‘ইসলামী গণতন্ত্র’ ধারনাটি একটি ধোঁকা বৈ কিছু নয় !
***********************************
গণতন্ত্র একটি মতবাদ। অন্যসব মতবাদের ন্যায় গণতন্ত্রও মানব সভ্যতাকে অর্থবহ করতে চায়। মুসলমান হিসাবে মানবতার স্বার্থে আমরা এ মতবাদকে স্বাগত জানাব কিনা ভেবে দেখার প্রয়োজন রয়েছে। সমাজতন্ত্রের অপমৃত্যুর পর বিশ্ব আজ গণতন্ত্র ও ইসলাম এ দুটি শিবিরে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। নতুন বিশ্ব ব্যবস্থায় ইসলামের শত্রুরা ইসলামের বিরুদ্ধে যে হাতিয়ারগুলো ব্যবহার করছে তার মধ্যে গণতন্ত্র একটি সুদূর প্রসারী ও স্বয়ংক্রিয় হাতিয়ার। গণতন্ত্রে বিশ্বাসী মুসলমান ধাপে ধাপে গনতান্ত্রিক আদর্শে উজ্জীবিত হয় এবং কুরআন-সুন্নাহর সিদ্ধান্ত বিসর্জন দেয়। এমতাবস্থায় কেউ যদি ইসলামের অনুকূলে গণতন্ত্রকে সংজ্ঞায়িত করেন তাহলে ব্যাপারটি হবে হাস্যকর।
* গণতন্ত্রের সমর্থনে কুরআন ও হাদীসে কোন দলিল নেই। বরং বিপক্ষে অনেক আয়াত ও হাদীস রয়েছে। দেখুনঃ সুরা আন-আমঃ ১১৬, সুরা ইউসুফঃ ১০৩, ৩২, ৪৫, সুরা বাক্বারাঃ ২৪৯, সুরা নিসাঃ ৫৯, সুরা মায়েদাঃ ৪৪ এছাড়াও অসংখ্য হাদীস।
* গণতন্ত্রের মাধ্যমে ইসলাম প্রতিষ্ঠা করা স্বপ্ন মাত্র।
*গনতন্ত্রে মহিলা পুরুষ উভয়ের সাক্ষী(ভোট) সমান। শুধু কি তাই, গণতন্ত্রে জ্ঞানী ও মূর্খের ভোট সমান সমান।
* “ভোটার হওয়ার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট বয়সই মাপকাঠি, হোক সে অশিক্ষিত বা মানসিক রোগী কিম্বা অপরাধী” – ইসলাম এটি সমর্থন করেনা। ভোটার হওয়ার ক্ষেত্রে ইসলাম শুধু জ্ঞানকেই মাপকাঠি নির্ধারন করেছে। এখানেই গণতন্ত্রের সাথে ইসলামের বড় অমিল।
* নিজের জন্য ভোট প্রার্থনা করা ইসলাম সমর্থন করেনা।
* গণতান্ত্রিক সরকার নিজ খেয়ালখুশি মত আইন প্রনয়ন, পরিবর্তন, সংশোধন, সংযোজন, বিয়োজন সবই করতে পারে। যা জাতির জন্য ভয়াবহ রকমের অকল্যান বয়ে আনে।
* নৈতিকতার কোন বালাই নেই গণতন্ত্রে। জরায়ুর স্বাধীনতা, সমকামিতা কোন মতামতকেই বর্জন করতে বাধ্য নয় গনতন্ত্র।
* গনতান্ত্রিক বিশ্বাসে ধর্ম অবশ্যই রাজনীতি বিবর্জিত।
* গণতন্ত্রে দুর্নীতির ব্যাপক বিস্তার ঘটে ।
* সমাজে জ্ঞানী ব্যাক্তির চেয়ে মূর্খ ব্যাক্তি সংখ্যায় বেশী, তাই ঢালাওভাবে সকলের মত গ্রহন করলে অযোগ্য লোকের ক্ষমতায় অধিষ্ঠত হওয়ার সম্ভাবনা ১০০ তে ৯৯।
* অধিকাংশ ক্ষেত্রে গণতান্ত্রিক সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠের সরকার হতে পারেনা, যদিও প্রচার করা হয় “গনতান্ত্রিক সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠের সরকার। ধরুন আমার দেশে ১০০ জন মানুষ। তিন জন প্রার্থী । নির্বাচনের ফলাফল হল একজন পেয়েছে ৪০ ভোট, দ্বিতীয় জন ৩৫ ভোট, তৃতীয়জন ২৫ ভোট। তাহলে গনতন্ত্রের বিচারে ৪০ ভোট যিনি পেয়েছে সেই নির্বাচিত। তাহলে সংখা গরিষ্ঠতা কোথায় ? ৪০ এর বিপরীতে যে ৬০ কাজেই গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে স্বয়ং গণতন্ত্রের বাস্তবতাও নেই।
*সমসাময়িক বাস্তব নমুনাঃ
আলজেরিয়াতে ইসলামিক স্যালভেশন ফ্রন্ট ব্যাপক পপুলার ভোটে জয়ী হওয়া সত্ত্বেও অগনতান্ত্রিক ভাবে নির্বাচন বাতিল করা হয়েছে এবং ইসলামিক স্যালভেশন ফ্রন্ট কে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। মিশরেও ইখওয়ানের রাজনীতি অগনতান্ত্রিক ভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। গাযাতে ইসলামিক দল কে ভোট দেয়ার অপরাধে সেখানকার জনগনকে ৩ বছর ধরে অবরূদ্ধ করে রাখা হয়েছে। এখানে কেউ মানবাধিকারের গল্প শুনায় না। কেউ জনগনের অধিকারের গল্পও শুনায় না।
ইসলাম ও গণতন্ত্র বিপরীতমুখী জীবনাদর্শ। গণতন্ত্র যেহেতু অধিক প্রচলিত এবং বর্তমান পৃথিবীর পরিচালকরা এটি পরিচালনা করেন, তাই এটির সাথে ইসলাম মেশালে ইসলামও শক্তিশালী হবে, অধিক প্রচলিত হবে, প্রতিষ্ঠিত হবে-এই চিন্তা এবং কর্মকে বলা হচ্ছে হিকমত বা কৌশল।
আমার প্রশ্ন ইসলাম কি এতই ফকির যে গণতন্ত্রের কাছে হাত পাততে হবে ?
তাই যারা ইসলামের সাথে গণতন্ত্রের সমন্বয় করতে চান তাদেরকে কিছু চিন্তার খোরাক দিলাম।
***********************************
গণতন্ত্র একটি মতবাদ। অন্যসব মতবাদের ন্যায় গণতন্ত্রও মানব সভ্যতাকে অর্থবহ করতে চায়। মুসলমান হিসাবে মানবতার স্বার্থে আমরা এ মতবাদকে স্বাগত জানাব কিনা ভেবে দেখার প্রয়োজন রয়েছে। সমাজতন্ত্রের অপমৃত্যুর পর বিশ্ব আজ গণতন্ত্র ও ইসলাম এ দুটি শিবিরে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। নতুন বিশ্ব ব্যবস্থায় ইসলামের শত্রুরা ইসলামের বিরুদ্ধে যে হাতিয়ারগুলো ব্যবহার করছে তার মধ্যে গণতন্ত্র একটি সুদূর প্রসারী ও স্বয়ংক্রিয় হাতিয়ার। গণতন্ত্রে বিশ্বাসী মুসলমান ধাপে ধাপে গনতান্ত্রিক আদর্শে উজ্জীবিত হয় এবং কুরআন-সুন্নাহর সিদ্ধান্ত বিসর্জন দেয়। এমতাবস্থায় কেউ যদি ইসলামের অনুকূলে গণতন্ত্রকে সংজ্ঞায়িত করেন তাহলে ব্যাপারটি হবে হাস্যকর।
* গণতন্ত্রের সমর্থনে কুরআন ও হাদীসে কোন দলিল নেই। বরং বিপক্ষে অনেক আয়াত ও হাদীস রয়েছে। দেখুনঃ সুরা আন-আমঃ ১১৬, সুরা ইউসুফঃ ১০৩, ৩২, ৪৫, সুরা বাক্বারাঃ ২৪৯, সুরা নিসাঃ ৫৯, সুরা মায়েদাঃ ৪৪ এছাড়াও অসংখ্য হাদীস।
* গণতন্ত্রের মাধ্যমে ইসলাম প্রতিষ্ঠা করা স্বপ্ন মাত্র।
*গনতন্ত্রে মহিলা পুরুষ উভয়ের সাক্ষী(ভোট) সমান। শুধু কি তাই, গণতন্ত্রে জ্ঞানী ও মূর্খের ভোট সমান সমান।
* “ভোটার হওয়ার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট বয়সই মাপকাঠি, হোক সে অশিক্ষিত বা মানসিক রোগী কিম্বা অপরাধী” – ইসলাম এটি সমর্থন করেনা। ভোটার হওয়ার ক্ষেত্রে ইসলাম শুধু জ্ঞানকেই মাপকাঠি নির্ধারন করেছে। এখানেই গণতন্ত্রের সাথে ইসলামের বড় অমিল।
* নিজের জন্য ভোট প্রার্থনা করা ইসলাম সমর্থন করেনা।
* গণতান্ত্রিক সরকার নিজ খেয়ালখুশি মত আইন প্রনয়ন, পরিবর্তন, সংশোধন, সংযোজন, বিয়োজন সবই করতে পারে। যা জাতির জন্য ভয়াবহ রকমের অকল্যান বয়ে আনে।
* নৈতিকতার কোন বালাই নেই গণতন্ত্রে। জরায়ুর স্বাধীনতা, সমকামিতা কোন মতামতকেই বর্জন করতে বাধ্য নয় গনতন্ত্র।
* গনতান্ত্রিক বিশ্বাসে ধর্ম অবশ্যই রাজনীতি বিবর্জিত।
* গণতন্ত্রে দুর্নীতির ব্যাপক বিস্তার ঘটে ।
* সমাজে জ্ঞানী ব্যাক্তির চেয়ে মূর্খ ব্যাক্তি সংখ্যায় বেশী, তাই ঢালাওভাবে সকলের মত গ্রহন করলে অযোগ্য লোকের ক্ষমতায় অধিষ্ঠত হওয়ার সম্ভাবনা ১০০ তে ৯৯।
* অধিকাংশ ক্ষেত্রে গণতান্ত্রিক সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠের সরকার হতে পারেনা, যদিও প্রচার করা হয় “গনতান্ত্রিক সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠের সরকার। ধরুন আমার দেশে ১০০ জন মানুষ। তিন জন প্রার্থী । নির্বাচনের ফলাফল হল একজন পেয়েছে ৪০ ভোট, দ্বিতীয় জন ৩৫ ভোট, তৃতীয়জন ২৫ ভোট। তাহলে গনতন্ত্রের বিচারে ৪০ ভোট যিনি পেয়েছে সেই নির্বাচিত। তাহলে সংখা গরিষ্ঠতা কোথায় ? ৪০ এর বিপরীতে যে ৬০ কাজেই গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে স্বয়ং গণতন্ত্রের বাস্তবতাও নেই।
*সমসাময়িক বাস্তব নমুনাঃ
আলজেরিয়াতে ইসলামিক স্যালভেশন ফ্রন্ট ব্যাপক পপুলার ভোটে জয়ী হওয়া সত্ত্বেও অগনতান্ত্রিক ভাবে নির্বাচন বাতিল করা হয়েছে এবং ইসলামিক স্যালভেশন ফ্রন্ট কে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। মিশরেও ইখওয়ানের রাজনীতি অগনতান্ত্রিক ভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। গাযাতে ইসলামিক দল কে ভোট দেয়ার অপরাধে সেখানকার জনগনকে ৩ বছর ধরে অবরূদ্ধ করে রাখা হয়েছে। এখানে কেউ মানবাধিকারের গল্প শুনায় না। কেউ জনগনের অধিকারের গল্পও শুনায় না।
ইসলাম ও গণতন্ত্র বিপরীতমুখী জীবনাদর্শ। গণতন্ত্র যেহেতু অধিক প্রচলিত এবং বর্তমান পৃথিবীর পরিচালকরা এটি পরিচালনা করেন, তাই এটির সাথে ইসলাম মেশালে ইসলামও শক্তিশালী হবে, অধিক প্রচলিত হবে, প্রতিষ্ঠিত হবে-এই চিন্তা এবং কর্মকে বলা হচ্ছে হিকমত বা কৌশল।
আমার প্রশ্ন ইসলাম কি এতই ফকির যে গণতন্ত্রের কাছে হাত পাততে হবে ?
তাই যারা ইসলামের সাথে গণতন্ত্রের সমন্বয় করতে চান তাদেরকে কিছু চিন্তার খোরাক দিলাম।
http://www.kalerkantho.com/print-edition/industry-business/2014/03/16/62247

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন