শনিবার, ২৯ মার্চ, ২০১৪

গনতন্ত্র আসলেই ধোঁকাতন্ত্র

গনতন্ত্র কি আসলেই ধোঁকাতন্ত্র ???
গনতন্ত্রিক পদ্ধতিতে সাধারনত কম সংখ্যক লোকেরা দেশের শাসন চালায়। যেমন ধরা যাক একটি নির্বাচনী এলাকায় তিন থেকে চার পাঁচজন প্রার্থী থাকে। তার মধ্যে একজন প্রার্থী ভোট পেল ১০ হাজার, একজন পেল ১২ হাজার, আর একজন পেল ১৪ হাজার, আর বাহিরে থাকল (১০+১২+১৪=৩৬) মোট ৩৬ হাজার ভোট।
তাহলে দেখা গেল এই ৩৬ হাজার ভোটারদের ভোট মাঠে মারা গেল, তাদের সমর্থন কোনো কাজে আসল না। এই অধিক সংখ্যক ভোটারের মত, তাদের ইচ্ছা রাষ্ট্রের কাজে কোনো প্রভাব ফেলতে পারল না। অথচ অল্প সংখ্যক ভোট পেয়ে একজন প্রার্থী নির্বাচিত হয়ে গেল প্রচলিত গনতান্ত্রিক সিস্টেমে। এভাবে অল্প সংখ্যক ভোট পেয়েও সদস্যরা পার্লামেন্টে আসে।
এরপর আরও মজার ব্যাপার হলো- পার্লামেন্টের সদস্য সংখ্যা সর্বমোট ৩০০ জন। এই ৩০০ জনের মধ্যে অন্তত ১৫১ জন যখন কাউকে সমর্থন করে তবে সে সরকার গঠন করে। এই ১৫১ জন লোকের প্রাপ্ত ভোট যদি গণনা করা হয় আর এর বাইরে যারা রয়ে গেল তাদের ভোট সংখ্যা গণনা করা হয় তাহলেও দেখা যাবে অনেক ক্ষেত্রে সরকারের বাইরে থাকা লোকদের পক্ষে বেশি সংখ্যক লোকদের সমর্থন(ভোট) রয়েছে। এখানেও দেখা যায় গণতান্ত্রিক সিস্টেমে মাইনরিটি বা কমসংখ্যক লোকেরাই শাসন ক্ষমতার মালিক হয়ে বসে।
এরপর মনে করুন একটা পার্টির মধ্যে ১৬০ জন সদস্য পার্লামেন্ট মেম্বার। এখন সেই পার্টির মধ্যে আবার বিভিন্ন নেতার সমর্থিত ব্যাক্তি হয় প্রধানমন্ত্রী। অন্য গ্রুপের মধ্যে যার লোক সংখ্যা বেশি তাদের সমর্থিত ব্যাক্তি হয় প্রধানমন্ত্রী। অন্য গ্রুপের যে মত তা সেখানে ব্যর্থ হয়ে যায়।
আবার যখন মন্ত্রী পরিষদ গঠন করা হয় তখনো ঐ ১৬০ জন সদস্য আর মন্ত্রী-মিনিস্টার হতে পারে না। অল্প কয়েকজন সদস্যই কেবল সে সুযোগ পায়। তাদের হাতেই থাকে দেশের সর্বময় ক্ষমতা। ফলে সরকারের সমর্থনেও যে বাকি সদস্যরা রইলেন তাদের মতও অনেক সময় কার্যকর হয় না। তাদের সপক্ষে যে জনগণ ভোট দিয়েছিল তাদের আশাও পূর্ন হয় না।
এভাবে যে কোনো দিক দিয়ে বিচার করলেই দেখা যাবে, গণতান্ত্রিক সিস্টেমে অল্প সংখ্যক লোকেরাই শাসনের আসল সুবিধা ভোগ করে। অর্থাৎ মাইনরিটি বা কম সংখ্যক লোক দ্বারা দেশ শাসিত হয়।

তাই বলতে হয়, গণতন্ত্র আসলে ধোঁকাতন্ত্র- একটা বাস্তব প্রতারণা ছাড়া আর কিছুই নয়। এ এমন এক প্রতারনা যা দিনের উজ্জ্বল আলোতেই সবাইকে দেয়া হচ্ছে, অথচ কেউ বুঝতে পারছে না। তদুপরি গণতন্ত্রটা একটা বিরাট ধোঁকা হয় তখন, যখন একে মেজরটি লোকের শাসন বলে সাধারণ মানুষকে বোঝানো হয়।









''জাতীয়তাবাদের ওপর যে মৃত্যুবরণ করে, জাতীয়তাবাদের দিকে যে আহ্বান করে এবং জাতীয়তাবাদের জন্য যে হত্যা করে সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।''
(সুনানে আবু দাউদ)
''যে জাতীয়তাবাদ তথা আসাবিয়্যার জাহেলী আহবানের দিকে মানুষকে ডাকে সে যেন তার পিতার লজ্জাস্থান কামড়ে ধরে পড়ে আছে (তাকে ছাড়তে চাইছে না)। এরপর রাসূলুল্লাহ (সা) বলেন, এবং একথাটি লুকিয়ে রেখো না অর্থাৎ বলার ক্ষেত্রে কোনো লজ্জা বা অস্বস্তিবোধ করোনা।" মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ২১২৩৬
''জাতীয়তাবাদের ওপর যে মৃত্যুবরণ করে, জাতীয়তাবাদের দিকে যে আহ্বান করে এবং জাতীয়তাবাদের জন্য যে হত্যা করে সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।''
(সুনানে আবু দাউদ)

''যে জাতীয়তাবাদ তথা আসাবিয়্যার জাহেলী আহবানের দিকে মানুষকে ডাকে সে যেন তার পিতার লজ্জাস্থান কামড়ে ধরে পড়ে আছে (তাকে ছাড়তে চাইছে না)। এরপর রাসূলুল্লাহ (সা) বলেন, এবং একথাটি লুকিয়ে রেখো না অর্থাৎ বলার ক্ষেত্রে কোনো লজ্জা বা অস্বস্তিবোধ করোনা।" মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ২১২৩৬




শুক্রবার, ২১ মার্চ, ২০১৪

গণতন্ত্র একটি বাতিল ও কুফুরি মতোবাদ



 
 
 
 
 
 
 
 
গণতন্ত্র একটি বাতিল ও কুফুরি মতোবাদ ও ইহা একটি দাজ্জালি শক্তি !!!!!!!!
আসসালামুয়ালাইকুমপোস্টটা একটু বড় হলেও সম্পূর্ণ পড়বেন ইনশাল্লাহঃ-
1. আমার ইসলাম প্রিয় ভাই-বোনেরা আল্লাহর কাছে দুয়া করি যেন আল্লাহ আমাদের সকল প্রকার জালিম এর অত্যাচার থেকে রক্ষা করেন । মনে হচ্ছে কলমের কালি (প্রতিবাদী রক্ত) শেষ হয়ে আসছে । চার পাশে যেমন আল্লাহ্র বিধানকে অস্বীকারকারী আর মিথ্যুক ভণ্ড ঈমানদারের সংখ্যা বেড়ে চলছে তেমন পর্দাহীন নারীর সংখ্যাও তুফানের গতিতে বাড়ছে।মহান আল্লাহ্ বলেনঃ " আর মানুষের মধ্যে কিছু লোক এমন রয়েছে যারা বলে, আমরা আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান এনেছি অথচ আদৌ তারা ঈমানদার নয়। তারা আল্লাহ এবং ঈমানদারগণকে ধোঁকা দেয়। অথচ এতে তারা নিজেদেরকে ছাড়া অন্য কাউকে ধোঁকা দেয় না অথচ তারা তা অনুভব করতে পারে না। (সুরা আল বাকারাঃ ৮-৯) সমাজে আল্লাহর বিধান নিয়ে অনেকেই খেলায় মেতেছে। যেমন অত্যাচারের পরিমাণ বাড়ছে তেমনি বাড়ছে হিংসা আর মানুষ খুন।চলন্ত গাড়িতে যেমন একটি কুকুর বা মুরগী বা ছাগল চাপা পরলে সামান্য কষ্ট লাগে কিন্তু একজন মানুষ চাকার নিচে পরলে মানুষের হৃদয়ের মধ্যে দরদ আজকাল ততটুকুও দেখা যায় না। কেমন আমাদের মনুষ্যত্ব কেমন আমরা আজকের মুসলিম জাতি?তারপরেও কি বলব আমরা মুসলিম???
আজকের সমাজে আমরা মানব রচিত বিধানকে জাতীর সমাধান মনে করছি আল্লাহর বিধান ত্যাগ করে। অথচ আল্লাহ্ আমাদের জন্য কি বিধান ভুল দিয়েছেন? (নাউজুবিল্লাহ)
# আল-কুরআনঃ "যাবতীয় ক্ষমতা শুধুমাত্র আল্লাহরই জন্য " [২:১৬৫]গনতন্ত্রঃ জনগনই সকল ক্ষমতার উৎস ।

# আল-কুরআনঃ "আল্লাহ ছাড়া কারও বিধান দেবার ক্ষমতা নেই। " [১২:৪০]গনতন্ত্রঃ আইন প্রণয়নের ক্ষমতা জনগন, সংসদ, মন্ত্রী-এমপির (মদ, পতিতালয় বৈধও হতে পারে) ।

# আল-কুরআনঃ আল্লাহ তাআলা সার্বভৌমত্বের মালিক। [৩:২৬]গনতন্ত্রঃ সার্বভৌমত্বের মালিক জনগন।

# আল-কুরআনঃ "(হে নবী) আপনি যদি অধিকাংশের রায়কে মেনে নেন তাহলে তারা দ্বীন থেকে বিচ্যুত করে ছাড়বে" [৬:১১৬]গনতন্ত্রঃ অধিকাংশ লোকের রায়ই চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত যদিও তা আল্লাহ্র আদেশের বিরুদ্ধে হয়।

# আল-কুরআনঃ "আল্লা’হ তা’আলা ক্রয়-বিক্রয় বৈধ করেছেন এবং সুদ হারাম করেছেন। " [২:২৭৫]গনতন্ত্রঃ গণতন্ত্র সূদভিত্তিক অর্থনীতি প্রতিষ্ঠা করে।
# আল-কুরআনঃ ব্যভিচার শাস্তিযোগ্যঅপরাধ। [২৪:২]গনতন্ত্রঃ সংসদ পতিতালয়ের (যিনা) লাইসেন্স দেয়।
# আল-কুরআনঃ মদ, জুয়া,লটারী নিষিদ্ধ। [৫:৯০]গনতন্ত্রঃ মদ এর লাইসেন্স দেয়। জুয়া,লটারী বৈধ।

# আল-কুরআনঃ "হে মুমিণগণ! তোমরা ইহুদী ও খ্রীষ্টানদেরকে বন্ধু হিসাবে গ্রহণ করো না।তারা একে অপরের বন্ধু। তোমাদের মধ্যে যে তাদের সাথে বন্ধুত্ব করবে,সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ জালেমদেরকে পথ প্রদর্শন করেন না।" [৫:৫১]গনতন্ত্রঃ কোন সমস্যা নাই। যার সাথে ইচ্ছা (আমেরিকা, ইসরাইল)বন্ধুত্ব কর।

এখন সিদ্ধান্ত আপনাদের হাতে “গনতন্ত্র” গ্রহন করবেন নাকি “ইসলাম”?

2. আমাদেশের দেশের অধিকাংশ মানুষের "গণতন্ত্র" সম্পর্কে সঠিক ধারনা নেই। তারা এই গণতন্ত্রকে হালাল মনে করে। তারা আসলে বুঝতে পারে না যে এটি একটি কুফুরী মতবাদ।

এই পোস্টে আমি গণতন্ত্রের আসল স্বরূপ উন্মোচন করার চেষ্টা করব ইনশাল্লাহ।

গণতন্ত্র হচ্ছে- অধিকাংশ মানুষের রায়। অর্থাৎ অধিকাংশ মানুষ যেটা বলবে সেটাই মেনে নেয়া হবে, এর নাম হচ্ছে গণতন্ত্র।কিন্তু মহান আল্লাহ বলেন-"আর যদি আপনি পৃথিবীর অধিকাংশ লোকের কথা মেনে নেন, তবে তারা আপনাকে আল্লাহর পথ থেকে বিপথগামী করে দেবে। তারা শুধু অলীক কল্পনার অনুসরণ করে এবং সম্পূর্ণ অনুমান ভিত্তিক কথাবার্তা বলে থাকে। আপনার প্রতিপালক তাদের সম্পর্কে খুব জ্ঞাত রয়েছেন, যারা তাঁর পথ থেকে বিপথগামী হয় এবং তিনি তাদেরকেও খুব ভাল করে জানেন, যারা তাঁর পথে অনুগমন করে। (সুরা আন'আমঃ ১১৬-১১৭)

এই আয়াত দ্বারা স্পষ্টভাবে বুঝা যায় যে, অধিকাংশ লোকের কথা মেনে নেয়া যাবেনা। আল্লাহ যেটা বলেছেন সেটাই মানতে হবে।আমি একটি উদাহরন দিয়ে বিসয়টি স্পট করার চেষ্টা করছি-আজ-কাল দূর পাল্লার নাইট কোচ বাস গুলোতে টিভি থাকে। ধরুন একটি বাসে টিভিতে অশ্লীল সিনেমা, নাচ-গান চলছে। সেই সিনেমাতে নারীদের অর্ধোলঙ্গ পোশাকে, অশালীন পোশাকে দেখানো হচ্ছে। এখন মুসলিমদের কি এটা দেখা বৈধ নাকি অবৈধ?এই ব্যাপারে মহান আল্লাহ বলেন-"মুমিনদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি নত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হেফাযত করে। এতে তাদের জন্য খুব পবিত্রতা আছে। নিশ্চয় তারা যা করে আল্লাহ তা অবহিত আছেন। (সুরা আন নুরঃ ৩০)তাই ঐ সিনেমা দেখা মুসলিমদের জন্য বৈধ নয় বরং হারাম।তাই একজন যাত্রী উঠে কন্ট্রাক্টারকে বলল- এই সিনেমা বন্ধ কর। তখন কন্ট্রাক্টার যাত্রীদের উদ্দেশে বলল- কে কে এই সিনেমা দেখতে চান না হাত উঠান। দেখা গেল বাসে মাত্র ৪/৫ জন যাত্রী হাত তুলল। আর বাকি ৩০/৩৫ জন-ই হাত উঠাল না অর্থাৎ তারা সিনেমা দেখার পক্ষে। তাহলে এখন গণতন্ত্র কি বলে?গণতন্ত্র অনুযায়ী হারাম জিনিস জয়ী হয়ে গেল।
আবার একজন পার্লামেন্ট মেম্বারের পদটা হলো সেই পদ যেখানে বসে আইন প্রণয়ন করা হয়। হালাল-হারাম নির্ধারন, যেটা সম্পূর্ণ একমাত্র আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতা'আলার এখতিয়ারে।মহান আল্লাহ আল্লাহ্ বলেন-" আল্লাহ ছাড়া কারও বিধান দেবার ক্ষমতা নেই। (সুরা ইউসুফঃ ৪০)

কিন্তু গণতন্ত্র অনুযায়ী সেই জায়গাটায় একজন ব্যক্তি নিজেকে বসিয়ে দেয়। হিন্দুদের বিশ্বাস মতে লক্ষীর মূর্তিটা কেবল সম্পদ দিতে পারে, বিদ্যার জন্য স্বরস্বতির কাছে যেতে হবে। কিন্তু আল্লাহর এখতিয়ারে থাকা কেবল একটা বিষয় নয় বরং আল্লাহ্ ছাড়া অন্য কারো কিছু করার ক্ষমতা আছে এমন দাবী করা বা বিশ্বাস করা শিরক। যে এমনটা দাবী করছে সে তাগুত (আল্লাহর বদলে যাদেরকে উপাসনা করা হয়)।

যে লোক পার্লামেন্ট মেম্বার পদে নির্বাচন করছে সে সরাসরি নিজেকে ঐ পদটার যোগ্য বলে স্বীকার করে নিয়েই নির্বাচন করছে। অর্থাৎ সন্দেহাতীতভাবে সে তাগুত। অনেকে বলে এটা ইসলামকে প্রতিষ্ঠা করা হিকমাহ। জি না। এটি ভুল পদ্ধতি। নিজেই তাগুত বনে যাওয়া হিকমাহ এর অংশ না কোনভাবেই। এটা কোন অবস্থাতেই জায়েজ নয়।

যারা ভোট দিচ্ছে তারা মূলত কয়েকটা তাগুতের মধ্য থেকে কোন তাগুতের উপাসনা করা হবে, কাকে মান্য করা যায় আগামী পাঁচ বছর সেটা সিদ্ধান্ত নেয়। এটাকে তুলনা করা যায় ঐ ঘটনার সাথে যে, দুর্গার পূজা হবে নাকি লক্ষীর পুজা হবে সেটা বসে সিদ্ধান্ত নিলাম। এর নামও হিকমাহ না। এর নাম শিরক। জবরদস্তির ক্ষেত্রে শিরক করা যায় ক্ষেত্রবিশেষে, কিন্তু এখানে ভোট দেবার জন্য কেউ কাউকে জোর করে না কখনও। ইচ্ছে করে শিরকে লিপ্ত হওয়া। হারাম সর্বাবস্থায়ই হারাম।

তাই গনতন্ত্র, সমাজতন্ত্র বা এর চেয়েও কোন ভাল ব্যাবস্থাপনা কেউ আবিষ্কার করলেও সেটা চলবে না, কারন আল্লাহ্ সুবানাহুতায়ালা তা নাকচ করে দিয়েছেন।মহান আল্লাহ্ বলেন-"যে লোক ইসলাম ছাড়া অন্য কোন ব্যাবস্থাপনার তালাশ করে, কস্মিণকালেও তা তার নিকট থেকে গ্রহণ করা হবে না এবং আখিরাতে সে হবে ক্ষতিগ্রস্তদের একজন। (সুরা আলে ইমরানঃ ৮৫)
তাই গনতন্ত্র, সমাজতন্ত্র তথা সকল প্রকার তন্ত্র-মন্ত্রই আল্লাহ্ চিরতরে হারাম করে দিয়েছেন।
তাই জ্ঞানী সমাজের প্রতি আমার আহ্বান আপনারা সচেতন হোন। হারাম পদ্ধতি বাদ দিয়ে আল্লাহ্র পথে ফিরে আসুন।

সোমবার, ১৭ মার্চ, ২০১৪

*কোন পথে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হবে?


আসলে কোন পথে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হবে? দাওয়াহ? গণতন্ত্র? নুসরাহ? জিহাদ? নাকি অন্য কোন পথে??

আমার মনে হয় বর্তমানে এই প্রশ্নটিই ইসলামিস্টদের সবচেয়ে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে। আর তাই এই প্রশ্নটির উত্তর খোঁজার জন্যই আমরা শুরু করতে যাচ্ছি KAIZEN নামে এক ধারাবাহিক সিরিজ। KAIZEN একটি জাপানী শব্দ যার অর্থ Continuous Development. এর প্রতিটি পর্ব পূর্বোক্তটির সাথে যেমন সম্পৃক্ত তেমনি নিজেও স্বতন্ত্র, পড়তে অসুবিধা হবে না। ইনশাআল্লাহ এর মাধ্যমে আমরা তাত্তিক এবং প্রায়োগিকভাবে দ্বীনকে বিজয়ী করার বিভিন্ন Tools এর কার্যকারিতা ও সীমাবদ্ধতা অনুসন্ধান করবো। এবং সর্বোপরি আমরা এমন একটা THEORY দাড় করানোর চেষ্ট করবো যা তাত্ত্বিক ও প্রায়োগিক উভয়দিক থেকেই কার্যকর। মোটামোটিভাবে আমার আলোচনার স্কীমটা নিম্নরুপঃ

* দ্বীন কি বিজয়ী হবে? হলে কতটুকু হবে?
* ইসলামী রাষ্ট্রের প্যারামিটারগুলো কি কি?
* ইসলামী আন্দোলন বলতে আসলে কি বুঝায়?
* গণতন্ত্র কি কুফরি?
* ইসলামিক রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপ্রধান কিভাবে নির্বাচিত হবেন?
* গণতন্ত্রের দৌড় বা পাল্লা কতটুকু?
* গণতন্ত্রের পেন্ডুলাম গতির কারন অনুসন্ধান
* গণতান্ত্রিক পদ্ধতি কি খোদ গণতন্ত্রকেই ধ্বংস করতে পারবে?
* হক্ক ও বাতিলের সংঘর্ষ অনিবার্য কেন?
* দাওয়াহ & জিহাদ : ডিমসিদ্ধ করার তত্ত্ব
* উস্তাদ মওদুদী রহঃ আসলে কি চেয়েছিলেন?
* Philosophy অব Jihad
* জিহাদের স্তরসমূহ
* Fiqhul JIHAD/ Rullings of JIHAD
* তাকফির ও খারেজী ইস্যু
* রাষ্ট্রপ্রধানকে কাফির সাব্যস্ত করার মূলনীতি
* মন্ত্রী এমপিদের হত্যা করে কি দ্বীন কায়েম করা যাবে?
* STEPS BEFORE TAKING WEAPONS!
* NUSRAH AND...
* PROBABILITY OF A GLOBAL JIHAD
* A COMBINED THEORY

অবশ্য যেকোন প্রয়োজনে উপরোক্ত সূচীর পরিবর্তন হতে পারে।

যেকোন পর্বের লেখা #KaizenSeries লিখে সার্চ দিলেই পাওয়া যাবে। এই পর্ব KaizenSeries : 0. আজ রাতেই #KaizenSeries : 1 বের হবে। এরপর 2,3... এভাবে চলতে থাকবে। এছাড়া সহজে খুঁজে পাওয়ার জন্য Sub Topics হিসেবে

#VICTORY
#DEMOCRACY
#ISLAMIC_STATE
#ISLAMIC_MOVEMENT #JIHAD
#DAWAH
#NUSRAH
#TAKFIR প্রভৃতিও পর্ব অনুসারে থাকবে। ইনশাআল্লাহ শীঘ্রই লেখালেখির পাশাপাশি অন্যান্য উপায় যেমন লেকচার প্রশ্নোত্তর এগুলোর সাহায্যও নেওয়া হবে।

[এই গবেষণা কাজের সুবিধার্থে যে কেউ এই রিলেটেড কোন আর্টিকেলের লিঙ্ক কিংবা ভালোমানের বই ইনবক্সে সাজেস্ট করতে পারেন। ইনশাআল্লাহ Each & Every মত ও পথ ধর্তব্যের মধ্যে আনা হবে।]


Zakir Zxj
....... ........ .......

#KaizenSeries : 0



গণতান্ত্রিক পন্থায় শরীয়াহ প্রতিষ্ঠা : ইতিহাস নির্ভর পর্যালোচনা

গণতান্ত্রিক পন্থায় শরীয়াহ প্রতিষ্ঠা : একটি ইতিহাস নির্ভর পর্যালোচনা
•••••••••••••••••••••••••••••••••••

মুসলিমদেশসমূহের অনেক ইসলামি দল গণতান্ত্রিক পন্থায় ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্যে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছে । যদিও এসব দল দ্বারা ইসলামের অনেক খেদমত হয়েছে যা অস্বীকার করার উপায় নেই । কিন্তু ইসলাম প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে তারা প্রায় ব্যর্থ হয়েছেন ।
আমরা এখানে বিশ্বের প্রাচীন একাধিক দেশে ইসলামি রাজনীতি চর্চাকারী তিনটি বৃহত ইসলামি দলের শুধু শরীয়াহ প্রতিষ্ঠার ব্যর্থতা তুলে ধরব ।

জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম :
১৯১৯ সালে ভারতবর্ষকে ব্রিটিশদের গোলামী থেকে মুক্ত করার লক্ষ্যে এ দলের প্রতিষ্ঠা হয় । ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে এদলের অনেক শীর্ষনেতাসহ কর্মিরা নির্যাতন ভোগ করেন ।
১৯৪৭ সালে যখন ব্রিটিশরা এদেশকে চলে যায় তখন এদলটি দু-ভাগে বিভক্ত হয়ে যায় ।

১-জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ : তারা ভারতেই থেকে যান । কিন্তু তারা রাজনৈতিক অবস্থান থেকে সরে এসে দাওয়াতি সংগঠনে রূপ নেন । কিন্তু যেহেতু ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে এদলের অবদান অপরীসীম, তাই ভারত সরকার তাদেরকে পার্লামেন্টে চিরস্থায়ী কয়েকটি সংরক্ষিত আসন দেয় । তখন থেকেই তারা কংগ্রেসকে সমর্থন দিয়ে আসছেন ।

জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম পাকিস্তান : পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর তারা রাজনৈতিক চর্চা শুরু করেন । অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে এদল একবার সত্তরদশকে পাকিস্তানের সীমান্ত প্রদেশে সংখ্যাগরিষ্ট আসন পেয়ে দলটির প্রধান মুফতি মাহমুদ রাহ. উক্তপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী নিযুক্ত হন । তিনি মুখ্যমন্ত্রী নিযুক্ত হবার পর সীমান্ত প্রদেশে মদ-সুদ ইত্যাদি নিষিদ্ধ করেন । কিন্তু তা কার্যকর হবার পুর্বেই ক্ষমতাসীন জুলফিকার আলী ভুট্টো সরকার তাকে পদচ্যুত করে !!
বর্তমানে তার ছেলে মাওলানা ফজলুর রহমান সাহেবের নেতৃত্বে জমিয়ত পরিচালিত হচ্ছে । বিগত কয়েক নির্বাচনে তাদের অবস্থা হচ্ছে-

নব্বই দশকে বেনজীর ভুট্টোর সাথে জোট গঠন । বিগত নির্বাচনে এককভাবে ১২ আসন অর্জন । এর আগে ৪ । এর পুর্বে সব ইসলামি দলের সাথে জোট করে ৫৩ আসন । একবার সীমান্ত প্রদেশে মুখ্যমন্ত্রী হলেও সেখানে শরীয়াহ প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থ ।
উল্লেখ্য, এ দলটির মধ্যে একাধিকবার ভাঙ্গন সৃষ্টি হয় । বর্তমানে পাকিস্তানে জমিয়ত এফ এবং এস নামে দুটি দল আছে ।

জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ : স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে তাদের কার্যক্রম উল্লেখযোগ্য । দলটির মহাসচিব মুফতি ওয়াক্কাস সাহেব (বর্তমানে কারাগারে আল্লাহ তাকে রহম করুন) তিন প্রতীক(লাঙ্গল, খেজুরগাছ ও ধান) নিয়ে তিন তিনবারের নির্বাচিত এমপি । এরশাদের আমলের ধর্ম প্রতিমন্ত্রী । দলটির সফলতা ব্যর্থতা নিয়ে আপনারাই ভাবুন ।
২০০১সালে দলটির মধ্যে ভাঙ্গন সৃষ্টি হয় ।

ইখওয়ানুল মুসলিমীন :
১৯২৭ সালে খেলাফতের পতনের পরপরই মুসলিমবিশ্বের দিক-নির্দেশনা দেওয়ার লক্ষ্যে এদলটির জন্ম হয় । তাদের শ্লোগান ছিল দাওয়াত ও জিহাদ । ফিলিস্তিন রক্ষার জন্যে জিহাদ করে । আরববিশ্বের মিশর, সুদান, সিরিয়া, লিবিয়া এবং জর্ডানসহ অনেকদেশে ছড়িয়ে পড়ে । পরে তারা আস্তে আস্তে গণতন্ত্রের দিকে ধাবিত হয় । মিসরে ক্ষমতায় যায় । কিন্তু !

জামায়াতে ইসলামি :
এটা ইসলামি দল কিনা তা নিয়ে উপমহাদেশের আলেমদের কথা যে, এটা ইসলামি দল নয় । আমরাও এটাকে ইসলামি দল মনে করি না । কিন্তু যেহেতু এদলটি নিজেকে ইসলামি দল দাবি করে সে হিসেবে এখানে স্থান দেওয়া ।
১৯৪১ সালে এদলটির জন্ম । ভারত-পাকিস্তান-বাংলাদেশে তারা ছড়িয়ে আছে । কিন্তু আজপর্যন্ত তারা কোথাও এককভাবে বা নেতৃত্ব দিয়ে জোটবদ্ধভাবে ক্ষমতায় যেতে পারেনি । এমনকি কোনো প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীও হতে পারে নি । তারা সর্বদা অন্যের ক্ষমতায় যাওয়ার সিড়ি হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে ।

এ দলগুলো ছাড়া বিশ্বের অনেকদেশে আরো গণতান্ত্রিক ইসলামি দল আছে । যদি এগুলোর তালিকা দিতে থাকি তাহলে খবর পাবো, এই মুহুর্তে আরেকটি ইসলামি দলের জন্ম হয়েছে । যদি পারেন তাহলে শুধু বাংলাদেশের দলগুলোই হিসেব করুন ।
গণতান্ত্রিক পন্থায় তুরস্ক, আলজেরিয়া, তিউনিশিয়াসহ অনেক দল নির্বাচিত হলেও অনেকে ক্ষমতায় যাওয়ার পুর্বেই ছিটকে পড়েছেন, আবার কেউ কেউ ক্ষমতায় গেলেও কোথাও এক সেকেন্ডের জন্যে একটি গ্রামে পরিপুর্ণ শরীয়াহ কায়েম করতে পারেন নি ।

যদি আমরা গণতান্ত্রিক দলগুলোর প্রতি চোখ রাখি তাহলে দেখতে পাবো—
১- যে তারা বারবার এরশাদের মতো আদর্শ বদলিয়েছেন ।
২- নিজেদের মধ্যে ভাঙ্গন তৈরি করেছেন ।
৩- নিজেদের প্রধান শত্রু বানিয়েছেন স্বদেশের ভিন্ন মতালম্বী জনতাকে ।
৪- আসন অর্জনের মধ্যে আবহাওয়ার মতো পরিবর্তন হয়েছে ।
৫- একই নামে একাধিক দেশে অনেক দল আছে, কিন্তু একটির সাথে আরেকটি সম্পর্ক নেই !!!
৬- উম্মাহের দুর্দিনে তাদের অবস্থান হচ্ছে, প্রথমে সভা-সেমিনার, প্রতিবাদ সমাবেশ, পরে নীরব দর্শক ।

এবার আসুন আমরা দেখি, বর্তমানে বিশ্বে কোন পদ্ধতিতে শরীয়াহ প্রতিষ্ঠিত আছে ।

তালেবান :
জন্ম ১৯৯৪ সালে । ২০০১ সালের মধ্যে মাত্র সাড়ে ৬ বছরে আফগানিস্তানের ৯৫ % এলাকায় শরীয়াহ প্রতিষ্ঠা ।

ইসলামিক স্টেইট ইন ইরাক এন্ড শাম :
২০০৬ সালে শুরু । বর্তমানে ইরাকের এক তৃতীয়াংশ ও সিরিয়ার এক চতুর্থাংশে শরীয়াহ প্রতিষ্ঠা ।

আন্সারুসশরীয়াহ (ইয়েমেন) :
২০১১ সালে জন্ম । এ যাবত আদন-আবিয়ান সহ প্রায় দুটি প্রদেশে শরীয়াহ প্রতিষ্ঠা ।

আন্সারুদ্দীন (মালি) :
সুচনা নব্বই দশকে । ২০১১ সালে দেশের দুই তৃতীয়াংশ দখলে ।

হরকতুশ শাবাবিল মুজাহিদীন (সোমালিয়া) :
নব্বই দশকে বিচ্ছিন্নভাবে শুরু হলেও আনুষ্ঠানিক যাত্রা ২০০৬ সালে । দেশের ৭০% তাদের দখলে এবং শরীয়াহ প্রতিষ্ঠিত আছে !

টিটিপি (পাকিস্তান) :
২০০৬ সালে যাত্রা । বর্তমানে খাইবার-পাখতুনখোয়াতে ৭০% এলাকায় শরীয়াহ প্রতিষ্ঠা ।

এবার আসুন এগুলোর উপর একটু পর্যালোচনা করি ।

১- আসল শত্রু স্বদেশী জনতা নয়, বরং বিদেশী ক্রুসেডার ও স্বদেশী দালাল ।
২- তারা রক্ত দিয়েছেন তবুও আদর্শ বদলান নি ।
৩- বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভিন্ন ভিন্ন নামে হলেও সবটাই একসুত্রে গাথা ।
৪- দিন যত যায় তাদের ভাঙ্গন ততো কমে । যেমন-সিরিয়ায় বর্তমানে পঞ্চাশোর্ধ দল দু'দলে রূপ নিয়েছে । আগামীতে একদলে ইনশাআল্লাহ !
৫- গণতান্ত্রিক পন্থায় সবচেয়ে কমবয়েসি দলের জন্ম ১৯৪১ সালে । জিহাদি পন্থায় সবচেয়ে বর্ষীয়ান দলের জন্ম নব্বই দশকে ।
৬- গণতান্ত্রিক পন্থায় বিশ্বের কোথাও এক সেকেন্ডের জন্যে একটি গ্রামেও শরীয়াহ প্রতিষ্ঠিত হয় নি ।
৭- উম্মাহের দুর্দিনে তাদের অবস্থান হচ্ছে, প্রথমে জিহাদের ঘোষণা, পরে বেছে-চেছে তাগুতকে জাহান্নামে প্রেরণ । যেমন-বর্তমানে মিসরে আন্সারুল বায়তিল মাকদিস করতেছে ।

বিঃদ্রঃ অনেকে হয়তো বলবেন, লিবিয়া সরকারতো সংসদে শরীয়াহ আইন পাশ করেছে, অথচ এটাতো গণতান্ত্রিক পন্থা !
আমরা বলবো, দেখুন, লিবীয় প্রধানমন্ত্রী আলী যাইদান সেদিন আমেরিকা-বৃটেনের কাছে সামরিক সহায়তা চেয়েছেন, বুঝতেই পারছেন এটা সৌদী আরবের শরীয়াহ (!) । নবীজীর নয় ।
তাছাড়া এটাতো গণতান্ত্রিক পন্থায় নয়, বরং যখন গাদ্দাফির পতন হয় তখন এনসিসি প্রধান মুস্তফা আব্দুল জলীল বলেন, শরীয়াই হবে লিবীয় আইনের মুল উতস ।
তিনি সুদকে নিষিদ্ধ করে এবং একাধিক বিবাহের বৈধতা দিয়ে দেশে ডিক্রি জারি করেন ।

গাদ্দাফির পতন কি গণতান্ত্রিক পন্থায় হয়েছিল ?










রবিবার, ১৬ মার্চ, ২০১৪

‘ইসলামী গণতন্ত্র’ ধারনাটি একটি ধোঁকা


 
 
 
‘ইসলামী গণতন্ত্র’ ধারনাটি একটি ধোঁকা বৈ কিছু নয় !
***********************************

গণতন্ত্র একটি মতবাদ। অন্যসব মতবাদের ন্যায় গণতন্ত্রও মানব সভ্যতাকে অর্থবহ করতে চায়। মুসলমান হিসাবে মানবতার স্বার্থে আমরা এ মতবাদকে স্বাগত জানাব কিনা ভেবে দেখার প‌্রয়োজন রয়েছে। সমাজতন্ত্রের অপমৃত্যুর পর বিশ্ব আজ গণতন্ত্র ও ইসলাম এ দুটি শিবিরে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। নতুন বিশ্ব ব্যবস্থায় ইসলামের শত্রুরা ইসলামের বিরুদ্ধে যে হাতিয়ারগুলো ব্যবহার করছে তার মধ্যে গণতন্ত্র একটি সুদূর প্রসারী ও স্বয়ংক্রিয় হাতিয়ার। গণতন্ত্রে বিশ্বাসী মুসলমান ধাপে ধাপে গনতান্ত্রিক আদর্শে উজ্জীবিত হয় এবং কুরআন-সুন্নাহর সিদ্ধান্ত বিসর্জন দেয়। এমতাবস্থায় কেউ যদি ইসলামের অনুকূলে গণতন্ত্রকে সংজ্ঞায়িত করেন তাহলে ব্যাপারটি হবে হাস্যকর।

* গণতন্ত্রের সমর্থনে কুরআন ও হাদীসে কোন দলিল নেই। বরং বিপক্ষে অনেক আয়াত ও হাদীস রয়েছে। দেখুনঃ সুরা আন-আমঃ ১১৬, সুরা ইউসুফঃ ১০৩, ৩২, ৪৫, সুরা বাক্বারাঃ ২৪৯, সুরা নিসাঃ ৫৯, সুরা মায়েদাঃ ৪৪ এছাড়াও অসংখ্য হাদীস।

* গণতন্ত্রের মাধ্যমে ইসলাম প্রতিষ্ঠা করা স্বপ্ন মাত্র।

*গনতন্ত্রে মহিলা পুরুষ উভয়ের সাক্ষী(ভোট) সমান। শুধু কি তাই, গণতন্ত্রে জ্ঞানী ও মূর্খের ভোট সমান সমান।

* “ভোটার হওয়ার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট বয়সই মাপকাঠি, হোক সে অশিক্ষিত বা মানসিক রোগী কিম্বা অপরাধী” – ইসলাম এটি সমর্থন করেনা। ভোটার হওয়ার ক্ষেত্রে ইসলাম শুধু জ্ঞানকেই মাপকাঠি নির্ধারন করেছে। এখানেই গণতন্ত্রের সাথে ইসলামের বড় অমিল।

* নিজের জন্য ভোট প্রার্থনা করা ইসলাম সমর্থন করেনা।

* গণতান্ত্রিক সরকার নিজ খেয়ালখুশি মত আইন প্রনয়ন, পরিবর্তন, সংশোধন, সংযোজন, বিয়োজন সবই করতে পারে। যা জাতির জন্য ভয়াবহ রকমের অকল্যান বয়ে আনে।

* নৈতিকতার কোন বালাই নেই গণতন্ত্রে। জরায়ুর স্বাধীনতা, সমকামিতা কোন মতামতকেই বর্জন করতে বাধ্য নয় গনতন্ত্র।

* গনতান্ত্রিক বিশ্বাসে ধর্ম অবশ্যই রাজনীতি বিবর্জিত।

* গণতন্ত্রে দুর্নীতির ব্যাপক বিস্তার ঘটে ।

* সমাজে জ্ঞানী ব্যাক্তির চেয়ে মূর্খ ব্যাক্তি সংখ্যায় বেশী, তাই ঢালাওভাবে সকলের মত গ্রহন করলে অযোগ্য লোকের ক্ষমতায় অধিষ্ঠত হওয়ার সম্ভাবনা ১০০ তে ৯৯।

* অধিকাংশ ক্ষেত্রে গণতান্ত্রিক সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠের সরকার হতে পারেনা, যদিও প্রচার করা হয় “গনতান্ত্রিক সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠের সরকার। ধরুন আমার দেশে ১০০ জন মানুষ। তিন জন প্রার্থী । নির্বাচনের ফলাফল হল একজন পেয়েছে ৪০ ভোট, দ্বিতীয় জন ৩৫ ভোট, তৃতীয়জন ২৫ ভোট। তাহলে গনতন্ত্রের বিচারে ৪০ ভোট যিনি পেয়েছে সেই নির্বাচিত। তাহলে সংখা গরিষ্ঠতা কোথায় ? ৪০ এর বিপরীতে যে ৬০ কাজেই গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে স্বয়ং গণতন্ত্রের বাস্তবতাও নেই।

*সমসাময়িক বাস্তব নমুনাঃ
আলজেরিয়াতে ইসলামিক স্যালভেশন ফ্রন্ট ব্যাপক পপুলার ভোটে জয়ী হওয়া সত্ত্বেও অগনতান্ত্রিক ভাবে নির্বাচন বাতিল করা হয়েছে এবং ইসলামিক স্যালভেশন ফ্রন্ট কে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। মিশরেও ইখওয়ানের রাজনীতি অগনতান্ত্রিক ভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। গাযাতে ইসলামিক দল কে ভোট দেয়ার অপরাধে সেখানকার জনগনকে ৩ বছর ধরে অবরূদ্ধ করে রাখা হয়েছে। এখানে কেউ মানবাধিকারের গল্প শুনায় না। কেউ জনগনের অধিকারের গল্পও শুনায় না।

ইসলাম ও গণতন্ত্র বিপরীতমুখী জীবনাদর্শ। গণতন্ত্র যেহেতু অধিক প্রচলিত এবং বর্তমান পৃথিবীর পরিচালকরা এটি পরিচালনা করেন, তাই এটির সাথে ইসলাম মেশালে ইসলামও শক্তিশালী হবে, অধিক প্রচলিত হবে, প্রতিষ্ঠিত হবে-এই চিন্তা এবং কর্মকে বলা হচ্ছে হিকমত বা কৌশল।

আমার প্রশ্ন ইসলাম কি এতই ফকির যে গণতন্ত্রের কাছে হাত পাততে হবে ?

তাই যারা ইসলামের সাথে গণতন্ত্রের সমন্বয় করতে চান তাদেরকে কিছু চিন্তার খোরাক দিলাম।

http://www.kalerkantho.com/print-edition/industry-business/2014/03/16/62247




শুক্রবার, ৭ মার্চ, ২০১৪

গণতন্ত্ copy pest

ইসলামের আলোকে গণতন্ত্র কি?

ইন্নালহামদু লিল্লাহ! নাহ্মাদুহূ ওয়া নাস্তা'ঈনুহূ ওয়া নাস্তগ্ফিরুহূ ওয়ানু'মিনুবিহী ওয়ানাতাওয়াক্কালু আলায়হি, ওয়া না'উযু বিল্লাহি মিন শুরুরি আনফুসিনা ওয়ামিন সাইয়্যেআতি 'মালিনা মাইয়্যাহ্দিহিল্লাহ্ ফালা মুযিল্লালাহূ ওয়া মাইয়্যুযলিল্হু ফালা হাদিয়ালাহূ ওয়া আশহাদু আল্লাইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকালাহ্ - ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আব্দুহু ওয়া রাসুলুহু আম্মা বা' ফাআ'উযু বিল্লাহি মিনাশ শায়ত্বানির রাজীম

সর্বশক্তিমান আল্লাহ্ সুবহানওয়াতলা' মহান দরবারে লাখো শুক্রিয়া জ্ঞাপন করছি যিনি আমাদের ইসলামের সত্যটা নির্ভয়ে প্রচারণার তাউফিক এনায়েত করেছেন, আলহামদুলিল্লাহ্ দরুদ সালাম পেশ করছি হুজুরে পাক সাঃ এর ওপর

আজকের সুন্নাহর কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়েছে 'গণতন্ত্র' কে এই ফায়সালাতেই আমরা দেখব গণতন্ত্র কি, কেন এবং কুরআন সহিহ সুন্নাহর আলোকে কতটুকু গ্রহণযোগ্য একটু বড় হলেও আশা করি সকলেই পড়বেন এবং সত্যটা চিনতে পারবেন সেইসাথে যেকোনো গণতন্ত্র সমর্থনকারির সাথে শক্তিশালি বিতর্কে অংশ নিতে পারবেন ইনশাআল্লাহ্ গণতন্ত্র নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর জবাব নিয়ে সাজানো হয়েছে এই লেখাটি
এই আলোচনার প্রথমেই আমরা জানবো, গনতন্ত্র কী?
-
আমার মতে 'যে পদ্ধতিতে জনসাধারণের মত সাপেক্ষে কোন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় তাকেই গনতন্ত্র বলে' আর গনতান্ত্রিক উপায়ে নির্বাচিত রাষ্ট্রশাসক থাকলে রাষ্ট্রকে গনতান্ত্রিক রাষ্ট্র বলা যায়
আসুন দেখি এই ব্যাপারে উইকিপিডিয়া কি বলে
~
গণতন্ত্র হলো কোন জাতিরাষ্ট্রের (অথবা কোন সংগঠনের) এমন একটি শাসনব্যবস্থা যেখানে প্রত্যেক নাগরিকের নীতিনির্ধারণ বা সরকারি প্রতিনিধি নির্বাচনের ক্ষেত্রে সমান ভোট বা অধিকার আছে গণতন্ত্রে আইন প্রস্তাবনা, প্রণয়ন তৈরীর ক্ষেত্রে সকল নাগরিকের অংশগ্রহনের সমান সু্যোগ রয়েছে, যা সরাসরি বা নির্বাচিত প্রতিনিধির মাধ্যমে হয়ে থাকে যদিও শব্দটি সাধারণভাবে একটি রাজনৈতিক রাষ্ট্রের ক্ষেত্রেই প্রয়োগ করা হয় তবে অন্যান্য সংস্থা বা সংগঠনের ক্ষেত্রেও এটা প্রযোজ্য, যেমন বিশ্ববিদ্যালয়, শ্রমিক ইউনিয়ন, রাষ্ট্র-মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি
সুত্রঃ [bn.wikipedia.org/wiki/গণতন্ত্র]

ইতিহাসঃ
টানা ২০০ বছর এদেশ ইংরেজরা শাসন শোষণের পর যখন তিতুমির/হাজী শরিয়তউল্লাহদের ইংরেজবিরোধী বিদ্রোহ করতে দেখল তখন তারা বুঝতে পারল এদেশে আর এভাবে সরাসরি শাসন করা যাবেনা ঠিক তখনই 'অমর শাসনত্ব' প্রতিষ্ঠা করার জন্যই তারা এমন এক পদ্ধতি আবিষ্কার করলো যে পদ্ধতির মাধ্যমে জনগন প্রকৃতপক্ষে পরাধিন থাকলেও নিজেদের সাধিন মনে করবে কিন্তু তাদের আগের মতই ইংরেজদের গোলাম বানিয়ে রাখা যাবে
এই পদ্ধতির মাধ্যমে তারা এমন এক রাষ্ট্র ব্যাবস্থা চালু করলো যার মাধ্যমে তাদের নিজস্ব শিক্ষা সংস্কৃতির অন্তর্ভুক্তদের বড় বড় রাষ্ট্রীয় পদ দেওয়া হলো যাতে মুসলিম সহ অন্য জাতি মনে করে পাশ্চাত্য শিক্ষা ছাড়া অন্য কোন উপায়ে উন্নতি লাভ করা সম্ভব নয় যার কারনে কিছু মুসলিমরা তাদের নিজস্ব ধর্মীয় সংস্কৃতি মুল বিশ্বাস বাদ দিয়ে যোগ দিলো তাদের সাথে ফাঁদে
ইংরেজরা এমন এক ব্যাবস্থা চালু করেছিল যার মাধ্যমে পার্থিব উন্নতি অর্থা দাজ্জালের জান্নাতের চাবিকাঠি ঝুলয়ে দিলো তাদের নিজস্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দরজায় যার কারনে শিক্ষার শিক্ষিত হয়ে এমন এক সংকর জাতি সৃষ্টি হলো যাদের জন্ম আমাদের সমাজেই অথচ তাদের চিন্তা-চেতনা, মূল্যবোধ, আচার-আচরন সব কিছুই ইংরেজদের মত ধীরে ধীরে ইংরেজদের চাল সফল তারা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নারী-পুরুষ একসাথে পাশাপাশি শিক্ষা লাভ করেই ক্ষান্ত থাকেনি বরং নিজেদের মাঝে প্রেম-প্রনয় বিনিময় ঘটিয়ে আধুনিকতার নামে নষ্টামির পরিচয় দিয়েছে তারা মজা করতে করতে আল্লাহ্ আইনকে সেকেলে বলে(হয়তোবা পরোক্ষভাবে) অবজ্ঞা করেছে
আর সংকর জাতের জাতির দ্বারাই প্রভুত্ব বিস্তার এবং জনসাধারণকে নিজের গোলাম বানিয়ে রাখার প্রবণতা দেখতে পাওয়া যায় মূলত আগের ইংরেজ লর্ডরা আর বাংলায় আসেনি বরং দেশে থাকতেই এদেশে কিছু ভাইরাস রেখে গিয়েছিল যার কারনে তাদের আদর্শ / তরিকা অবলম্বন করে তাদের অনুসারীরা রাষ্ট্র পরিচালনা করে জনগনের মাঝে নিজের প্রভুত্ব বিস্তার করেছে ইংরেজরা নিজে খেয়ে পরে বাচতে চায়নি, তারা নিজের জীবন দিয়ে হলেও পৃথিবীতে নিজেদের আইন প্রতিষ্ঠা করে নিজেদের পরোক্ষভাবে আল্লাহ্ দাবী করতে চেয়েছিল, যে কাজে আজ আমরাই সাহায্য করছি

আর এই পদ্ধতির নামই গণতন্ত্র যার উদ্ভাবক আব্রাহাম লিংকন

গণতন্ত্র বা ডেমোক্রেসী শব্দটি এসেছে গ্রীক শব্দ δημοκρατία (ডেমোক্রেসিয়া) থেকে, যার অর্থ "জনগণের শাসন" শব্দটির ৎপত্তি δμος (ডেমোস) "জনগণ" κράτος (ক্রাটোস) "ক্ষমতা" থেকে খ্রিষ্টপূর্ব ৫ম শতকে এথেন্স অন্যান্য নগর রাষ্ট্রে বিদ্যমান রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে বোঝাতে শব্দটির প্রথম ব্যবহার হয়

গনতন্ত্রের মুলনীতি কি?
-
গনতন্ত্রের মুলনীতি হলো জনগনই সকল ক্ষমতার উত্ অর্থা কাওকে উপযুক্ত চয়নের একমাত্র ক্ষমতা জনগনের রাষ্ট্রের প্রতি সকল নাগরিককে অনুগত থাকতে হবে এবং প্রতিটি রাষ্ট্রের নিজস্ব আলাদা সংবিধান থাকতে হবে সেই সংবিধান অনুযায়ী আইন মেনে চলতে হবে অর্থা গণতন্ত্র হল একটি মানব দ্বীন বা মানবচরিত জীবন ব্যবস্থা বা মানব ধর্ম

গনতন্ত্রের কার্যক্রম কী?
-
গনতান্ত্রিক ভোটদান পদ্ধতিতে উপস্থিত প্রাপ্তবয়স্ক যোগ্য (Qualified) সকলেই তাদের মতামত স্বাধীনভাবে প্রদান করে এবং সংখ্যাগুরুতার  ভিত্তিতে নিবার্চন (Selection) করা হয়

এবার আসুন দেখি ইসলাম সম্পর্কে কি বলে? ইসলামের আলোকে গণতন্ত্র কি?

গনতন্ত্রে প্রাপ্তবয়স্ক সবার স্বাধীন মতামতের সুযোগ রয়েছে
কিন্তু প্রাপ্তবয়স্ক মানেই বুদ্ধিমান কিংবা জ্ঞ্যানী নয় একজন পিএইচডি করা ব্যক্তি আর একজন মুর্খ অশিক্ষিত ব্যাক্তির মাঝে তাদের উভয়ের চিন্তা চেতনার যথেষ্ট পার্থক্য আছে তারা একইভাবে কোন চিন্তা করেনা শিক্ষিত মানুষের দ্বারা বেশি উপকার হবে অপরদিকে একজন অশিক্ষিত জাতির দ্বারা বেশি উন্নতি আশা করা যায়না অথচ গণতন্ত্র বলে 'এখানে সবাই সমান' এইসব কথা বলে বোকাদের আটকিয়ে রেখেছে মায়াজালে তাহলে সবাই যদি সমান হয় তবে রাস্তা থেকে তুলে এনে সংসদে বসিয়ে দিন, সে পরিচালনা করুক দেশ
গণতান্ত্রিক নির্বাচনে জ্ঞ্যানী এবং নির্বোধ সকলেই অংশ নেয় অথচ বিশ্বে জ্ঞ্যানীর চেয়ে নির্বোধের পরিমান অত্যাধিক বেশী আর যেহেতু সংখ্যাগুরুতার ওপর ভিত্তি করে  নিবার্চন হয়ে তাই কোন সমাজে নির্বোধ বেশী থাকায় তারা সিদ্ধান্ত নিতে ভুল করে এবং ভুল ব্যক্তিকে চয়ন করে বসে যার দৃষ্টান্ত আমরা দেখতে পাচ্ছি, মুর্খ অশিক্ষিতদের হাতে আজ দেশ

আল্লাহ্ বলেন, "যদি তুমি পৃথিবীর অধিকাংশ লোকের কথামত চল, তবে তারা তোমাকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করে দিবে" (সূরা আনআম-১১৬)

তাই গনতন্ত্র নিঃসন্দেহে একটি ভুল সমাজ ব্যবস্থা কারন এতে অনেক লোকের মতামত নিয়ে চলতে হয় সুতরাং গণতন্ত্র কুরআনবিরোধী একটি ব্যাবস্থা কারন আমাদের সমাজে নির্বোধের সংখাই বেশি আল্লাহ্ নিজেই বলছেন

গনতন্ত্রের মুলনীতি হলো জনগনই সকল ক্ষমতার মুল উত্
কিন্তু আল্লাহ বলছেন সকল ক্ষমতার মুল ৎস অধিকারী একমাত্র তিনি তিনি ছাড়া কোন মাবূদ নেই রেফারেন্সঃ
"
কর্তৃত্বতো কেবল আল্লাহরই" (সূরা আন আনাম-)
"
তুমি বলো, হে সর্বভৌম ক্ষমতার মালিক আল্লাহ! তুমি যাকে ইচ্ছা ক্ষমতা প্রদান কর এবং যার নিকট থেকে ইচ্ছা ক্ষমতা কেড়ে নাও যাকে ইচ্ছা  সম্মান দান কর যাকে ইচ্ছে পদদলিত কর সবকিছুই তোমার হাতে নিশ্চয় তুমি সর্ব বিষয়ে ক্ষমতাবান" (সুরা আল ইমরান-২৬)
তাই গনতন্ত্র একটি ভুল শিরকি সমাজ ব্যবস্থা কারন গনতন্ত্রে আল্লাহ্ সাথে জনগনের শিরক করা হয় আল্লাহ্ সাথে যাদের তুলনা করা হয় বা শিরক করা হয় তারা সবই তাগুত আর তাগুত সম্পর্কে আল্লাহ্ আল কুরআনে ধমক দিয়ে বলছেন,
'
খবরদার এক আল্লাহ্ ব্যাতিত আর কোন মাবুদকে গ্রহন করোনা, কারন সামনে মাথা নত করোনা আর সকল তাগুতকে বর্জন করো' (সুরা নাহল-৩৬)
গনতন্ত্রে প্রতিটি রাষ্ট্রের শাসন ব্যবস্থায় নিজস্ব সংবিধান তৈরী করা বাধ্যতামুলক এবং সকল গনতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নিজস্ব সংবিধান রয়েছে আর সেই সংবিধান তৈরিতে আল্লাহ্ আইন বাদ দিয়ে নিজেদের বানোয়াট বিধান প্রতিষ্ঠা করা হয়

কিন্তু ইসলামে আল্লাহর বিধান পরিবর্তন করাটা একেবারেই হারাম হারাম এবং হারাম এবং যারা এটা করে তারা মুসলিম থাকেনা, তারা সাথে সাথে কাফির হয়ে যায়
রেফারেন্সঃ "আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন সে অনুযায়ী যারা বিধান দেয়না তারা হল কাফের" {সূরা মায়িদা-৪৪}
"
আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন সে অনুযায়ী যারা বিধান দেয়না তারা হল জালেম" {সূরা মায়িদা-৪৫}
তাই গনতন্ত্র একটি কুফরি সমাজ ব্যবস্থা আর যারা গনতন্ত্রে বিশ্বাসী তারা কুফরি করে আর যারা বুঝে শুনে কুফি করে তারা কাফির হয়ে যায়, তাদের নতুন করে তাউবা করে ইমান আনা ফরজ হয়ে পড়ে কেননা নিজস্ব সংবিধান থাকা মানেই সংবিধানের রচয়িতাকে রব বলে মেনে নেওয়ারই শামিল

গনতন্ত্র হলো জুয়া কেননা এটি অনিশ্চিত ব্যবস্থা, এতে কে জয়ী হবে এবং পরাজয় হবে তা কেউ জানেনা এটি ভাগ্য পরীক্ষার শর তাই গনতন্ত্র  হলো ভাগ্যপরীক্ষার মতোই
আর জুয়া কিংবা ভাগ্যপরীক্ষা ইসলামে হারাম
রেফারেন্স:
"
হে মুমিনগণ, এই যে মদ, জুয়া, প্রতিমা এবং ভাগ্য-নির্ধারক শরসমূহ এসব শয়তানের অপবিত্র কার্য বৈধ নয় অতএব, এগুলো থেকে বেঁচে থাকো যাতে তোমরা কল্যাণপ্রাপ্ত হও" (সুরা মায়িদাহ-৯০)
"
তারা তোমাকে মদ জুয়া সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে তবে বলে দাও, এতদুভয়ের মধ্যে রয়েছে মহাপাপ আর মানুষের জন্যে উপকারিতাও রয়েছেতবে এগুলোর পাপ উপকারিতা অপেক্ষা অনেক বড় আর তোমার কাছে জিজ্ঞেস করে, কি তারা ব্যয় করবে? বলে দাও, নিজেদের প্রয়োজনীয়  ব্যয়ের পর যা বাঁচে তাই খরচ করবে এভাবেই আল্লাহ তোমাদের জন্যে নির্দেশ সুস্পষ্টরূপে বর্ণনা করেন, যাতে তোমরা চিন্তা করতে পারো (সুরা আল বাকারা-২২৯)
তাই গনতন্ত্র হারাম এবং সম্পূর্ণ ইসলাম পরিপন্থী এই গণতন্ত্র ইসলামের কোন আইন না, যারা গণতন্ত্র মানে তারা সরাসরি কুফরে লিপ্ত হয় আর কাফিরের শাস্তি জাহান্নাম
ফেরাউন কখনও বলেনি আমি সূর্যের মালিক, ফেরাউন কখনও বলেনি আমি চন্দ্রের মালিক, ফেরাউন কখনও বলেনি আমি এই মহাবিশ্বের সৃষ্টিকর্তা বরং সে বলেছে 'আমি পৃথিবীর ক্ষমতার মালিক অর্থা সার্বভৌমত্ব এর মালিক' আর আল্লাহ্ বলছেন 'সকল ক্ষমতা একমাত্র আল্লাহ্' আর একারনেই ফেরাউনের ওপর খোদা দাবী করার লানত বর্ষণ হয়েছে তাই অন্য কেউ যদি বলে 'আমরা সার্বভৌমত্বের মালিক' তবে সেও পরক্ষভাবে নিজেকে আল্লাহ্ দাবী করে ফলে সে হয়ে যায় তাগুত অর্থা মিথ্যা মাবূদ আর আল্লাহ্ বলেন 'খবরদার তোমরা এক আল্লাহ্ ছাড়া অন্যের ইবাদত করোনা, এবং তাগুতকে বর্জন করো' অর্থা তাগুতকে বর্জন না করলে ঈমান কখনই পূর্ণ হবেনা
আজকে গণতান্ত্রিক সকল রাষ্ট্রের প্রধানেরা বলছে 'আমরা এদেশের ক্ষমতার মালিক' আর এটা দাবী করার সাথে সাথে সে নিজেকে আল্লাহ্ দাবী করে বসে তাহলে আপনি যদি গণতন্ত্রের গোলামি করেন তবে আপনি রাষ্ট্র প্রধানদের বান্দায় পরিণত হবেন এবং তারা আপনার প্রভু হবে আপনি যদি এক আল্লাহরকে বাদ দিয়ে অন্যকে প্রভু হিসেবে মেনে নেন তবে আপনি কীভাবে নিজেকে মুসলিম দাবী করবেন?

বন্ধুগণ! খবরদার সাবধান হোন শিরকের কোন ক্ষমা নাই আল্লাহ্ বার বার সকল তাগুতকে বর্জন করার জন্য বলেছেন কারন এইসব গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রপ্রধানেরা প্রত্যেকেই দাজ্জালের উত্তরসূরি তাদের দেখানো পথের জান্নাত কেবল নামাজ কালামের মধ্যেই সীমাবদ্ধ কিন্তু রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে ইসলামের কথা বললেই আপনি মৌলবাদী তাদের জান্নাত হল আল্লাহ্ জাহান্নাম

এবার শেষ অংশে গণতন্ত্র নিয়ে কিছু প্রশ্নের জবাবঃ
*
কোন সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে রাসুল সাঃ প্রায়ই সাহাবীদের সাথে বিষয় নিয়ে আলোচনা করতেন এটা কি গণতন্ত্রের আলামত?
উত্তরঃ না কারন রাসুল সাঃ নিজে থেকে কোন সিদ্ধান্ত নিতেন না, সবই আল্লাহ্ নির্দেশে করতেন আর মজার ব্যাপার হলো সাহাবীদের সাথে তিনি আলোচনা করতেন ঠিকই তবে সাহাবীদের মাঝে ভোট করতেন না তাছাড়া সাহাবীরা সকলেই জ্ঞানী ছিলেন তাই সেখানে তাদের সম্মিলিত সিদ্ধান্ত ভুল হতোনা

*
রাসুলে পাক সাঃ এর মৃত্যুর পর খলিফা নির্বাচন কিভাবে করতেন?
উত্তর: রাসুলে কারীম সাঃ এর ইন্তেকালের পর খলিফা নির্বাচনে সাহাবীরাই মুখ্য ভুমিকা পালন করতেন আর তারা ছিলেন জ্ঞ্যানী বুদ্ধিমান তাই তাদের দ্বারা ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রশ্ন ওঠেনা  তাঁদের সমন্বয়ে কয়েক সদস্য বিশিষ্ট একটি প্রতিনিধি  দল তৈরী করেছিলেন যারা সবকিছু বিচার বিশ্লেষন করে খলিফা নির্বাচন করতেন যেহেতু সেখানে বুদ্ধিমান লোকদের দ্বারা সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হতো  তাই নিবার্চন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হতো
এখন এখানে প্রশ্ন আসতে পারে  ' কমিটি নির্বাচন করা হতো কীভাবে?'
হাদিসে এসেছে, ইমাম হওয়ার যোগ্যতা যাদের রয়েছে তারাই এটা হতে পারবেন সুতরাং খলিফা নির্ধারণের দায়িত্ব সহিহ সুন্নাহ মোতাবেক চলনেওয়ালা ইমাম মুজাহিদদের যারা আল্লাহ্ রাস্তায় জ্বিহাদ করছে

*
ইসলামে কোন তন্ত্রে বিশ্বাসী?
উত্তর: ইসলাম কোন তন্ত্র নামক মন্ত্রে বিশ্বাসী নয় ইসলাম কেবল খিলাফাতে বিশ্বাসী আর একমাত্র খিলাফতই সঠিক ব্যবস্থা কেননা এতে সংখ্যাগুরু নির্বোধদের প্রয়োজন হয়না, এর সকল বিধান এক আল্লাহ্ তৈরি করে দিয়েছেন খিলাফতে জনগন ক্ষমতার উত্ হয়না, নিজস্ব সংবিধান আইন প্রণয়নের প্রয়োজন হয়না এতে কোন রাষ্ট্রীয় শিরকের সুযোগ নেই এবং এটি জুয়া বা অনিশ্চিত না সুতরাং একমাত্র মুক্তির পথ খিলাফাত
আর খিলাফত আনতে হবে কেবল রাসুল সাঃ এর দেখানো পথে যেভাবে আল্লাহ্ বলেছেন, যেভাবে রাসুল সাঃ শিখিয়েছেন এবং যেভাবে সাহাবীরা পালন করেছেন আমাদেরও ঠিক সেভাবেই আল্লাহ্ দ্বীন প্রতিষ্ঠা করতে হবে যদি রাসুল সাঃ এর দেখানো পথ বাদ দিয়ে আব্রাহাম লিংকনের গণতন্ত্র মেনে নিই তবে তা স্পষ্ট কুফরি হয়ে যাবে আর জেনে শুনে যারা কুফরি করে তারা কাফির হয়ে যায় এটা আমার ফতোয়া নয়, এটা স্বয়ং আল্লাহ্ বলেছেন
তাই আমার ভাই! আপনি কার তরীকা গ্রহন করতে ইচ্ছুক? রাসুল সাঃ এর তরিকা নাকি আব্রাহাম লিংকনের তরীকা?
* 'হুট করে আমরা দেশে ইসলামী শাসন কায়েম করতে পারবোনা তাই একটি কৌশল বা হিকমাহ অবলম্বন করেছি এতে দেশের গুরুত্বপূর্ণ পদ বা রাষ্ট্র প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পেলেই আমরা দেশে ইসলামী আইন কায়েম করবো'

খণ্ডনঃ প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরেও ইসলাম কায়েম করতে পারবেন না কারন ক্ষমতা পাওয়ার পরে গণতন্ত্রের মুল হোতা অ্যামেরিকা নিয়ন্ত্রন করবে এতে তারা কখনই দেশে খিলাফাত প্রতিষ্ঠা করতে দিবেনা তাছাড়াও বিরোধীদল অন্যান্য বাম দলেরা কখনই চাইবেনা দেশ ধর্ম নিরপেক্ষতা থেকে মুক্তি পাক এজন্য তারা দেশে আন্দোলন প্রতিরোধ করবে মুরশির মত সেনাবাহিনী কর্তৃক পদচুত্য হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে ফলে দেশে অস্থিরতা সৃষ্টি হবে সেই সময় ক্ষমতা ছেড়ে আপনাদেরও রাজপথে নেমে লড়াই করতে হবে সেই ভবিষ্যতের লড়াইটাই এখন করুন যাতে গণতন্ত্রের গোলামি না করতে হয়

* '
হুজুর পাক সাঃ কাফিরদের সাথেও চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলেন তাই আমরাও গণতন্ত্র হেকমত হিসেবে চুক্তিবদ্ধ আকারে ব্যাবহার করছি'

খণ্ডনঃ রাসুল সাঃ কাফিরদের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলেন ঠিকই তবে আল্লাহ্ আইন পরিবর্তনের চুক্তি নয় কাফিরদের সাথে রাসুল সাঃ এর শান্তি চুক্তি হয়েছিল কিন্তু রাসুল সাঃ খিলাফাতের জন্য কাফিরদের তৈরি আইন মেনে নিয়ে আল্লাহ্ আইন পরিবর্তন করে দেননি গণতন্ত্র হচ্ছে এমনই একটি জীবন ব্যাবস্থা যার কারনে আল্লাহ্ আইন বাদ দিয়ে মানবরচিত আইন মেনে নিতে হয় অন্য গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের চাপে
চুক্তির ধারায় উল্ল্যেখ্য যে, কাফিররা মুসলিমদের মারবেনা এবং মুসলিমরা কাফিরদের মারবেনা কিন্তু কাফিররা যেহুতু চুক্তি ভঙ্গ করে গোটা বিশ্বে মুসলিম হত্যার খেলায় মেতে উঠেছে তখন আমাদের চুক্তিও পূর্ণ হয়েছে অর্থা তাদের সাথে আর কোন চুক্তি নেই
আপনি কি এমন কোন চুক্তি করবেন যে চুক্তির কারনে আপনি মুসলিম থেকেই খারিজ হয়ে যান?

অনেকেই বলে ইসলাম গনতন্ত্রকে সমর্থন করে আসুন আল কুরআন এর দৃষ্টিতে ইসলাম গণতন্ত্রকিছু মৌলিক পার্থক্য সম্পর্কে জেনে নেই.. # আল-কুরআনঃ "যাবতীয় ক্ষমতা শুধুমাত্র আল্লাহরই জন্য " [:১৬৫]
গনতন্ত্রঃ জনগনই সকল ক্ষমতার ৎস
#
আল-কুরআনঃ "আল্লাহ ছাড়া কারও বিধান দেবার ক্ষমতা নেই " [১২:৪০]
গনতন্ত্রঃ আইন প্রণয়নের ক্ষমতা জনগন, সংসদ, মন্ত্রী-এমপির (মদ, পতিতালয় বৈধও হতে পারে)
#আল-
কুরআনঃ আল্লাহ তাআলা সার্বভৌমত্বের মালিক [:২৬]
গনতন্ত্রঃ সার্বভৌমত্বের মালিক জনগন
#
আল-কুরআনঃ "(হে নবী) আপনি যদি অধিকাংশের রায়কে মেনে নেন তাহলে তারা দ্বীন থেকে বিচ্যুত করে ছাড়বে" [:১১৬]
গনতন্ত্রঃ অধিকাংশের রায়ই চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত
#
আল-কুরআনঃ "আল্লা তাআলা ক্রয়-বিক্রয় বৈধ করেছেন এবং সুদ হারাম করেছেন[:২৭৫]
গনতন্ত্রঃ গণতন্ত্র সূদভিত্তিক অর্থনীতি প্রতিষ্ঠা করে
#
আল-কুরআনঃ ব্যভিচার শাস্তিযোগ্যঅপরাধ [২৪:]
গনতন্ত্রঃ সংসদ পতিতালয়ের (যিনা) লাইসেন্স দেয়
#
আল-কুরআনঃ ৎকর্ম খোদা ভীতিতে একে অন্যের সাহায্য কর পাপ সীমালঙ্ঘনের ব্যাপারে একে অন্যের সহায়তা করো না (:)
গনতন্ত্রঃ অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রার্থী নিজের সুনাম প্রতিদ্বন্দ্বীর কুৎসা রটায়
#
আল-কুরআনঃ মদ, জুয়া, লটারী নিষিদ্ধ [:৯০]
গনতন্ত্রঃ মদ এর লাইসেন্স দেয় জুয়া, লটারী বৈধ
#
আল-কুরআনঃ "হে মুমিণগণ! তোমরা ইহুদী খ্রীষ্টানদেরকে বন্ধু হিসাবে গ্রহণ করো না তারা একে অপরের বন্ধু তোমাদের মধ্যে যে তাদের সাথে বন্ধুত্ব করবে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত আল্লাহ জালেমদেরকে পথ প্রদর্শন করেন না " [:৫১]
গনতন্ত্রঃ কোন সমস্যা নাই যার সাথে ইচ্ছা (আমেরিকা, ইসরাইল) বন্ধুত্ব কর
এখন সিদ্ধান্ত আপনাদের হাতে গনতন্ত্র গ্রহন করবেন নাকি ইসলাম ... Allah knows the best
ইসলাম কখনো অন্ধ আনুগত্য সমর্থন করে না মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নবুওয়াতের দাবি করার পাশাপাশি দলিল-প্রমাণ উপস্থাপন করেছেন প্রশ্নবাণে রাসূল সাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জর্জরিত করে ঈমান আনার ঘোষনা দিয়েছেন হযরত যিমাম ইবনে ছালাবা (বুখারী)
 ''.......
এবং শিঘ্রই আসিবে নবুয়তের আদলে #খিলাফত'' ( মুসনাদে ইমাম আহমদ)
# ইসলামিক গণতন্ত্র!ইসলামিক মদের বোতল!!
--------------------------------------------------
কেউ যদি মদের বোতল খুলে তিনবার সুরা ফাতিহা আর দুইবার সুরা ইখলাস পরে ফু দেয় আর বোতলের ওপর আল্লাহ্ নাম লিখে রাখে, বিসমিল্লাহ লিখে রাখে তাহলে কি সেটা ইসলামিক মদের বোতল হবে? আর যদিও হয় তাহলে কি সেটা জায়েজ হবে?
ঠিক তেমনিভাবে, গণতন্ত্রের সাথে ইসলামকে দুমড়িয়ে মুচড়িয়ে মিলিয়ে আয়াতের অপব্যাখ্যা করে ইসলামিক ভাবে গনতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রাজনীতি করলেই সেটা ইসলামিক গনতন্ত্র হবে??বিসমিল্লাহ বলে শুয়োর জবাই দিলেও সেটা ইসলামিক শুয়োর হয়ে যায়না, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এমন পতিতার সাথে সঙ্গম করলেই সেটা ইসলামিক বেশ্যাবৃত্তি হয়না

গনতন্ত্রে নির্বাচনের মাধ্যমে শাসক পরিবর্তন হয়। ইসলামেও প্রায় নির্বাচনের মতই একটি ব্যবস্থায় শাসক নিযুক্ত হয় তাই ইসলাম গনতন্ত্র সমর্থন করে। আর সেজন্যই ইসলাম একটি গনতান্ত্রিক ব্যবস্থা!!
এর মানে আমি ইসলামকে Judge করার জন্য নির্বাচনকে পরিমাপক কিংবা মানদন্ড হিসেবে নিলাম। অর্থা নির্বাচনের সাথে কিছুটা মিল থাকায় ধরে নিলাম ইসলাম গনতন্ত্র সমর্থন করে এবং ইসলাম একটি গনতান্ত্রিক ব্যবস্থা। সংসদ, আইন, বিচার, অর্থনিতী, স্বরাষ্টনিতি, পরররাষ্ট্রনিতি, শিক্ষা ব্যবস্থা, আইন প্রনয়ন প্রয়োগ পদ্ধতি, শাসক নির্বাচন নিযুক্তি ইত্যাদি সবই গনতান্ত্রিক ব্যবস্থার অংশ। গনতন্ত্রের সকল অংশের মধ্যে একটি অংশ হল নির্বাচন। আমি যদি এই সকল অংশ বাদ দিয়ে শুধু মাত্র একটি অংশ মানে নির্বাচনকে দিয়ে Judge করি তাহলে নিচের প্রশ্ন গুলোর উত্তর কি হবে??
X
ইসলামের সাথে বিজ্ঞানের অনেক মিল রয়েছে তার মানে কি ইসলাম বৈজ্ঞানিক ইসলাম ?
X
ইসলামের অর্থিনীতির সাথে সমাজতন্ত্রের অর্থনিতির কিছুটা মিল রয়েছে। এর মানে কি ইসলাম সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থা ?
X
ইসলামের পররাষ্ট্রেনীতির সাথে সম্রাজবাদের মিল রয়েছে তার মানে কি ইসলাম সম্রাজ্যবাদী ব্যবস্থা ?
X
ইসলামের খলিফার মেয়াদের সাথে একনায়কতন্ত্র কিছুটা মিলে যায়। তার মানে কি ইসলাম একনায়কতান্ত্রিক ব্যবস্থা ?
X
ইসলামের কিছু বিষয় খুবি Strict তার মানে কি ইসলাম চরমপন্থি ব্যবস্থা ?
X
ইসলামের খলিফা নির্বাচনের সাথে গনতন্ত্রের মিল রয়েছে তার মানে কি ইসলাম গনতান্ত্রিক_ইসলাম ?
X
ইসলামের ধর্মনীতির সাথে জাজকতন্ত্রের মিল রয়েছে তার মানে কি ইসলাম জাজকতান্ত্রিক ব্যবস্থা ?
X
ইসলামের ঐক্যের নীতির সাথে রক্তা-রক্তির মিল রয়েছে তার মানে কি ইসলাম জঙ্গিবাদী ব্যবস্থা ?

ইসলাম একটি পুর্নাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা। "এই পুর্নাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা" এটা বুঝাতে যদি উপরের জীবন ব্যবস্থা গুলোর সাহায্য প্রয়োজন হয় তাহলে ইসলাম কিভাবে পুর্নাঙ্গ হল?? ইসলাম কি একটি সতন্ত্র জীবন ব্যবস্থা নয়?? এটা কি অন্যান্য জীবন ব্যবস্থা থেকে সম্পুর্ন রুপে আলাদা নয়?? যদি এটি সতন্ত্র জীবন ব্যবস্থাই হয় তাহলে অন্যের সাহায্য নিয়ে এটা বুঝানর মানে বোকামি ছাড়া আর কিছুই নয়। আর যদি ইসলাম বুঝাতে গনতন্ত্র সমাজতন্ত্রের সাহায্য প্রয়োজন হয় তাহলে অবশ্যই আমাদেরকে এটা বলতে হবে যে আল্লাহ অসীম নয়, আল্লাহ পারেন নাই একটি পুর্নাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা দিতে। এবং কোরানে যা বলা হয়েছে তা সত্য নয় গনতান্ত্রিক, সমাজতান্ত্রিক বুদ্ধিজীবীরা যা বলবে সেটাই সঠিক।

ইসলামকে বুঝানোর জন্য আজকে আমরা যারা অন্য তন্ত্র মন্ত্রের সাহায্য নিচ্ছি তাদেরকে বলব "গনতন্ত্র কি বা সমাজতন্ত্র কি" এগুলো বুঝানোর জন্য তো ইসলামের সাহয্য লাগে না। তাহলে এর মানে কি দারালো?? তন্ত্র মন্ত্র ইসলামের চেয়ে যুগোপযুগি?? তাহলে কি আল্লাহ মিথ্যাবাদী(নাউযুবিল্লাহ)?? ইসলাম সর্বযুগের জন্য যুগপযুগি বলে আল্লাহ কি আমাদের ধোকা দিয়েছেন??

So Brothers!!
Communism is Communism. Democracy is Democracy. And Khilafah is Khilafah. If I Tell something like “Islamic Pornography” How is that Sound?? Its Just Madness!! So There is no Such Ideology Called “Democratic Islam” or “Islamic Democracy”, “Communist Islam” or “Islamic Communism or Islamic Republic”

''ইমাম(খলিফাহ) হচ্ছে ঢালস্বরূপ যার পেছনে মুসলমানেরা যুদ্ধ করে এবং নিজেদের রক্ষা করে।''(মুসলিম)
''
যে বায়াহ ছাড়া মৃত্যুবরণ করলো, তার মৃত্যু হচ্ছে জাহেলিয়াতের মৃত্যু।''(মুসলিম)
ইসলামকে ইসলামের মত বুঝেন। অন্য কোন জীবন ব্যবস্থার মত করে নয় কারন ইসলাম অন্য কোন জীবন ব্যবস্থার মত না। এটা সম্পুর্ন আলাদা একটি জীবন ব্যবস্থা। এটা অন্য সকল জীবন ব্যবস্থা থেকে একটি সতন্ত্র জীবন ব্যবস্থা

গণতন্ত্র কি পারবে......????
যুক্তির খাতিরে যদি ধরে নিই যে শরীআ গণতন্ত্রকে মূদু সম্মতি দেয়, তাহলেই কি আমরা সেই মনজিলে মকসুদে পৌছঁতে পারবো? বিশেষ করে আলজেরিয়া মিশরের ঘটনার পর বিষয়টি ইসলামপন্থীদের ভাবিয়ে তুলছে!
. কুফরকে মিটিয়ে দিয়ে তাওহীদ প্রতিষ্ঠার ইসলামী রাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হল নামায কায়েম করা। এবং কাজ না করলে হাদীসে শাসকের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরার অনুমতি আছে।
নামায কায়েমের ব্যাপারে রাষ্ট্রের কর্তব্য কি? ব্যাপারে ইমাম আবু হানীফার মত হল বেনামাযীকে তওবা না করা পর্যন্ত জেলে বন্দী রাখা হবে আর অন্যান্য আলেমদের মত হল তওবার আহ্বান জানানো হবে অন্যথায় তাকে হত্যা করা হবে। এখন ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থার সবচেয়ে vital একটি  element গণতন্ত্র কতটুকু সফল হবে?
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের এক জরিপে দেখা গেছে দেশের মাত্র % মানুষ ওয়াক্ত নামায পড়ে। এখন আপনি কি করে আশা করেন যে তারা নামায কায়েমের ধরনের বিধানের পক্ষে ভোট দিবে? অর্থা তাদের ভোটে ইসলামী বিধান বাস্তবায়িত হবে এটা একটা আকাশ কুসুম কল্পনা।
ইনফ্যাক্ট গণতন্ত্রবাদী কোন একটি ইসলামি দল যদি ভাগ্যক্রমে ক্ষমতায় আসেও, তবুও তারা কখনই নামায কায়েম করবে না। কেননা এতে পরের নির্বাচনে গদি হারানোর ভয় আছে!!

(
বিষয়টা আরো একটু পরিষ্কার করিঃ যদি কোন রাষ্ট্রের শতভাগ মুসলিম নামায পড়ে তবুও আমরা রাষ্ট্রকে ইসলামী রাষ্ট্র
বলবো না যদি বেনামাযীর শাস্তির বিধান না থাকে। কিন্তু যে রাষ্ট্রে বেনামাযীর শাস্তির বিধান আছে, চাই সে রাষ্ট্রের সবাই নামায
নাও পড়ুক তাও সেটা ইসলামিক রাষ্ট্র। বস্তুত ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থা সম্পর্ক সম্যক আইডিয়া না থাকার কারনেই এই বিভ্রান্তগুলো ছড়াচ্ছে। কেউ কেউ মনে করে তাদের দল ১৫১ টা সিট পেলেই রাষ্ট্র ইসলামী হয়ে যাবে।)

. ইসলাম নামক মুক্তির বিহঙ্গ আজ জাতীয়তাবাদের লোহার খাঁচায় বন্দী। গণতন্ত্র কি পারবে লোহার খাঁচাকে ভেঙে ফেলতে???
. কোন ব্যক্তি দ্বীন ইসলাম থেকে ইহুদী বা খ্রিষ্টান হয়ে গেলে রাষ্ট্রের দায়িত্ব হল তাকে ক্বতল করা। আপনার কি মনে হয় আমেরিকা আপনাকে এত সহজে এই আইন বাস্তবায়ন করতে দিবে??
. ইসলামী রাষ্ট্রের বৈশিষ্ট্য হল তা ইহুদি খ্রিষ্টানদের কাছ থেকে জিযিয়া আদায় করবে। যারা কারনে অকারনে মার্কিন
দূতাবাসে ধন্যা দেয়, তারা এটা করার সাহস দেখাবে বলে কি আপনার মনে হয়?? কুফফারদের ফর্মুলায় তাদের স্বার্থবিরোধী আইনের স্বপ্ন দেখা কি নিছক বিভ্রান্তি নয়??
. ইসলামী রাষ্ট্র ইসলাম বিরোধী সকল বাতিল দলকে নিষিদ্ধ করবে, চাই তারা বামপন্থী হোক, সেক্যুলার হোক, কিংবা জাতীয়তাবাদী হোক।
তাদেরকে তওবা করার আহ্বান জানানো হবে, অন্যথায় তাদেরকে মুরতাদ ঘোষণা করে হত্যা করা হবে। বহুদলীয়
গণতন্ত্রকে স্বীকার করে নিয়ে কাজ করার সুযোগ কোথায়?? জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় এসে তাদের প্রিয় নাস্তিক বুদ্ধিজীবী কবি সাহিত্যিককে হত্যা করার নৈতিক শক্তি ইসলামি দলটি কই পাবে? অন্যান্য দলসমূহ নিষিদ্ধ করতে গেলে কার্যত গণতন্ত্রকে কবর চাপা দিতে হবে। যে জনগণের কাছ থেকে ভোটভিক্ষার মাধ্যমে দলটি ক্ষমতায় এসেছে তারা এটা মানবে কেন?? আর পশ্চিমারাই আঙুল চুষবে কেন??
. মিশর কিংবা আলজেরিয়ার মত পরিস্থিতি ঠেকানোর জন্য দরকার অস্ত্রশস্ত্র প্রশিক্ষণ। গণতন্ত্রবাদীদের এসব পরিস্থিত ট্যাকল দেওয়ার প্রস্তুতি কতটুকু?? আসলে গণতন্ত্র হল পশ্চিমাদের তৈরি করা ফাঁদ। যখন তারা দেখবে একটি ইসলামী দল ক্ষমতায় চলে এসেছে তখন মিথ্যা অভিযোগে তাদের উপর সন্ত্রাসী হামলা চালানো হবে এবং তখনও গণতন্ত্র রক্ষার দোহাই দেয়া হবে!!
. ১ম পর্বে আমরা দেখেছি পৃথিবীতে ব্যাপক বিস্তৃত একটি খিলাফতের প্রতিশ্রুতি রাসূল সঃ দিয়েছেন। এবং এটা প্রতিটা মাটির ঘর বা তাবু
পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। তাদেরকে ইসলাম বা জিযিয়ার আহ্বান জানাবে। কথিত ভোটাভোটির মাধ্যমে পৃথিবীতে এত বড় পরিবর্তন আসবে বলে বিশ্বাস করাটা কি বোকামী নয়?
. আমেরিকার র্যান্ড ইন্টস্টিটিউশন মডারেট মুসলিমদের যে চারটি বৈশিষ্ট্য বর্ণণা করেছে এবং যেগুলো তারা আমাদের উপর ইম্পোস করতে চায়, তার দুটি হল-
1. Accepting Democracy as understood in the liberal western traditions (not in islamic perspective)
2. Acceptance of non sectarian source of law. Those who want laws from a particular scriptures are extremist!!!
বিস্তারিত ইমাম আনোয়ার আল আওলাকির 'The Battles of Hearts & Minds' লেকচারটা শুনুন। যারা নিয়মিত আমেরিকার কাছে নিজেদের Moderate প্রমাণের জন্য
ধন্যা দেয়, কিভাবে তারা আমেরিকার দেওয়া Prescription ইসলামী রাস্ট্র প্রতিষ্ঠা করবে??
. প্রতিপক্ষের উপর বিজয়ী হবার সবচেয়ে সহজ কৌশল হল Dividation Rule. মোটাদাগে দেখলে এদেশের অল্পকিছু মানুষ ইসলামপন্থী। অতঃপর বহুদলীয় গণতন্ত্রের ফর্মুলা এই অল্প সংখ্যক ভোট ভাগ হবে এত্ত এত্ত ইসলামী দলের মাঝে। একদলের শাইখুল হাদীস দাড়াবে, অপরদলে দাড়িবিহীন শিক্ষিত তরুণ দাড়াবে। অতঃপর সমর্থকদের মাঝে শুরু হবে নোংরা কাঁদা ছোড়াছোড়ির খেলা, গীবত, অপবাদ, আর পরনিন্দার তুবড়ি ছোড়া। দূর থেকে সেক্যুলার বামপন্থীরা মজা লুটবে।
১০. শেষকথা একটা প্রকৃত ইসলামী রাষ্ট্র বিনা আক্রমণে বিশ্বব্যাপী জিহাদ পরিচালনা করবে দ্বীনকে চূড়ান্তভাবে বিজয়ী করার জন্যে। কাজেই কুফফাররা কখনই নিছক টিপসই দিয়ে এরূপ রাষ্ট্র হতে দিবে না। কখনই না

"আমল" হচ্ছে এমন একটা বিষয় যা আসলে খিলাফাহ থাকা বা না থাকার সাথে সম্পর্কিত না। যেমন ধরুন, সালাত, রোযা, যাকাত ইত্যাদি বিষয় গুলো আমাদের পালন করতে হবে রাষ্ট্র থাকুক বা নাই থাকুক। তাই একজন মুসলমান হিসেবে অবশ্যই আমলি হতেই হবে।
আর খিলফাহ প্রতিষ্ঠার ব্যাপারটা হল "মানহাজ" (পদ্ধতি) এর ব্যাপার। যদি জিজ্ঞাস করা হয় আপনি কোন পদ্ধতিতে (মানহাজ) আপনার জীবিকা চালাবেন (অর্থা চাকরী করে নাকি ব্যবসা করে), এর বিপরীতে আমরা বলবনা "আমলি" হতে হবে কারন আমলী হওয়া একজন মুসলিমের ব্যক্তিত্তের অপরিহার্য অংশ যার সাথে "মানহাজ" এর সম্পর্ক নাই
গণতন্ত্র শুধু ধ্যান ধারণা নয় বরং একটি দ্বীন,
যার আসল কাজ হল ইসলামকে ধ্বংস করা ! গণতন্ত্রের শিরকি ধ্যান ধারণা থেকে আমাদের প্রত্যেকজন মুসলিম নারী পুরুষের আকিদা পরিশুদ্ধ করা ফরজে আইন !!
যে সংসদে ইসলাম বিরোধী আইন পাশ হয় , যে সংসদ আল্লাহর আইনের তোয়াক্কা করে না , যে সংসদ মানুষের অধকার নিশ্চিত করেনা , যে সংসদ রাষ্ট্র পরিচালকদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করেনা , যে সংসদে অশ্লীল বাণীর চর্চা হয় , যে সংসদে দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেয়া হয় , যে সংসদে মদ-সুদের লাইসেন্স দেয়া হয় , যে সংসদ সকল ক্ষমতার ৎস একমাত্র আল্লাহ এটা অস্বীকার করে , সে সংসদ আর যাই হোক আমার কাছে কখনো ''পবিত্র সংসদ'' হতে পারে না
যারা সংসদে বসে পবিত্রতার মুখোশ নিয়ে আল্লাহর নির্দেশ বিরোধী আইন বাস্তবায়ন করে সংসদকে অপবিত্র করে তুলেছেন তাদেরকে কাল হাশরের ময়দানে আল্লাহর দরবারে অবশ্যই কঠিন জবাবদিহি দিতে হবে
গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে আইন পরিবর্তনের পদ্ধতি হল, বিল উত্থাপন সংখ্যাগরিষ্ঠতা অনুসরণ করা। এখন আপনি যদি এই প্রক্রিয়ায় বিল উত্থাপন সংখ্যাগরিষ্ঠতা দেখিয়ে মদ নিষিদ্ধ করেন, তাও তা হবে একপ্রকার মানবরচিত আইন। কারন এটার breeding process এটাকে তাই লছে। আমরা বলবো এটা এক প্রকার মানবরচিত আইন কিন্তু ঘটনাক্রমে এটা শরীয়াহ আইনের সাথে মিলে গেছে।ব্যভিচারের ফলে যে বাচ্চা হবে তাকে তো জারজ সন্তানই বলা হবে, যদিও ঘটা করে গরু জাবাই দিয়ে তার আকীকা করা হোক কিংবা জব্বরসই একখান আরবী নাম রাখা হোক!”
পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়া, রমযানের রোযা রাখা, হজ্ব করা, লম্বা জামা টুপি পড়া এবং জুম্মার নামাজের পর লম্বা দোয়া করা ইত্যাদিকেই বর্তমানে ইসলামের বিধিবিধান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আমাদের প্রাত্যহিক কার্যাবলীর সাথে ইসলামের কোন সম্পর্ক নেই।
তাই যদি হোত কোরআন পাতায় আসতো, নামাজ পড়ো, যাকাত দাও, হজ্ব কর, ইসলাম শেষ.....!
ইসলাম, জীবনযাপন উপযোগী ব্যাপক সমাধান আইন প্রনয়ন করেছে। ব্যক্তি জীবন থেকে শুরু করে সামাজিক জীবন সহ সবকিছুতেই ইসলাম সুস্পষ্ট আইন বিধান প্রদান করেছে
প্রসংগঃ আসাবিয়্যাত বা সাম্প্রদায়িকতা Nationalism
সংজ্ঞাঃ আসাবিয়্যাত এই যে,নিজ কওম অন্যায়ের উপর থাকা সত্ত্বেও মানুষ নিজের কওমকে সাহায্য করে।[মুসনাদে আহমাদ।]
আসাবিয়্যাতের ভয়াবহতাঃ
হযরত জুবায়ের ইবনে মুতঈম (রাঃ)হইতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)এরশাদ করিয়াছেন, যে ব্যক্তি আসাবিয়্যাতের অহমিকার [দাওয়াত] দেয় সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়। আর যে ব্যক্তি আসাবিয়াতের ভিত্তির উপর [লড়াই] করে সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।আর যে আসাবিয়্যতের [জোশের] উপর মারা যায় সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।[আবু দাউদ।]
উল্লেখ্য, আপন কওমকে মহব্বত করা আসাবিয়্যাত নয়।আসাবিয়্যাত এই যে,নিজ কওম অন্যায়ের উপর থাকা সত্ত্বেও মানুষ নিজের কওমকে সাহায্য করে।[মুসনাদে আহমাদ।]
আরেকটা বিষয় হচ্ছে, মুসলমানদের জন্য কোন রাষ্ট্রীয় সীমানা নেই।পুরা পৃথিবীর যেখানেই মুসলমানরা থাকুক না কেন তারা একে অন্যের ভাই।নিজেকে একটা ছোট্ট রাষ্ট্রীয় সীমানার মধ্যে বন্দি করে ফেলার মত অজ্ঞতা নীচু মানসিকতা, মুসলমানদের পরিহার করা উচিত কেননা এটা ইসলামের শিক্ষা নয়
পৃথীবির সবচেয়ে নম্র ভদ্র ব্যাক্তি বিশ্ব নবি মুহাম্মাদ (সাঃ)এখানেই থেমে থাকেন নি বলেছেন এই কথাটি বলতে কেউ লজ্জাবোধ করো না, দেখুন হাদিসটি, “যে জাতীয়তাবাদ তথা আসোবিয়্যাহ্ জাহিলি আহবানের দিকে মানুষকে ডাকে সে যেন তার পিতার লজ্জাস্থান কামড়ে ধরে পড়ে আছে (তাকে ছাড়তে চাইছে না)এরপর রাসূলুল্লাহ বলেন, এবং একথাটি লুকিয়ে রেখো না। অর্থা বলার ক্ষেত্রে কোনো লজ্জা বা অস্বস্তিবোধ করো না। إِذَا الرَّجُلُ تَعَزَّى بِعَزَاءِ الْجَاهِلِيَّةِ فَأَعِضُّوهُ بِهَنِ أَبِيهِ وَلَا تَكْنُوا [মুসনাদেআহমাদ, হাদীস: ২১২৩৬]
রাসূলুল্লাহ এবং সাহাবাগণ (রা) সবসময় উত্তম ভাষায় কথা বলতেন। এমন কি চরম তিরস্কার করার সময়েও উনারা বাক্য চয়নে সতর্ক থাকতেন। কিন্তুজাতীয়তাবাদ নিয়ে স্বয়ং রাসূল এই ভাষা ব্যবহার করতে বলেছেন।তাহলে বুজেন জাতীতাবাদ কত খারাপ জিনিস

নামাজ রোযা সবই করেন অথচ কেবলমাত্র গণতন্ত্রে বিশ্বাস করার কারনেই পরোক্ষভাবে ফারদুল আইন বা বাধ্যতামূলক আইন অবজ্ঞার কারনে কাফির হয়ে যায় অনেক ভাইই আল্লাহ্ তাদের হেদায়াত দান করুন আমীন