গণতন্ত্র সম্পর্কে আমার উপলব্ধি -
দ্বীন অধ্যায়নের ক্ষেত্রে আমি গত কয়েক বছর এতো সময় বা এতো চিন্তা অন্য কিছুতে ব্যয় করিনি যতোটা সময় "গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ইসলাম কায়েম" করার উপায় সমূহ বুঝতে ব্যয় করেছি । সর্বশেষ গত সাত মাস আগে আমি বুঝতে সক্ষম হয়েছি যে , গণতন্ত্র হচ্ছে ইসলামের সাথে একটি নিখুঁত প্রতারণা । এই বুঝটা পেতে আমাকে কোন বিশেষ দল বা ব্যক্তি প্রভাবিত করেনি । আমি এমন একটা পাবলিক যে দ্বীনের কোন একটি বিষয়ে সিদ্ধান্তে পোঁছানোর আগে বার বার আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই এবং পরিপূর্ণ ভাবে কুরান-সুন্নাহ কে দলীল হিসেবে উপস্থিত রাখি। আমি যখনই দ্বীনের কোন বিষয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগেছি তখনই আল্লাহর আশ্রয় নিয়েছি । আলহামদুলিল্লাহ , মহান আল্লাহ আমাকে সাহায্য করেছেন ।
সত্যি বলতে কি গণতন্ত্র দিয়ে ইসলাম কায়েম করা কখনো সম্ভব নয় । গণতন্ত্র ইসলামের সাথে পিউর সাংঘর্ষিক । গণতন্ত্র দিয়ে কখনো মুসলিমদের স্বার্থ উদ্ধার বা অধিকার আদায় করা বা আল্লাহর যমিনে আল্লাহর আইন বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। কাফেরদের তৈরি গণতন্ত্র কখনো প্রকৃত ইসলামের কথা বলে না এবং আপনাকে বলতেও দিবে না । আপনি যখন তাদের দেখানো গণতন্ত্র দিয়ে একটু-আধটু ইসলামের কথা বলবেন , তখন দেখবেন তারা আপনার জন্য গণতন্ত্রকে নতুন ভাবে উপস্থাপন করবে , যা স্বৈরতন্ত্রকেও হার মানায় । এই হচ্ছে তাদের গণতন্ত্র , যা আলজেরিয়া ও মিশরের দিকে তাকালে বোঝা যায় । এমনকি এই বাংলাদেশে ইসলামপন্থিদের সাথে নির্মম আচরণের সময়ও গণতন্ত্র গায়েব ছিল ।
এই দেশের মাটিতে এমন সব মানুষের রক্ত পড়েছে যারা নিজেদের জান-মাল নিয়ে আল্লাহর জন্য উপস্থিত থাকতে নিজের সাথে সবসময় দৃঢ় প্রতিজ্ঞ থাকে । আমার বিশ্বাস একটা সময় পর এই দেশের সকল ইসলামপন্থি দলসহ সারা বিশ্বের মুসলিমরা বুঝতে সক্ষম হবেন যে , গণতন্ত্র ইসলামের সাথে একটি নিখুঁত প্রতারণা ছাড়া আর কিছুই নয় এবং এইখানে হিকমাহ'র ব্যাপারটাও প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণে অস্পষ্ট । আল্লাহ ভাল জানেন ।
আমি এই পোস্টে তর্ক চাই না । কারণ , এইখানে আমি শুধুমাত্র গণতন্ত্র নিয়ে আমার অবস্থান উল্লেখ করেছি মাত্র । ইনশা'আল্লাহ , আমি কুরান ও রাসুল(সঃ) এর সীরাহ'র আলোকে বিশ্ব প্রেক্ষপটে গণতন্ত্র কেন মুসলিমদের সাথে প্রতারণা তা বেশ কয়েকটি পার্টে পেশ করবো । তখন কারো কিছু বলার থাকলে বলতে পারবেন ।
এটা অবশ্যই সঠিক যে, গনতন্ত্রের মাধ্যমে আপনি যতই যাই করুন, ইসলামের কথা বললেই তারা সম্পূর্ন অগনতান্ত্রিক পন্থায় আপনাকে নামাবে। এই ত কদিন আগে ওবামা বলল, "ভোটই শেষ কথা নয়" এর মানে, যতই ভাল ভোট হোক, ইসলামের কথা বললে মানা হবে না।
ভাই আল্লাহ মুনাফিকদের সাথে কঠোরতা অবলম্বন করতে বলেছেন আর কাফেরদের সাথে শত্রুতা— ইব্রাহীম আঃ ঘোষনা করেছিলেন কাফেরদের সাথে আমাদের শত্রুতা কিয়ামত পর্যন্ত আর আল্লাহ বলেছেন তোমরা ইব্রাহিমের দিকে লক্ষ করো— আপনি গনতন্ত্রের লাথি না মারলে কখনও মুনাফিকদের সাথে কঠোরতা অবলম্বন করতে পারবেন না কারন তারা সংখ্যাগরিষ্ঠতা দেখিয়ে আপনার হাত বেধে রাখবে— আর আপনি যেহেতু গনতন্ত্র মেনে নিয়েছেন তখন এটাও মেনে নিতে হবে যা ঐ সংখ্যাগরিষ্ট মুনাফিক ফায়সালা করবে
মানবাধিকার সংস্থা অধিকার বলছে, শুধু ২০০১ সাল থেকে ২০১৩-এর আগস্ট পর্যন্ত সময়েই রাজনৈতিক সহিংসতায় প্রাণ হারিয়েছেন তিন হাজার ৯২৬ জন এবং আহত হয়েছেন এক লাখ ৫৮ হাজার ২১১ জন। এর মধ্যে ২০০১ সালেই মারা গেছেন ৬৫৬ জন।
জাতীয় ‘মানবাধিকার’ কমিশনের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, “এই সংখ্যা তো ভয়াবহ। যে মানুষগুলো মারা গেলেন কিংবা যে লক্ষাধিক মানুষ আহত হলেন, কে তাঁদের দায়িত্ব নিয়েছে? এটা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। কোনো সভ্য সমাজে এটা চলতে পারে না”।
এই ভদ্দর লোকের কথার সাথে আমিও এক্ষেত্রে সম্পূর্ণ একমত। কোনো সভ্য সমাজে এটা চলতে পারে না। তাহলে যে সমাজে এটা চলছে সেটা নিশ্চয়ই অসভ্য বর্বর সমাজ? এবং যুগপৎ গনতান্ত্রিক সমাজ। গনতন্ত্রবাদী এই সন্ত্রাসীদের হাত থেকে জাতিকে মুক্ত করার জন্য প্রত্যেক বিবেকবান ব্যক্তিকে এগিয়ে আসতে হবে। আজই, এক্ষুনি।

http://shomokalin.com/article/democratic-terrorism
খিলাফত ও জনসংখ্যা সমস্যা...
ড্যান ব্রাউনের 'ইনফার্নো' বইটাতে জনসংখ্যা সমস্যার বিষয়টা তুলে ধরা হয়েছে। ড্যান সাহেব তার বইটাতে যে সমাধান দিয়েছেন সেটা হল যে এই জনসংখ্যার একটা অংশকে প্রজননে অক্ষম করে ফেলা হবে ফলে জনসংখ্যা কমে যাবে। এটা অবশ্যই হাস্যকর একটা সমাধান ।
ড্যানের হাস্যকর সমাধানের মত ফ্যামিলি প্লানিংও হল হাস্যকর সমাধান।
ড্যান ব্রাউন তার বইয়ে পৃথিবীকে জাহাজের সাথে তুলনা করেছেন ,জাহাজের যাত্রীসংখ্যা ধারণক্ষমতার বেশি হয়ে গেলে জাহাজ যেমন ডুবে যায় তেমনি পৃথিবীতে মানুষ বেড়ে গেলে পৃথিবীও ধ্বংস হয়ে যাবে! ড্যান সাহেবের তুলনায় একটু ভুল ছিল। সেটা হল পৃথিবীকে আল্লাহ্ তাআলা এমনভাবেই সৃষ্টি করেছেন যাতে পৃথিবীতে মানুষ আরামে বসবাস করতে পারে, গাদাগাদি করে যেন কষ্টে থাকা না লাগে। অর্থাৎ পৃথিবীর ধারণক্ষমতা অনুযায়ী আল্লাহ্ মানুষ সৃষ্টি করেছেন যা কখনোই ধারণক্ষমতাকে ছাড়িয়ে যাবে না। কিন্তু জাতীয়তাবাদীরা জাতীয়তাবাদের নামে 'দেশ' সৃষ্টি করে এমন এক জাহাজের সৃষ্টি করেছে যে জাহাজে ধারণক্ষমতা অল্প আর এই জাতীয়তাবাদকে লালন-পালন করে দানবাকৃতি দান করেছে গণতন্ত্র। এই কারণেই শিক্ষা ,স্বাস্থ্য ,চিকিৎসা, অর্থনীতি ইত্যাদি প্রায় সব ক্ষেত্রেই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। আর এই সমস্যার মূল হল 'জাতীয়তাবাদ ও গণতন্ত্র' ।
অথচ ইসলাম অনুযায়ী পৃথিবী দুইভাগে বিভক্ত -- একভাগে মুসলিম আরেকভাগে কাফির। পাকিস্তানি, বাংলাদেশি , ইন্ডিয়ান ইত্যাদি জাতীয়তাবাদের উছিলা দিয়ে পৃথিবীকে ভাগ করা ইসলাম সমর্থন করে না। আর সমগ্র বিশ্বের মুসলিম যাতে এক হয়ে থাকতে পারে সেজন্যই ইসলামে অনুমোদিত একমাত্র শাসনব্যবস্থা হল খিলাফত।
খিলাফত সিস্টেমে একজন খলিফার নেতৃত্বে সব মুসলিম অঙ্গরাজ্যগুলো পরিচালিত হয়। আর তাই বর্ডার দিয়ে 'দেশ' নামক কোন ফালতু কনসেপ্টের সৃষ্টি করা হয় না, এক অঙ্গরাজ্য থেকে আরেক অঙ্গরাজ্যে যেতে কোন পাসপোর্ট ,ভিসা নামক প্যারা লাগে না। ফলে জনসংখ্যার সুষ্ঠু বণ্টন হয় , কোন সমস্যার সৃষ্টি হয় না। তাই ইসলামী শাসনব্যবস্থা অর্থাৎ খিলাফতই হল জনসংখ্যা সমস্যার একমাত্র সমাধান , পশ্চিমাদের ফ্যামিলি প্লানিং এই সমস্যা কখনোই দূর করতে পারবে না। কষ্ট লাগে যখন দেখি কিছু দল গণতন্ত্র দিয়ে ইসলাম প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করছে। যেখানে আল্লাহ্ আমাদের উত্তম পথ দেখিয়ে দিয়েছেন সেখানে তারা পশ্চিমাদের ভ্রান্ত পথটাকেই বেছে নিয়েছে।
সবশেষে বলব, জাতীয়তাবাদীরা বর্ডার টেনে 'দেশ' সৃষ্টি করার মাধ্যমে নদীকে জলাবদ্ধ ডোবায় পরিণত করেছে এবং নানান সমস্যার সৃষ্টি করেছে। অপরদিকে ইসলাম জাতীয়তাবাদকে নির্মূল করতে বলেছে যাতে জলাবদ্ধতা দূর হয়ে প্রবাহমান নদীর সৃষ্টি হতে পারে এবং জাতীয়তাবাদের ফলে সৃষ্ট সমস্যাগুলো দূর হতে পারে।
(এখানে বলে রাখি ,বেশি জনসংখ্যার কারণে পৃথিবীর পরিবেশ খারাপ হয় না। পরিবেশ খারাপ হয় 'দেশ' নামক ডোবা সৃষ্টির মাধ্যমে। আর ডোবার পরিবেশ নোংরাই হয়)
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন