গণতান্ত্রিক পন্থায় শরীয়াহ প্রতিষ্ঠা : একটি ইতিহাস নির্ভর পর্যালোচনা
•••••••••••••••••••••••••••••• •••••
মুসলিমদেশসমূহের অনেক ইসলামি দল গণতান্ত্রিক পন্থায় ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্যে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছে । যদিও এসব দল দ্বারা ইসলামের অনেক খেদমত হয়েছে যা অস্বীকার করার উপায় নেই । কিন্তু ইসলাম প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে তারা প্রায় ব্যর্থ হয়েছেন ।
আমরা এখানে বিশ্বের প্রাচীন একাধিক দেশে ইসলামি রাজনীতি চর্চাকারী তিনটি বৃহত ইসলামি দলের শুধু শরীয়াহ প্রতিষ্ঠার ব্যর্থতা তুলে ধরব ।
জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম :
১৯১৯ সালে ভারতবর্ষকে ব্রিটিশদের গোলামী থেকে মুক্ত করার লক্ষ্যে এ দলের প্রতিষ্ঠা হয় । ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে এদলের অনেক শীর্ষনেতাসহ কর্মিরা নির্যাতন ভোগ করেন ।
১৯৪৭ সালে যখন ব্রিটিশরা এদেশকে চলে যায় তখন এদলটি দু-ভাগে বিভক্ত হয়ে যায় ।
১-জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ : তারা ভারতেই থেকে যান । কিন্তু তারা রাজনৈতিক অবস্থান থেকে সরে এসে দাওয়াতি সংগঠনে রূপ নেন । কিন্তু যেহেতু ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে এদলের অবদান অপরীসীম, তাই ভারত সরকার তাদেরকে পার্লামেন্টে চিরস্থায়ী কয়েকটি সংরক্ষিত আসন দেয় । তখন থেকেই তারা কংগ্রেসকে সমর্থন দিয়ে আসছেন ।
জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম পাকিস্তান : পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর তারা রাজনৈতিক চর্চা শুরু করেন । অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে এদল একবার সত্তরদশকে পাকিস্তানের সীমান্ত প্রদেশে সংখ্যাগরিষ্ট আসন পেয়ে দলটির প্রধান মুফতি মাহমুদ রাহ. উক্তপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী নিযুক্ত হন । তিনি মুখ্যমন্ত্রী নিযুক্ত হবার পর সীমান্ত প্রদেশে মদ-সুদ ইত্যাদি নিষিদ্ধ করেন । কিন্তু তা কার্যকর হবার পুর্বেই ক্ষমতাসীন জুলফিকার আলী ভুট্টো সরকার তাকে পদচ্যুত করে !!
বর্তমানে তার ছেলে মাওলানা ফজলুর রহমান সাহেবের নেতৃত্বে জমিয়ত পরিচালিত হচ্ছে । বিগত কয়েক নির্বাচনে তাদের অবস্থা হচ্ছে-
নব্বই দশকে বেনজীর ভুট্টোর সাথে জোট গঠন । বিগত নির্বাচনে এককভাবে ১২ আসন অর্জন । এর আগে ৪ । এর পুর্বে সব ইসলামি দলের সাথে জোট করে ৫৩ আসন । একবার সীমান্ত প্রদেশে মুখ্যমন্ত্রী হলেও সেখানে শরীয়াহ প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থ ।
উল্লেখ্য, এ দলটির মধ্যে একাধিকবার ভাঙ্গন সৃষ্টি হয় । বর্তমানে পাকিস্তানে জমিয়ত এফ এবং এস নামে দুটি দল আছে ।
জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ : স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে তাদের কার্যক্রম উল্লেখযোগ্য । দলটির মহাসচিব মুফতি ওয়াক্কাস সাহেব (বর্তমানে কারাগারে আল্লাহ তাকে রহম করুন) তিন প্রতীক(লাঙ্গল, খেজুরগাছ ও ধান) নিয়ে তিন তিনবারের নির্বাচিত এমপি । এরশাদের আমলের ধর্ম প্রতিমন্ত্রী । দলটির সফলতা ব্যর্থতা নিয়ে আপনারাই ভাবুন ।
২০০১সালে দলটির মধ্যে ভাঙ্গন সৃষ্টি হয় ।
ইখওয়ানুল মুসলিমীন :
১৯২৭ সালে খেলাফতের পতনের পরপরই মুসলিমবিশ্বের দিক-নির্দেশনা দেওয়ার লক্ষ্যে এদলটির জন্ম হয় । তাদের শ্লোগান ছিল দাওয়াত ও জিহাদ । ফিলিস্তিন রক্ষার জন্যে জিহাদ করে । আরববিশ্বের মিশর, সুদান, সিরিয়া, লিবিয়া এবং জর্ডানসহ অনেকদেশে ছড়িয়ে পড়ে । পরে তারা আস্তে আস্তে গণতন্ত্রের দিকে ধাবিত হয় । মিসরে ক্ষমতায় যায় । কিন্তু !
জামায়াতে ইসলামি :
এটা ইসলামি দল কিনা তা নিয়ে উপমহাদেশের আলেমদের কথা যে, এটা ইসলামি দল নয় । আমরাও এটাকে ইসলামি দল মনে করি না । কিন্তু যেহেতু এদলটি নিজেকে ইসলামি দল দাবি করে সে হিসেবে এখানে স্থান দেওয়া ।
১৯৪১ সালে এদলটির জন্ম । ভারত-পাকিস্তান-বাংলাদেশে তারা ছড়িয়ে আছে । কিন্তু আজপর্যন্ত তারা কোথাও এককভাবে বা নেতৃত্ব দিয়ে জোটবদ্ধভাবে ক্ষমতায় যেতে পারেনি । এমনকি কোনো প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীও হতে পারে নি । তারা সর্বদা অন্যের ক্ষমতায় যাওয়ার সিড়ি হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে ।
এ দলগুলো ছাড়া বিশ্বের অনেকদেশে আরো গণতান্ত্রিক ইসলামি দল আছে । যদি এগুলোর তালিকা দিতে থাকি তাহলে খবর পাবো, এই মুহুর্তে আরেকটি ইসলামি দলের জন্ম হয়েছে । যদি পারেন তাহলে শুধু বাংলাদেশের দলগুলোই হিসেব করুন ।
গণতান্ত্রিক পন্থায় তুরস্ক, আলজেরিয়া, তিউনিশিয়াসহ অনেক দল নির্বাচিত হলেও অনেকে ক্ষমতায় যাওয়ার পুর্বেই ছিটকে পড়েছেন, আবার কেউ কেউ ক্ষমতায় গেলেও কোথাও এক সেকেন্ডের জন্যে একটি গ্রামে পরিপুর্ণ শরীয়াহ কায়েম করতে পারেন নি ।
যদি আমরা গণতান্ত্রিক দলগুলোর প্রতি চোখ রাখি তাহলে দেখতে পাবো—
১- যে তারা বারবার এরশাদের মতো আদর্শ বদলিয়েছেন ।
২- নিজেদের মধ্যে ভাঙ্গন তৈরি করেছেন ।
৩- নিজেদের প্রধান শত্রু বানিয়েছেন স্বদেশের ভিন্ন মতালম্বী জনতাকে ।
৪- আসন অর্জনের মধ্যে আবহাওয়ার মতো পরিবর্তন হয়েছে ।
৫- একই নামে একাধিক দেশে অনেক দল আছে, কিন্তু একটির সাথে আরেকটি সম্পর্ক নেই !!!
৬- উম্মাহের দুর্দিনে তাদের অবস্থান হচ্ছে, প্রথমে সভা-সেমিনার, প্রতিবাদ সমাবেশ, পরে নীরব দর্শক ।
এবার আসুন আমরা দেখি, বর্তমানে বিশ্বে কোন পদ্ধতিতে শরীয়াহ প্রতিষ্ঠিত আছে ।
তালেবান :
জন্ম ১৯৯৪ সালে । ২০০১ সালের মধ্যে মাত্র সাড়ে ৬ বছরে আফগানিস্তানের ৯৫ % এলাকায় শরীয়াহ প্রতিষ্ঠা ।
ইসলামিক স্টেইট ইন ইরাক এন্ড শাম :
২০০৬ সালে শুরু । বর্তমানে ইরাকের এক তৃতীয়াংশ ও সিরিয়ার এক চতুর্থাংশে শরীয়াহ প্রতিষ্ঠা ।
আন্সারুসশরীয়াহ (ইয়েমেন) :
২০১১ সালে জন্ম । এ যাবত আদন-আবিয়ান সহ প্রায় দুটি প্রদেশে শরীয়াহ প্রতিষ্ঠা ।
আন্সারুদ্দীন (মালি) :
সুচনা নব্বই দশকে । ২০১১ সালে দেশের দুই তৃতীয়াংশ দখলে ।
হরকতুশ শাবাবিল মুজাহিদীন (সোমালিয়া) :
নব্বই দশকে বিচ্ছিন্নভাবে শুরু হলেও আনুষ্ঠানিক যাত্রা ২০০৬ সালে । দেশের ৭০% তাদের দখলে এবং শরীয়াহ প্রতিষ্ঠিত আছে !
টিটিপি (পাকিস্তান) :
২০০৬ সালে যাত্রা । বর্তমানে খাইবার-পাখতুনখোয়াতে ৭০% এলাকায় শরীয়াহ প্রতিষ্ঠা ।
এবার আসুন এগুলোর উপর একটু পর্যালোচনা করি ।
১- আসল শত্রু স্বদেশী জনতা নয়, বরং বিদেশী ক্রুসেডার ও স্বদেশী দালাল ।
২- তারা রক্ত দিয়েছেন তবুও আদর্শ বদলান নি ।
৩- বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভিন্ন ভিন্ন নামে হলেও সবটাই একসুত্রে গাথা ।
৪- দিন যত যায় তাদের ভাঙ্গন ততো কমে । যেমন-সিরিয়ায় বর্তমানে পঞ্চাশোর্ধ দল দু'দলে রূপ নিয়েছে । আগামীতে একদলে ইনশাআল্লাহ !
৫- গণতান্ত্রিক পন্থায় সবচেয়ে কমবয়েসি দলের জন্ম ১৯৪১ সালে । জিহাদি পন্থায় সবচেয়ে বর্ষীয়ান দলের জন্ম নব্বই দশকে ।
৬- গণতান্ত্রিক পন্থায় বিশ্বের কোথাও এক সেকেন্ডের জন্যে একটি গ্রামেও শরীয়াহ প্রতিষ্ঠিত হয় নি ।
৭- উম্মাহের দুর্দিনে তাদের অবস্থান হচ্ছে, প্রথমে জিহাদের ঘোষণা, পরে বেছে-চেছে তাগুতকে জাহান্নামে প্রেরণ । যেমন-বর্তমানে মিসরে আন্সারুল বায়তিল মাকদিস করতেছে ।
বিঃদ্রঃ অনেকে হয়তো বলবেন, লিবিয়া সরকারতো সংসদে শরীয়াহ আইন পাশ করেছে, অথচ এটাতো গণতান্ত্রিক পন্থা !
আমরা বলবো, দেখুন, লিবীয় প্রধানমন্ত্রী আলী যাইদান সেদিন আমেরিকা-বৃটেনের কাছে সামরিক সহায়তা চেয়েছেন, বুঝতেই পারছেন এটা সৌদী আরবের শরীয়াহ (!) । নবীজীর নয় ।
তাছাড়া এটাতো গণতান্ত্রিক পন্থায় নয়, বরং যখন গাদ্দাফির পতন হয় তখন এনসিসি প্রধান মুস্তফা আব্দুল জলীল বলেন, শরীয়াই হবে লিবীয় আইনের মুল উতস ।
তিনি সুদকে নিষিদ্ধ করে এবং একাধিক বিবাহের বৈধতা দিয়ে দেশে ডিক্রি জারি করেন ।
গাদ্দাফির পতন কি গণতান্ত্রিক পন্থায় হয়েছিল ?
••••••••••••••••••••••••••••••
মুসলিমদেশসমূহের অনেক ইসলামি দল গণতান্ত্রিক পন্থায় ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্যে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছে । যদিও এসব দল দ্বারা ইসলামের অনেক খেদমত হয়েছে যা অস্বীকার করার উপায় নেই । কিন্তু ইসলাম প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে তারা প্রায় ব্যর্থ হয়েছেন ।
আমরা এখানে বিশ্বের প্রাচীন একাধিক দেশে ইসলামি রাজনীতি চর্চাকারী তিনটি বৃহত ইসলামি দলের শুধু শরীয়াহ প্রতিষ্ঠার ব্যর্থতা তুলে ধরব ।
জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম :
১৯১৯ সালে ভারতবর্ষকে ব্রিটিশদের গোলামী থেকে মুক্ত করার লক্ষ্যে এ দলের প্রতিষ্ঠা হয় । ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে এদলের অনেক শীর্ষনেতাসহ কর্মিরা নির্যাতন ভোগ করেন ।
১৯৪৭ সালে যখন ব্রিটিশরা এদেশকে চলে যায় তখন এদলটি দু-ভাগে বিভক্ত হয়ে যায় ।
১-জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ : তারা ভারতেই থেকে যান । কিন্তু তারা রাজনৈতিক অবস্থান থেকে সরে এসে দাওয়াতি সংগঠনে রূপ নেন । কিন্তু যেহেতু ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে এদলের অবদান অপরীসীম, তাই ভারত সরকার তাদেরকে পার্লামেন্টে চিরস্থায়ী কয়েকটি সংরক্ষিত আসন দেয় । তখন থেকেই তারা কংগ্রেসকে সমর্থন দিয়ে আসছেন ।
জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম পাকিস্তান : পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর তারা রাজনৈতিক চর্চা শুরু করেন । অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে এদল একবার সত্তরদশকে পাকিস্তানের সীমান্ত প্রদেশে সংখ্যাগরিষ্ট আসন পেয়ে দলটির প্রধান মুফতি মাহমুদ রাহ. উক্তপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী নিযুক্ত হন । তিনি মুখ্যমন্ত্রী নিযুক্ত হবার পর সীমান্ত প্রদেশে মদ-সুদ ইত্যাদি নিষিদ্ধ করেন । কিন্তু তা কার্যকর হবার পুর্বেই ক্ষমতাসীন জুলফিকার আলী ভুট্টো সরকার তাকে পদচ্যুত করে !!
বর্তমানে তার ছেলে মাওলানা ফজলুর রহমান সাহেবের নেতৃত্বে জমিয়ত পরিচালিত হচ্ছে । বিগত কয়েক নির্বাচনে তাদের অবস্থা হচ্ছে-
নব্বই দশকে বেনজীর ভুট্টোর সাথে জোট গঠন । বিগত নির্বাচনে এককভাবে ১২ আসন অর্জন । এর আগে ৪ । এর পুর্বে সব ইসলামি দলের সাথে জোট করে ৫৩ আসন । একবার সীমান্ত প্রদেশে মুখ্যমন্ত্রী হলেও সেখানে শরীয়াহ প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থ ।
উল্লেখ্য, এ দলটির মধ্যে একাধিকবার ভাঙ্গন সৃষ্টি হয় । বর্তমানে পাকিস্তানে জমিয়ত এফ এবং এস নামে দুটি দল আছে ।
জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ : স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে তাদের কার্যক্রম উল্লেখযোগ্য । দলটির মহাসচিব মুফতি ওয়াক্কাস সাহেব (বর্তমানে কারাগারে আল্লাহ তাকে রহম করুন) তিন প্রতীক(লাঙ্গল, খেজুরগাছ ও ধান) নিয়ে তিন তিনবারের নির্বাচিত এমপি । এরশাদের আমলের ধর্ম প্রতিমন্ত্রী । দলটির সফলতা ব্যর্থতা নিয়ে আপনারাই ভাবুন ।
২০০১সালে দলটির মধ্যে ভাঙ্গন সৃষ্টি হয় ।
ইখওয়ানুল মুসলিমীন :
১৯২৭ সালে খেলাফতের পতনের পরপরই মুসলিমবিশ্বের দিক-নির্দেশনা দেওয়ার লক্ষ্যে এদলটির জন্ম হয় । তাদের শ্লোগান ছিল দাওয়াত ও জিহাদ । ফিলিস্তিন রক্ষার জন্যে জিহাদ করে । আরববিশ্বের মিশর, সুদান, সিরিয়া, লিবিয়া এবং জর্ডানসহ অনেকদেশে ছড়িয়ে পড়ে । পরে তারা আস্তে আস্তে গণতন্ত্রের দিকে ধাবিত হয় । মিসরে ক্ষমতায় যায় । কিন্তু !
জামায়াতে ইসলামি :
এটা ইসলামি দল কিনা তা নিয়ে উপমহাদেশের আলেমদের কথা যে, এটা ইসলামি দল নয় । আমরাও এটাকে ইসলামি দল মনে করি না । কিন্তু যেহেতু এদলটি নিজেকে ইসলামি দল দাবি করে সে হিসেবে এখানে স্থান দেওয়া ।
১৯৪১ সালে এদলটির জন্ম । ভারত-পাকিস্তান-বাংলাদেশে তারা ছড়িয়ে আছে । কিন্তু আজপর্যন্ত তারা কোথাও এককভাবে বা নেতৃত্ব দিয়ে জোটবদ্ধভাবে ক্ষমতায় যেতে পারেনি । এমনকি কোনো প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীও হতে পারে নি । তারা সর্বদা অন্যের ক্ষমতায় যাওয়ার সিড়ি হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে ।
এ দলগুলো ছাড়া বিশ্বের অনেকদেশে আরো গণতান্ত্রিক ইসলামি দল আছে । যদি এগুলোর তালিকা দিতে থাকি তাহলে খবর পাবো, এই মুহুর্তে আরেকটি ইসলামি দলের জন্ম হয়েছে । যদি পারেন তাহলে শুধু বাংলাদেশের দলগুলোই হিসেব করুন ।
গণতান্ত্রিক পন্থায় তুরস্ক, আলজেরিয়া, তিউনিশিয়াসহ অনেক দল নির্বাচিত হলেও অনেকে ক্ষমতায় যাওয়ার পুর্বেই ছিটকে পড়েছেন, আবার কেউ কেউ ক্ষমতায় গেলেও কোথাও এক সেকেন্ডের জন্যে একটি গ্রামে পরিপুর্ণ শরীয়াহ কায়েম করতে পারেন নি ।
যদি আমরা গণতান্ত্রিক দলগুলোর প্রতি চোখ রাখি তাহলে দেখতে পাবো—
১- যে তারা বারবার এরশাদের মতো আদর্শ বদলিয়েছেন ।
২- নিজেদের মধ্যে ভাঙ্গন তৈরি করেছেন ।
৩- নিজেদের প্রধান শত্রু বানিয়েছেন স্বদেশের ভিন্ন মতালম্বী জনতাকে ।
৪- আসন অর্জনের মধ্যে আবহাওয়ার মতো পরিবর্তন হয়েছে ।
৫- একই নামে একাধিক দেশে অনেক দল আছে, কিন্তু একটির সাথে আরেকটি সম্পর্ক নেই !!!
৬- উম্মাহের দুর্দিনে তাদের অবস্থান হচ্ছে, প্রথমে সভা-সেমিনার, প্রতিবাদ সমাবেশ, পরে নীরব দর্শক ।
এবার আসুন আমরা দেখি, বর্তমানে বিশ্বে কোন পদ্ধতিতে শরীয়াহ প্রতিষ্ঠিত আছে ।
তালেবান :
জন্ম ১৯৯৪ সালে । ২০০১ সালের মধ্যে মাত্র সাড়ে ৬ বছরে আফগানিস্তানের ৯৫ % এলাকায় শরীয়াহ প্রতিষ্ঠা ।
ইসলামিক স্টেইট ইন ইরাক এন্ড শাম :
২০০৬ সালে শুরু । বর্তমানে ইরাকের এক তৃতীয়াংশ ও সিরিয়ার এক চতুর্থাংশে শরীয়াহ প্রতিষ্ঠা ।
আন্সারুসশরীয়াহ (ইয়েমেন) :
২০১১ সালে জন্ম । এ যাবত আদন-আবিয়ান সহ প্রায় দুটি প্রদেশে শরীয়াহ প্রতিষ্ঠা ।
আন্সারুদ্দীন (মালি) :
সুচনা নব্বই দশকে । ২০১১ সালে দেশের দুই তৃতীয়াংশ দখলে ।
হরকতুশ শাবাবিল মুজাহিদীন (সোমালিয়া) :
নব্বই দশকে বিচ্ছিন্নভাবে শুরু হলেও আনুষ্ঠানিক যাত্রা ২০০৬ সালে । দেশের ৭০% তাদের দখলে এবং শরীয়াহ প্রতিষ্ঠিত আছে !
টিটিপি (পাকিস্তান) :
২০০৬ সালে যাত্রা । বর্তমানে খাইবার-পাখতুনখোয়াতে ৭০% এলাকায় শরীয়াহ প্রতিষ্ঠা ।
এবার আসুন এগুলোর উপর একটু পর্যালোচনা করি ।
১- আসল শত্রু স্বদেশী জনতা নয়, বরং বিদেশী ক্রুসেডার ও স্বদেশী দালাল ।
২- তারা রক্ত দিয়েছেন তবুও আদর্শ বদলান নি ।
৩- বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভিন্ন ভিন্ন নামে হলেও সবটাই একসুত্রে গাথা ।
৪- দিন যত যায় তাদের ভাঙ্গন ততো কমে । যেমন-সিরিয়ায় বর্তমানে পঞ্চাশোর্ধ দল দু'দলে রূপ নিয়েছে । আগামীতে একদলে ইনশাআল্লাহ !
৫- গণতান্ত্রিক পন্থায় সবচেয়ে কমবয়েসি দলের জন্ম ১৯৪১ সালে । জিহাদি পন্থায় সবচেয়ে বর্ষীয়ান দলের জন্ম নব্বই দশকে ।
৬- গণতান্ত্রিক পন্থায় বিশ্বের কোথাও এক সেকেন্ডের জন্যে একটি গ্রামেও শরীয়াহ প্রতিষ্ঠিত হয় নি ।
৭- উম্মাহের দুর্দিনে তাদের অবস্থান হচ্ছে, প্রথমে জিহাদের ঘোষণা, পরে বেছে-চেছে তাগুতকে জাহান্নামে প্রেরণ । যেমন-বর্তমানে মিসরে আন্সারুল বায়তিল মাকদিস করতেছে ।
বিঃদ্রঃ অনেকে হয়তো বলবেন, লিবিয়া সরকারতো সংসদে শরীয়াহ আইন পাশ করেছে, অথচ এটাতো গণতান্ত্রিক পন্থা !
আমরা বলবো, দেখুন, লিবীয় প্রধানমন্ত্রী আলী যাইদান সেদিন আমেরিকা-বৃটেনের কাছে সামরিক সহায়তা চেয়েছেন, বুঝতেই পারছেন এটা সৌদী আরবের শরীয়াহ (!) । নবীজীর নয় ।
তাছাড়া এটাতো গণতান্ত্রিক পন্থায় নয়, বরং যখন গাদ্দাফির পতন হয় তখন এনসিসি প্রধান মুস্তফা আব্দুল জলীল বলেন, শরীয়াই হবে লিবীয় আইনের মুল উতস ।
তিনি সুদকে নিষিদ্ধ করে এবং একাধিক বিবাহের বৈধতা দিয়ে দেশে ডিক্রি জারি করেন ।
গাদ্দাফির পতন কি গণতান্ত্রিক পন্থায় হয়েছিল ?

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন