفُرُواْ بِهِ وَيُرِيدُ الشَّيْطَانُ أَن يُضِلَّهُمْ ضَلاَلاً بَعِيدًا (60)
অর্থাৎ তুমি তাদেরকে দেখনি যারা দাবি করে যে, তোমার প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে এবং তোমার পূর্বে যা অবতীর্ণ হয়েছে তাতে তারা ঈমান এনেছে, অথচ তারা তাগুতের কাছে বিচারপ্রার্থী হতে চায়, যদিও তাদেরকে তা প্রত্যাখ্যান করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে {সূরা নিসা-৪}
সুতরাং গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ইত্যাদীকে মুক্তির পথ মনে করা এবং একথা বলা যে, ইসলাম সেকেলে মতবাদ, এর দ্বারা বিজ্ঞানের চরম উৎকর্ষের যুগে উন্নতি অগ্রগতি সম্ভব নয় এটা কুফরী। এসব প্রতিষ্ঠার জন্য চেষ্টা ফিকির করা জায়েজ নয়।

ঘ-গণতন্ত্র দ্বারা কি ইসলাম প্রতিষ্ঠা সম্ভব?

আল্লাহর দেয়া নির্ধারিত পথ খিলাফত প্রতিষ্ঠা ছাড়া মানুষের গড়া মতবাদ গণতন্ত্র দিয়ে কখনোই ইসলাম প্রতিষ্ঠা সম্ভব হতে পারে না।

ঙ. গনতন্ত্র এবং শুরা কি একই? পার্থক্য থাকলে তা কি?

ইসলামে শুরা কাকে বলে? শুরা হল-পরামর্শ করা। তথা কোন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সমাধানের জন্য উক্ত বিষয়ে বিজ্ঞ ও পরহেযগার ব্যক্তিদের সাথে পরামর্শ করে সীদ্ধান্ত গ্রহণকে বলা হয় শুরা পদ্ধতি। আর গণতন্ত্র হল জ্ঞানী-মুর্খ, বোকা-বুদ্ধিমান সকল প্রকার মানুষের মতকে গ্রহণ করে আধিক্যের উপর ফায়সালা করা। চাই বোকার দল বেশি হওয়ার কারণে সীদ্ধান্তটি ভুল হোক, বা সঠিক হোক।

পক্ষান্তরে শুরা পদ্ধতির মূল থিউরীই যেহেতু জ্ঞানী, গুনীদের পরামর্শক্রমে সীদ্ধান্ত গ্রহণ। সুতরাং শুরা পদ্ধতি ও গণতন্ত্রের মাঝে মৌলিক পার্থক্য হল-শুরা হল কেবল জ্ঞানীদের মতামতের উপর সীদ্ধান্ত গ্রহণ, আর গণতন্ত্র হল-জ্ঞানী-মুর্খ, বোকা-বুদ্ধিমান সকল প্রকার মানুষের মতামত আধিক্যতার ভিত্তিতে গ্রহণ।








শনিবার, ২৯ মার্চ, ২০১৪

গনতন্ত্র আসলেই ধোঁকাতন্ত্র

গনতন্ত্র কি আসলেই ধোঁকাতন্ত্র ???
গনতন্ত্রিক পদ্ধতিতে সাধারনত কম সংখ্যক লোকেরা দেশের শাসন চালায়। যেমন ধরা যাক একটি নির্বাচনী এলাকায় তিন থেকে চার পাঁচজন প্রার্থী থাকে। তার মধ্যে একজন প্রার্থী ভোট পেল ১০ হাজার, একজন পেল ১২ হাজার, আর একজন পেল ১৪ হাজার, আর বাহিরে থাকল (১০+১২+১৪=৩৬) মোট ৩৬ হাজার ভোট।
তাহলে দেখা গেল এই ৩৬ হাজার ভোটারদের ভোট মাঠে মারা গেল, তাদের সমর্থন কোনো কাজে আসল না। এই অধিক সংখ্যক ভোটারের মত, তাদের ইচ্ছা রাষ্ট্রের কাজে কোনো প্রভাব ফেলতে পারল না। অথচ অল্প সংখ্যক ভোট পেয়ে একজন প্রার্থী নির্বাচিত হয়ে গেল প্রচলিত গনতান্ত্রিক সিস্টেমে। এভাবে অল্প সংখ্যক ভোট পেয়েও সদস্যরা পার্লামেন্টে আসে।
এরপর আরও মজার ব্যাপার হলো- পার্লামেন্টের সদস্য সংখ্যা সর্বমোট ৩০০ জন। এই ৩০০ জনের মধ্যে অন্তত ১৫১ জন যখন কাউকে সমর্থন করে তবে সে সরকার গঠন করে। এই ১৫১ জন লোকের প্রাপ্ত ভোট যদি গণনা করা হয় আর এর বাইরে যারা রয়ে গেল তাদের ভোট সংখ্যা গণনা করা হয় তাহলেও দেখা যাবে অনেক ক্ষেত্রে সরকারের বাইরে থাকা লোকদের পক্ষে বেশি সংখ্যক লোকদের সমর্থন(ভোট) রয়েছে। এখানেও দেখা যায় গণতান্ত্রিক সিস্টেমে মাইনরিটি বা কমসংখ্যক লোকেরাই শাসন ক্ষমতার মালিক হয়ে বসে।
এরপর মনে করুন একটা পার্টির মধ্যে ১৬০ জন সদস্য পার্লামেন্ট মেম্বার। এখন সেই পার্টির মধ্যে আবার বিভিন্ন নেতার সমর্থিত ব্যাক্তি হয় প্রধানমন্ত্রী। অন্য গ্রুপের মধ্যে যার লোক সংখ্যা বেশি তাদের সমর্থিত ব্যাক্তি হয় প্রধানমন্ত্রী। অন্য গ্রুপের যে মত তা সেখানে ব্যর্থ হয়ে যায়।
আবার যখন মন্ত্রী পরিষদ গঠন করা হয় তখনো ঐ ১৬০ জন সদস্য আর মন্ত্রী-মিনিস্টার হতে পারে না। অল্প কয়েকজন সদস্যই কেবল সে সুযোগ পায়। তাদের হাতেই থাকে দেশের সর্বময় ক্ষমতা। ফলে সরকারের সমর্থনেও যে বাকি সদস্যরা রইলেন তাদের মতও অনেক সময় কার্যকর হয় না। তাদের সপক্ষে যে জনগণ ভোট দিয়েছিল তাদের আশাও পূর্ন হয় না।
এভাবে যে কোনো দিক দিয়ে বিচার করলেই দেখা যাবে, গণতান্ত্রিক সিস্টেমে অল্প সংখ্যক লোকেরাই শাসনের আসল সুবিধা ভোগ করে। অর্থাৎ মাইনরিটি বা কম সংখ্যক লোক দ্বারা দেশ শাসিত হয়।

তাই বলতে হয়, গণতন্ত্র আসলে ধোঁকাতন্ত্র- একটা বাস্তব প্রতারণা ছাড়া আর কিছুই নয়। এ এমন এক প্রতারনা যা দিনের উজ্জ্বল আলোতেই সবাইকে দেয়া হচ্ছে, অথচ কেউ বুঝতে পারছে না। তদুপরি গণতন্ত্রটা একটা বিরাট ধোঁকা হয় তখন, যখন একে মেজরটি লোকের শাসন বলে সাধারণ মানুষকে বোঝানো হয়।









''জাতীয়তাবাদের ওপর যে মৃত্যুবরণ করে, জাতীয়তাবাদের দিকে যে আহ্বান করে এবং জাতীয়তাবাদের জন্য যে হত্যা করে সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।''
(সুনানে আবু দাউদ)
''যে জাতীয়তাবাদ তথা আসাবিয়্যার জাহেলী আহবানের দিকে মানুষকে ডাকে সে যেন তার পিতার লজ্জাস্থান কামড়ে ধরে পড়ে আছে (তাকে ছাড়তে চাইছে না)। এরপর রাসূলুল্লাহ (সা) বলেন, এবং একথাটি লুকিয়ে রেখো না অর্থাৎ বলার ক্ষেত্রে কোনো লজ্জা বা অস্বস্তিবোধ করোনা।" মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ২১২৩৬
''জাতীয়তাবাদের ওপর যে মৃত্যুবরণ করে, জাতীয়তাবাদের দিকে যে আহ্বান করে এবং জাতীয়তাবাদের জন্য যে হত্যা করে সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।''
(সুনানে আবু দাউদ)

''যে জাতীয়তাবাদ তথা আসাবিয়্যার জাহেলী আহবানের দিকে মানুষকে ডাকে সে যেন তার পিতার লজ্জাস্থান কামড়ে ধরে পড়ে আছে (তাকে ছাড়তে চাইছে না)। এরপর রাসূলুল্লাহ (সা) বলেন, এবং একথাটি লুকিয়ে রেখো না অর্থাৎ বলার ক্ষেত্রে কোনো লজ্জা বা অস্বস্তিবোধ করোনা।" মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ২১২৩৬




শুক্রবার, ২১ মার্চ, ২০১৪

গণতন্ত্র একটি বাতিল ও কুফুরি মতোবাদ



 
 
 
 
 
 
 
 
গণতন্ত্র একটি বাতিল ও কুফুরি মতোবাদ ও ইহা একটি দাজ্জালি শক্তি !!!!!!!!
আসসালামুয়ালাইকুমপোস্টটা একটু বড় হলেও সম্পূর্ণ পড়বেন ইনশাল্লাহঃ-
1. আমার ইসলাম প্রিয় ভাই-বোনেরা আল্লাহর কাছে দুয়া করি যেন আল্লাহ আমাদের সকল প্রকার জালিম এর অত্যাচার থেকে রক্ষা করেন । মনে হচ্ছে কলমের কালি (প্রতিবাদী রক্ত) শেষ হয়ে আসছে । চার পাশে যেমন আল্লাহ্র বিধানকে অস্বীকারকারী আর মিথ্যুক ভণ্ড ঈমানদারের সংখ্যা বেড়ে চলছে তেমন পর্দাহীন নারীর সংখ্যাও তুফানের গতিতে বাড়ছে।মহান আল্লাহ্ বলেনঃ " আর মানুষের মধ্যে কিছু লোক এমন রয়েছে যারা বলে, আমরা আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান এনেছি অথচ আদৌ তারা ঈমানদার নয়। তারা আল্লাহ এবং ঈমানদারগণকে ধোঁকা দেয়। অথচ এতে তারা নিজেদেরকে ছাড়া অন্য কাউকে ধোঁকা দেয় না অথচ তারা তা অনুভব করতে পারে না। (সুরা আল বাকারাঃ ৮-৯) সমাজে আল্লাহর বিধান নিয়ে অনেকেই খেলায় মেতেছে। যেমন অত্যাচারের পরিমাণ বাড়ছে তেমনি বাড়ছে হিংসা আর মানুষ খুন।চলন্ত গাড়িতে যেমন একটি কুকুর বা মুরগী বা ছাগল চাপা পরলে সামান্য কষ্ট লাগে কিন্তু একজন মানুষ চাকার নিচে পরলে মানুষের হৃদয়ের মধ্যে দরদ আজকাল ততটুকুও দেখা যায় না। কেমন আমাদের মনুষ্যত্ব কেমন আমরা আজকের মুসলিম জাতি?তারপরেও কি বলব আমরা মুসলিম???
আজকের সমাজে আমরা মানব রচিত বিধানকে জাতীর সমাধান মনে করছি আল্লাহর বিধান ত্যাগ করে। অথচ আল্লাহ্ আমাদের জন্য কি বিধান ভুল দিয়েছেন? (নাউজুবিল্লাহ)
# আল-কুরআনঃ "যাবতীয় ক্ষমতা শুধুমাত্র আল্লাহরই জন্য " [২:১৬৫]গনতন্ত্রঃ জনগনই সকল ক্ষমতার উৎস ।

# আল-কুরআনঃ "আল্লাহ ছাড়া কারও বিধান দেবার ক্ষমতা নেই। " [১২:৪০]গনতন্ত্রঃ আইন প্রণয়নের ক্ষমতা জনগন, সংসদ, মন্ত্রী-এমপির (মদ, পতিতালয় বৈধও হতে পারে) ।

# আল-কুরআনঃ আল্লাহ তাআলা সার্বভৌমত্বের মালিক। [৩:২৬]গনতন্ত্রঃ সার্বভৌমত্বের মালিক জনগন।

# আল-কুরআনঃ "(হে নবী) আপনি যদি অধিকাংশের রায়কে মেনে নেন তাহলে তারা দ্বীন থেকে বিচ্যুত করে ছাড়বে" [৬:১১৬]গনতন্ত্রঃ অধিকাংশ লোকের রায়ই চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত যদিও তা আল্লাহ্র আদেশের বিরুদ্ধে হয়।

# আল-কুরআনঃ "আল্লা’হ তা’আলা ক্রয়-বিক্রয় বৈধ করেছেন এবং সুদ হারাম করেছেন। " [২:২৭৫]গনতন্ত্রঃ গণতন্ত্র সূদভিত্তিক অর্থনীতি প্রতিষ্ঠা করে।
# আল-কুরআনঃ ব্যভিচার শাস্তিযোগ্যঅপরাধ। [২৪:২]গনতন্ত্রঃ সংসদ পতিতালয়ের (যিনা) লাইসেন্স দেয়।
# আল-কুরআনঃ মদ, জুয়া,লটারী নিষিদ্ধ। [৫:৯০]গনতন্ত্রঃ মদ এর লাইসেন্স দেয়। জুয়া,লটারী বৈধ।

# আল-কুরআনঃ "হে মুমিণগণ! তোমরা ইহুদী ও খ্রীষ্টানদেরকে বন্ধু হিসাবে গ্রহণ করো না।তারা একে অপরের বন্ধু। তোমাদের মধ্যে যে তাদের সাথে বন্ধুত্ব করবে,সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ জালেমদেরকে পথ প্রদর্শন করেন না।" [৫:৫১]গনতন্ত্রঃ কোন সমস্যা নাই। যার সাথে ইচ্ছা (আমেরিকা, ইসরাইল)বন্ধুত্ব কর।

এখন সিদ্ধান্ত আপনাদের হাতে “গনতন্ত্র” গ্রহন করবেন নাকি “ইসলাম”?

2. আমাদেশের দেশের অধিকাংশ মানুষের "গণতন্ত্র" সম্পর্কে সঠিক ধারনা নেই। তারা এই গণতন্ত্রকে হালাল মনে করে। তারা আসলে বুঝতে পারে না যে এটি একটি কুফুরী মতবাদ।

এই পোস্টে আমি গণতন্ত্রের আসল স্বরূপ উন্মোচন করার চেষ্টা করব ইনশাল্লাহ।

গণতন্ত্র হচ্ছে- অধিকাংশ মানুষের রায়। অর্থাৎ অধিকাংশ মানুষ যেটা বলবে সেটাই মেনে নেয়া হবে, এর নাম হচ্ছে গণতন্ত্র।কিন্তু মহান আল্লাহ বলেন-"আর যদি আপনি পৃথিবীর অধিকাংশ লোকের কথা মেনে নেন, তবে তারা আপনাকে আল্লাহর পথ থেকে বিপথগামী করে দেবে। তারা শুধু অলীক কল্পনার অনুসরণ করে এবং সম্পূর্ণ অনুমান ভিত্তিক কথাবার্তা বলে থাকে। আপনার প্রতিপালক তাদের সম্পর্কে খুব জ্ঞাত রয়েছেন, যারা তাঁর পথ থেকে বিপথগামী হয় এবং তিনি তাদেরকেও খুব ভাল করে জানেন, যারা তাঁর পথে অনুগমন করে। (সুরা আন'আমঃ ১১৬-১১৭)

এই আয়াত দ্বারা স্পষ্টভাবে বুঝা যায় যে, অধিকাংশ লোকের কথা মেনে নেয়া যাবেনা। আল্লাহ যেটা বলেছেন সেটাই মানতে হবে।আমি একটি উদাহরন দিয়ে বিসয়টি স্পট করার চেষ্টা করছি-আজ-কাল দূর পাল্লার নাইট কোচ বাস গুলোতে টিভি থাকে। ধরুন একটি বাসে টিভিতে অশ্লীল সিনেমা, নাচ-গান চলছে। সেই সিনেমাতে নারীদের অর্ধোলঙ্গ পোশাকে, অশালীন পোশাকে দেখানো হচ্ছে। এখন মুসলিমদের কি এটা দেখা বৈধ নাকি অবৈধ?এই ব্যাপারে মহান আল্লাহ বলেন-"মুমিনদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি নত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হেফাযত করে। এতে তাদের জন্য খুব পবিত্রতা আছে। নিশ্চয় তারা যা করে আল্লাহ তা অবহিত আছেন। (সুরা আন নুরঃ ৩০)তাই ঐ সিনেমা দেখা মুসলিমদের জন্য বৈধ নয় বরং হারাম।তাই একজন যাত্রী উঠে কন্ট্রাক্টারকে বলল- এই সিনেমা বন্ধ কর। তখন কন্ট্রাক্টার যাত্রীদের উদ্দেশে বলল- কে কে এই সিনেমা দেখতে চান না হাত উঠান। দেখা গেল বাসে মাত্র ৪/৫ জন যাত্রী হাত তুলল। আর বাকি ৩০/৩৫ জন-ই হাত উঠাল না অর্থাৎ তারা সিনেমা দেখার পক্ষে। তাহলে এখন গণতন্ত্র কি বলে?গণতন্ত্র অনুযায়ী হারাম জিনিস জয়ী হয়ে গেল।
আবার একজন পার্লামেন্ট মেম্বারের পদটা হলো সেই পদ যেখানে বসে আইন প্রণয়ন করা হয়। হালাল-হারাম নির্ধারন, যেটা সম্পূর্ণ একমাত্র আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতা'আলার এখতিয়ারে।মহান আল্লাহ আল্লাহ্ বলেন-" আল্লাহ ছাড়া কারও বিধান দেবার ক্ষমতা নেই। (সুরা ইউসুফঃ ৪০)

কিন্তু গণতন্ত্র অনুযায়ী সেই জায়গাটায় একজন ব্যক্তি নিজেকে বসিয়ে দেয়। হিন্দুদের বিশ্বাস মতে লক্ষীর মূর্তিটা কেবল সম্পদ দিতে পারে, বিদ্যার জন্য স্বরস্বতির কাছে যেতে হবে। কিন্তু আল্লাহর এখতিয়ারে থাকা কেবল একটা বিষয় নয় বরং আল্লাহ্ ছাড়া অন্য কারো কিছু করার ক্ষমতা আছে এমন দাবী করা বা বিশ্বাস করা শিরক। যে এমনটা দাবী করছে সে তাগুত (আল্লাহর বদলে যাদেরকে উপাসনা করা হয়)।

যে লোক পার্লামেন্ট মেম্বার পদে নির্বাচন করছে সে সরাসরি নিজেকে ঐ পদটার যোগ্য বলে স্বীকার করে নিয়েই নির্বাচন করছে। অর্থাৎ সন্দেহাতীতভাবে সে তাগুত। অনেকে বলে এটা ইসলামকে প্রতিষ্ঠা করা হিকমাহ। জি না। এটি ভুল পদ্ধতি। নিজেই তাগুত বনে যাওয়া হিকমাহ এর অংশ না কোনভাবেই। এটা কোন অবস্থাতেই জায়েজ নয়।

যারা ভোট দিচ্ছে তারা মূলত কয়েকটা তাগুতের মধ্য থেকে কোন তাগুতের উপাসনা করা হবে, কাকে মান্য করা যায় আগামী পাঁচ বছর সেটা সিদ্ধান্ত নেয়। এটাকে তুলনা করা যায় ঐ ঘটনার সাথে যে, দুর্গার পূজা হবে নাকি লক্ষীর পুজা হবে সেটা বসে সিদ্ধান্ত নিলাম। এর নামও হিকমাহ না। এর নাম শিরক। জবরদস্তির ক্ষেত্রে শিরক করা যায় ক্ষেত্রবিশেষে, কিন্তু এখানে ভোট দেবার জন্য কেউ কাউকে জোর করে না কখনও। ইচ্ছে করে শিরকে লিপ্ত হওয়া। হারাম সর্বাবস্থায়ই হারাম।

তাই গনতন্ত্র, সমাজতন্ত্র বা এর চেয়েও কোন ভাল ব্যাবস্থাপনা কেউ আবিষ্কার করলেও সেটা চলবে না, কারন আল্লাহ্ সুবানাহুতায়ালা তা নাকচ করে দিয়েছেন।মহান আল্লাহ্ বলেন-"যে লোক ইসলাম ছাড়া অন্য কোন ব্যাবস্থাপনার তালাশ করে, কস্মিণকালেও তা তার নিকট থেকে গ্রহণ করা হবে না এবং আখিরাতে সে হবে ক্ষতিগ্রস্তদের একজন। (সুরা আলে ইমরানঃ ৮৫)
তাই গনতন্ত্র, সমাজতন্ত্র তথা সকল প্রকার তন্ত্র-মন্ত্রই আল্লাহ্ চিরতরে হারাম করে দিয়েছেন।
তাই জ্ঞানী সমাজের প্রতি আমার আহ্বান আপনারা সচেতন হোন। হারাম পদ্ধতি বাদ দিয়ে আল্লাহ্র পথে ফিরে আসুন।

সোমবার, ১৭ মার্চ, ২০১৪

*কোন পথে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হবে?


আসলে কোন পথে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হবে? দাওয়াহ? গণতন্ত্র? নুসরাহ? জিহাদ? নাকি অন্য কোন পথে??

আমার মনে হয় বর্তমানে এই প্রশ্নটিই ইসলামিস্টদের সবচেয়ে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে। আর তাই এই প্রশ্নটির উত্তর খোঁজার জন্যই আমরা শুরু করতে যাচ্ছি KAIZEN নামে এক ধারাবাহিক সিরিজ। KAIZEN একটি জাপানী শব্দ যার অর্থ Continuous Development. এর প্রতিটি পর্ব পূর্বোক্তটির সাথে যেমন সম্পৃক্ত তেমনি নিজেও স্বতন্ত্র, পড়তে অসুবিধা হবে না। ইনশাআল্লাহ এর মাধ্যমে আমরা তাত্তিক এবং প্রায়োগিকভাবে দ্বীনকে বিজয়ী করার বিভিন্ন Tools এর কার্যকারিতা ও সীমাবদ্ধতা অনুসন্ধান করবো। এবং সর্বোপরি আমরা এমন একটা THEORY দাড় করানোর চেষ্ট করবো যা তাত্ত্বিক ও প্রায়োগিক উভয়দিক থেকেই কার্যকর। মোটামোটিভাবে আমার আলোচনার স্কীমটা নিম্নরুপঃ

* দ্বীন কি বিজয়ী হবে? হলে কতটুকু হবে?
* ইসলামী রাষ্ট্রের প্যারামিটারগুলো কি কি?
* ইসলামী আন্দোলন বলতে আসলে কি বুঝায়?
* গণতন্ত্র কি কুফরি?
* ইসলামিক রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপ্রধান কিভাবে নির্বাচিত হবেন?
* গণতন্ত্রের দৌড় বা পাল্লা কতটুকু?
* গণতন্ত্রের পেন্ডুলাম গতির কারন অনুসন্ধান
* গণতান্ত্রিক পদ্ধতি কি খোদ গণতন্ত্রকেই ধ্বংস করতে পারবে?
* হক্ক ও বাতিলের সংঘর্ষ অনিবার্য কেন?
* দাওয়াহ & জিহাদ : ডিমসিদ্ধ করার তত্ত্ব
* উস্তাদ মওদুদী রহঃ আসলে কি চেয়েছিলেন?
* Philosophy অব Jihad
* জিহাদের স্তরসমূহ
* Fiqhul JIHAD/ Rullings of JIHAD
* তাকফির ও খারেজী ইস্যু
* রাষ্ট্রপ্রধানকে কাফির সাব্যস্ত করার মূলনীতি
* মন্ত্রী এমপিদের হত্যা করে কি দ্বীন কায়েম করা যাবে?
* STEPS BEFORE TAKING WEAPONS!
* NUSRAH AND...
* PROBABILITY OF A GLOBAL JIHAD
* A COMBINED THEORY

অবশ্য যেকোন প্রয়োজনে উপরোক্ত সূচীর পরিবর্তন হতে পারে।

যেকোন পর্বের লেখা #KaizenSeries লিখে সার্চ দিলেই পাওয়া যাবে। এই পর্ব KaizenSeries : 0. আজ রাতেই #KaizenSeries : 1 বের হবে। এরপর 2,3... এভাবে চলতে থাকবে। এছাড়া সহজে খুঁজে পাওয়ার জন্য Sub Topics হিসেবে

#VICTORY
#DEMOCRACY
#ISLAMIC_STATE
#ISLAMIC_MOVEMENT #JIHAD
#DAWAH
#NUSRAH
#TAKFIR প্রভৃতিও পর্ব অনুসারে থাকবে। ইনশাআল্লাহ শীঘ্রই লেখালেখির পাশাপাশি অন্যান্য উপায় যেমন লেকচার প্রশ্নোত্তর এগুলোর সাহায্যও নেওয়া হবে।

[এই গবেষণা কাজের সুবিধার্থে যে কেউ এই রিলেটেড কোন আর্টিকেলের লিঙ্ক কিংবা ভালোমানের বই ইনবক্সে সাজেস্ট করতে পারেন। ইনশাআল্লাহ Each & Every মত ও পথ ধর্তব্যের মধ্যে আনা হবে।]


Zakir Zxj
....... ........ .......

#KaizenSeries : 0



গণতান্ত্রিক পন্থায় শরীয়াহ প্রতিষ্ঠা : ইতিহাস নির্ভর পর্যালোচনা

গণতান্ত্রিক পন্থায় শরীয়াহ প্রতিষ্ঠা : একটি ইতিহাস নির্ভর পর্যালোচনা
•••••••••••••••••••••••••••••••••••

মুসলিমদেশসমূহের অনেক ইসলামি দল গণতান্ত্রিক পন্থায় ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্যে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছে । যদিও এসব দল দ্বারা ইসলামের অনেক খেদমত হয়েছে যা অস্বীকার করার উপায় নেই । কিন্তু ইসলাম প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে তারা প্রায় ব্যর্থ হয়েছেন ।
আমরা এখানে বিশ্বের প্রাচীন একাধিক দেশে ইসলামি রাজনীতি চর্চাকারী তিনটি বৃহত ইসলামি দলের শুধু শরীয়াহ প্রতিষ্ঠার ব্যর্থতা তুলে ধরব ।

জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম :
১৯১৯ সালে ভারতবর্ষকে ব্রিটিশদের গোলামী থেকে মুক্ত করার লক্ষ্যে এ দলের প্রতিষ্ঠা হয় । ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে এদলের অনেক শীর্ষনেতাসহ কর্মিরা নির্যাতন ভোগ করেন ।
১৯৪৭ সালে যখন ব্রিটিশরা এদেশকে চলে যায় তখন এদলটি দু-ভাগে বিভক্ত হয়ে যায় ।

১-জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ : তারা ভারতেই থেকে যান । কিন্তু তারা রাজনৈতিক অবস্থান থেকে সরে এসে দাওয়াতি সংগঠনে রূপ নেন । কিন্তু যেহেতু ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে এদলের অবদান অপরীসীম, তাই ভারত সরকার তাদেরকে পার্লামেন্টে চিরস্থায়ী কয়েকটি সংরক্ষিত আসন দেয় । তখন থেকেই তারা কংগ্রেসকে সমর্থন দিয়ে আসছেন ।

জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম পাকিস্তান : পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর তারা রাজনৈতিক চর্চা শুরু করেন । অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে এদল একবার সত্তরদশকে পাকিস্তানের সীমান্ত প্রদেশে সংখ্যাগরিষ্ট আসন পেয়ে দলটির প্রধান মুফতি মাহমুদ রাহ. উক্তপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী নিযুক্ত হন । তিনি মুখ্যমন্ত্রী নিযুক্ত হবার পর সীমান্ত প্রদেশে মদ-সুদ ইত্যাদি নিষিদ্ধ করেন । কিন্তু তা কার্যকর হবার পুর্বেই ক্ষমতাসীন জুলফিকার আলী ভুট্টো সরকার তাকে পদচ্যুত করে !!
বর্তমানে তার ছেলে মাওলানা ফজলুর রহমান সাহেবের নেতৃত্বে জমিয়ত পরিচালিত হচ্ছে । বিগত কয়েক নির্বাচনে তাদের অবস্থা হচ্ছে-

নব্বই দশকে বেনজীর ভুট্টোর সাথে জোট গঠন । বিগত নির্বাচনে এককভাবে ১২ আসন অর্জন । এর আগে ৪ । এর পুর্বে সব ইসলামি দলের সাথে জোট করে ৫৩ আসন । একবার সীমান্ত প্রদেশে মুখ্যমন্ত্রী হলেও সেখানে শরীয়াহ প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থ ।
উল্লেখ্য, এ দলটির মধ্যে একাধিকবার ভাঙ্গন সৃষ্টি হয় । বর্তমানে পাকিস্তানে জমিয়ত এফ এবং এস নামে দুটি দল আছে ।

জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ : স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে তাদের কার্যক্রম উল্লেখযোগ্য । দলটির মহাসচিব মুফতি ওয়াক্কাস সাহেব (বর্তমানে কারাগারে আল্লাহ তাকে রহম করুন) তিন প্রতীক(লাঙ্গল, খেজুরগাছ ও ধান) নিয়ে তিন তিনবারের নির্বাচিত এমপি । এরশাদের আমলের ধর্ম প্রতিমন্ত্রী । দলটির সফলতা ব্যর্থতা নিয়ে আপনারাই ভাবুন ।
২০০১সালে দলটির মধ্যে ভাঙ্গন সৃষ্টি হয় ।

ইখওয়ানুল মুসলিমীন :
১৯২৭ সালে খেলাফতের পতনের পরপরই মুসলিমবিশ্বের দিক-নির্দেশনা দেওয়ার লক্ষ্যে এদলটির জন্ম হয় । তাদের শ্লোগান ছিল দাওয়াত ও জিহাদ । ফিলিস্তিন রক্ষার জন্যে জিহাদ করে । আরববিশ্বের মিশর, সুদান, সিরিয়া, লিবিয়া এবং জর্ডানসহ অনেকদেশে ছড়িয়ে পড়ে । পরে তারা আস্তে আস্তে গণতন্ত্রের দিকে ধাবিত হয় । মিসরে ক্ষমতায় যায় । কিন্তু !

জামায়াতে ইসলামি :
এটা ইসলামি দল কিনা তা নিয়ে উপমহাদেশের আলেমদের কথা যে, এটা ইসলামি দল নয় । আমরাও এটাকে ইসলামি দল মনে করি না । কিন্তু যেহেতু এদলটি নিজেকে ইসলামি দল দাবি করে সে হিসেবে এখানে স্থান দেওয়া ।
১৯৪১ সালে এদলটির জন্ম । ভারত-পাকিস্তান-বাংলাদেশে তারা ছড়িয়ে আছে । কিন্তু আজপর্যন্ত তারা কোথাও এককভাবে বা নেতৃত্ব দিয়ে জোটবদ্ধভাবে ক্ষমতায় যেতে পারেনি । এমনকি কোনো প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীও হতে পারে নি । তারা সর্বদা অন্যের ক্ষমতায় যাওয়ার সিড়ি হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে ।

এ দলগুলো ছাড়া বিশ্বের অনেকদেশে আরো গণতান্ত্রিক ইসলামি দল আছে । যদি এগুলোর তালিকা দিতে থাকি তাহলে খবর পাবো, এই মুহুর্তে আরেকটি ইসলামি দলের জন্ম হয়েছে । যদি পারেন তাহলে শুধু বাংলাদেশের দলগুলোই হিসেব করুন ।
গণতান্ত্রিক পন্থায় তুরস্ক, আলজেরিয়া, তিউনিশিয়াসহ অনেক দল নির্বাচিত হলেও অনেকে ক্ষমতায় যাওয়ার পুর্বেই ছিটকে পড়েছেন, আবার কেউ কেউ ক্ষমতায় গেলেও কোথাও এক সেকেন্ডের জন্যে একটি গ্রামে পরিপুর্ণ শরীয়াহ কায়েম করতে পারেন নি ।

যদি আমরা গণতান্ত্রিক দলগুলোর প্রতি চোখ রাখি তাহলে দেখতে পাবো—
১- যে তারা বারবার এরশাদের মতো আদর্শ বদলিয়েছেন ।
২- নিজেদের মধ্যে ভাঙ্গন তৈরি করেছেন ।
৩- নিজেদের প্রধান শত্রু বানিয়েছেন স্বদেশের ভিন্ন মতালম্বী জনতাকে ।
৪- আসন অর্জনের মধ্যে আবহাওয়ার মতো পরিবর্তন হয়েছে ।
৫- একই নামে একাধিক দেশে অনেক দল আছে, কিন্তু একটির সাথে আরেকটি সম্পর্ক নেই !!!
৬- উম্মাহের দুর্দিনে তাদের অবস্থান হচ্ছে, প্রথমে সভা-সেমিনার, প্রতিবাদ সমাবেশ, পরে নীরব দর্শক ।

এবার আসুন আমরা দেখি, বর্তমানে বিশ্বে কোন পদ্ধতিতে শরীয়াহ প্রতিষ্ঠিত আছে ।

তালেবান :
জন্ম ১৯৯৪ সালে । ২০০১ সালের মধ্যে মাত্র সাড়ে ৬ বছরে আফগানিস্তানের ৯৫ % এলাকায় শরীয়াহ প্রতিষ্ঠা ।

ইসলামিক স্টেইট ইন ইরাক এন্ড শাম :
২০০৬ সালে শুরু । বর্তমানে ইরাকের এক তৃতীয়াংশ ও সিরিয়ার এক চতুর্থাংশে শরীয়াহ প্রতিষ্ঠা ।

আন্সারুসশরীয়াহ (ইয়েমেন) :
২০১১ সালে জন্ম । এ যাবত আদন-আবিয়ান সহ প্রায় দুটি প্রদেশে শরীয়াহ প্রতিষ্ঠা ।

আন্সারুদ্দীন (মালি) :
সুচনা নব্বই দশকে । ২০১১ সালে দেশের দুই তৃতীয়াংশ দখলে ।

হরকতুশ শাবাবিল মুজাহিদীন (সোমালিয়া) :
নব্বই দশকে বিচ্ছিন্নভাবে শুরু হলেও আনুষ্ঠানিক যাত্রা ২০০৬ সালে । দেশের ৭০% তাদের দখলে এবং শরীয়াহ প্রতিষ্ঠিত আছে !

টিটিপি (পাকিস্তান) :
২০০৬ সালে যাত্রা । বর্তমানে খাইবার-পাখতুনখোয়াতে ৭০% এলাকায় শরীয়াহ প্রতিষ্ঠা ।

এবার আসুন এগুলোর উপর একটু পর্যালোচনা করি ।

১- আসল শত্রু স্বদেশী জনতা নয়, বরং বিদেশী ক্রুসেডার ও স্বদেশী দালাল ।
২- তারা রক্ত দিয়েছেন তবুও আদর্শ বদলান নি ।
৩- বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভিন্ন ভিন্ন নামে হলেও সবটাই একসুত্রে গাথা ।
৪- দিন যত যায় তাদের ভাঙ্গন ততো কমে । যেমন-সিরিয়ায় বর্তমানে পঞ্চাশোর্ধ দল দু'দলে রূপ নিয়েছে । আগামীতে একদলে ইনশাআল্লাহ !
৫- গণতান্ত্রিক পন্থায় সবচেয়ে কমবয়েসি দলের জন্ম ১৯৪১ সালে । জিহাদি পন্থায় সবচেয়ে বর্ষীয়ান দলের জন্ম নব্বই দশকে ।
৬- গণতান্ত্রিক পন্থায় বিশ্বের কোথাও এক সেকেন্ডের জন্যে একটি গ্রামেও শরীয়াহ প্রতিষ্ঠিত হয় নি ।
৭- উম্মাহের দুর্দিনে তাদের অবস্থান হচ্ছে, প্রথমে জিহাদের ঘোষণা, পরে বেছে-চেছে তাগুতকে জাহান্নামে প্রেরণ । যেমন-বর্তমানে মিসরে আন্সারুল বায়তিল মাকদিস করতেছে ।

বিঃদ্রঃ অনেকে হয়তো বলবেন, লিবিয়া সরকারতো সংসদে শরীয়াহ আইন পাশ করেছে, অথচ এটাতো গণতান্ত্রিক পন্থা !
আমরা বলবো, দেখুন, লিবীয় প্রধানমন্ত্রী আলী যাইদান সেদিন আমেরিকা-বৃটেনের কাছে সামরিক সহায়তা চেয়েছেন, বুঝতেই পারছেন এটা সৌদী আরবের শরীয়াহ (!) । নবীজীর নয় ।
তাছাড়া এটাতো গণতান্ত্রিক পন্থায় নয়, বরং যখন গাদ্দাফির পতন হয় তখন এনসিসি প্রধান মুস্তফা আব্দুল জলীল বলেন, শরীয়াই হবে লিবীয় আইনের মুল উতস ।
তিনি সুদকে নিষিদ্ধ করে এবং একাধিক বিবাহের বৈধতা দিয়ে দেশে ডিক্রি জারি করেন ।

গাদ্দাফির পতন কি গণতান্ত্রিক পন্থায় হয়েছিল ?










রবিবার, ১৬ মার্চ, ২০১৪

‘ইসলামী গণতন্ত্র’ ধারনাটি একটি ধোঁকা


 
 
 
‘ইসলামী গণতন্ত্র’ ধারনাটি একটি ধোঁকা বৈ কিছু নয় !
***********************************

গণতন্ত্র একটি মতবাদ। অন্যসব মতবাদের ন্যায় গণতন্ত্রও মানব সভ্যতাকে অর্থবহ করতে চায়। মুসলমান হিসাবে মানবতার স্বার্থে আমরা এ মতবাদকে স্বাগত জানাব কিনা ভেবে দেখার প‌্রয়োজন রয়েছে। সমাজতন্ত্রের অপমৃত্যুর পর বিশ্ব আজ গণতন্ত্র ও ইসলাম এ দুটি শিবিরে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। নতুন বিশ্ব ব্যবস্থায় ইসলামের শত্রুরা ইসলামের বিরুদ্ধে যে হাতিয়ারগুলো ব্যবহার করছে তার মধ্যে গণতন্ত্র একটি সুদূর প্রসারী ও স্বয়ংক্রিয় হাতিয়ার। গণতন্ত্রে বিশ্বাসী মুসলমান ধাপে ধাপে গনতান্ত্রিক আদর্শে উজ্জীবিত হয় এবং কুরআন-সুন্নাহর সিদ্ধান্ত বিসর্জন দেয়। এমতাবস্থায় কেউ যদি ইসলামের অনুকূলে গণতন্ত্রকে সংজ্ঞায়িত করেন তাহলে ব্যাপারটি হবে হাস্যকর।

* গণতন্ত্রের সমর্থনে কুরআন ও হাদীসে কোন দলিল নেই। বরং বিপক্ষে অনেক আয়াত ও হাদীস রয়েছে। দেখুনঃ সুরা আন-আমঃ ১১৬, সুরা ইউসুফঃ ১০৩, ৩২, ৪৫, সুরা বাক্বারাঃ ২৪৯, সুরা নিসাঃ ৫৯, সুরা মায়েদাঃ ৪৪ এছাড়াও অসংখ্য হাদীস।

* গণতন্ত্রের মাধ্যমে ইসলাম প্রতিষ্ঠা করা স্বপ্ন মাত্র।

*গনতন্ত্রে মহিলা পুরুষ উভয়ের সাক্ষী(ভোট) সমান। শুধু কি তাই, গণতন্ত্রে জ্ঞানী ও মূর্খের ভোট সমান সমান।

* “ভোটার হওয়ার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট বয়সই মাপকাঠি, হোক সে অশিক্ষিত বা মানসিক রোগী কিম্বা অপরাধী” – ইসলাম এটি সমর্থন করেনা। ভোটার হওয়ার ক্ষেত্রে ইসলাম শুধু জ্ঞানকেই মাপকাঠি নির্ধারন করেছে। এখানেই গণতন্ত্রের সাথে ইসলামের বড় অমিল।

* নিজের জন্য ভোট প্রার্থনা করা ইসলাম সমর্থন করেনা।

* গণতান্ত্রিক সরকার নিজ খেয়ালখুশি মত আইন প্রনয়ন, পরিবর্তন, সংশোধন, সংযোজন, বিয়োজন সবই করতে পারে। যা জাতির জন্য ভয়াবহ রকমের অকল্যান বয়ে আনে।

* নৈতিকতার কোন বালাই নেই গণতন্ত্রে। জরায়ুর স্বাধীনতা, সমকামিতা কোন মতামতকেই বর্জন করতে বাধ্য নয় গনতন্ত্র।

* গনতান্ত্রিক বিশ্বাসে ধর্ম অবশ্যই রাজনীতি বিবর্জিত।

* গণতন্ত্রে দুর্নীতির ব্যাপক বিস্তার ঘটে ।

* সমাজে জ্ঞানী ব্যাক্তির চেয়ে মূর্খ ব্যাক্তি সংখ্যায় বেশী, তাই ঢালাওভাবে সকলের মত গ্রহন করলে অযোগ্য লোকের ক্ষমতায় অধিষ্ঠত হওয়ার সম্ভাবনা ১০০ তে ৯৯।

* অধিকাংশ ক্ষেত্রে গণতান্ত্রিক সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠের সরকার হতে পারেনা, যদিও প্রচার করা হয় “গনতান্ত্রিক সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠের সরকার। ধরুন আমার দেশে ১০০ জন মানুষ। তিন জন প্রার্থী । নির্বাচনের ফলাফল হল একজন পেয়েছে ৪০ ভোট, দ্বিতীয় জন ৩৫ ভোট, তৃতীয়জন ২৫ ভোট। তাহলে গনতন্ত্রের বিচারে ৪০ ভোট যিনি পেয়েছে সেই নির্বাচিত। তাহলে সংখা গরিষ্ঠতা কোথায় ? ৪০ এর বিপরীতে যে ৬০ কাজেই গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে স্বয়ং গণতন্ত্রের বাস্তবতাও নেই।

*সমসাময়িক বাস্তব নমুনাঃ
আলজেরিয়াতে ইসলামিক স্যালভেশন ফ্রন্ট ব্যাপক পপুলার ভোটে জয়ী হওয়া সত্ত্বেও অগনতান্ত্রিক ভাবে নির্বাচন বাতিল করা হয়েছে এবং ইসলামিক স্যালভেশন ফ্রন্ট কে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। মিশরেও ইখওয়ানের রাজনীতি অগনতান্ত্রিক ভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। গাযাতে ইসলামিক দল কে ভোট দেয়ার অপরাধে সেখানকার জনগনকে ৩ বছর ধরে অবরূদ্ধ করে রাখা হয়েছে। এখানে কেউ মানবাধিকারের গল্প শুনায় না। কেউ জনগনের অধিকারের গল্পও শুনায় না।

ইসলাম ও গণতন্ত্র বিপরীতমুখী জীবনাদর্শ। গণতন্ত্র যেহেতু অধিক প্রচলিত এবং বর্তমান পৃথিবীর পরিচালকরা এটি পরিচালনা করেন, তাই এটির সাথে ইসলাম মেশালে ইসলামও শক্তিশালী হবে, অধিক প্রচলিত হবে, প্রতিষ্ঠিত হবে-এই চিন্তা এবং কর্মকে বলা হচ্ছে হিকমত বা কৌশল।

আমার প্রশ্ন ইসলাম কি এতই ফকির যে গণতন্ত্রের কাছে হাত পাততে হবে ?

তাই যারা ইসলামের সাথে গণতন্ত্রের সমন্বয় করতে চান তাদেরকে কিছু চিন্তার খোরাক দিলাম।

http://www.kalerkantho.com/print-edition/industry-business/2014/03/16/62247