শুক্রবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৩

যদি আপনি গনতন্ত্রের অপমৃত্যুর নিদর্শন দেখতে চান


" আমেরিকা কখনই ইমাম আনোয়ার আওলাকি (রহঃ) এর হত্যা থেকে লাভবান হবে না "

যদি আপনি গনতন্ত্রের অপমৃত্যুর নিদর্শন দেখতে চান, তাহলে আর বেশি না তাকিয়ে তা দেখে নিন এর বৈশ্বিক রপ্তানীকারক, আমেরিকার কর্মকাণ্ডে যখন তারা ইমাম আনোয়ার আওলাকির হত্যাকাণ্ড ঘটায় । একটু খেয়াল করে তাকান আমেরিকার ন্যায়ের দাবীর দিকে, তাদের কাল্পনিক স্বাধীনতা ও সুষ্ঠু বিচারের দাবীর দিকে এবং এসবের সাথে তার সাংঘর্ষিক কার্যকলাপের দিকে । তখন আপনি এটি অনুধাবন করতে পারবেন যে আমেরিকার গনতন্ত্রের দাবী একটি ভাওতাবাজী ছাড়া আর কিছুই নয় । এক দশকেরও বেশী সময় ধরে আমেরিকার ধারাবাহিক সরকারগুলো মুসলিম বিশ্বের কাছে একটি নির্দিষ্ট আহ্বান প্রচার করে আসছে । “আমেরিকান স্বাধীনতা, আমেরিকান জীবনযাপন, আমেরিকান স্বপ্ন এর অনুকরণ কর। ” এবং এটাই তোমাদের জীবনে সাফল্য দান করবে, তোমার আর্থিক অবস্থা চাঙ্গা করবে, তোমার নারী ও শিশুদের জন্য প্রাণ দিবে, আর তোমার আকাঙ্খা ও স্বপ্নকে প্রাণ দিবে ।

আল্লাহ্‌ মাস্তা’আন (সকল নালিশ শুধুমাত্র আল্লাহ্‌র কাছেই ) । কতজন লোক এসব মিথ্যা আশ্বাস দ্বারা প্রতারিত হয়েছে এবং তার ক্রমধারায় আমেরিকা প্রশাসনকে মুসলিম বিশ্বে প্রবেশের আহ্বান জানানোর জঘন্য অপরাধে জড়িয়েছে (যেমনঃ সোমালিয়া, আফগানিস্তান, ইরাক, সৌদি, কুয়েত ইত্যাদি) ? মুসলিম বিশ্বের এসব প্রতারিত ব্যাক্তি (শাসক, যাজক ও তাদের দোসর ) আমেরিকার সহযোগী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে শরীয়াহ বাস্তবায়নে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিতে সহায়তা করে এবং পাশ্চাত্যের সকল প্রকার দুর্নীতি টিভি, ইন্টারনেট এবং বিভিন্ন মাধ্যমের মধ্য দিয়ে মুসলিম ভূমিতে ছড়িয়ে দিয়ে । যা তা করছে শুধুমাত্র আমেরিকার স্বপ্নকে নিয়ে বাস করার জন্য ।

সায়্যীদ ক্বুতবের মত ব্যক্তি এবং সম্প্রতি, ইমাম আনোয়ার আওলাকি যারা তথাকথিত আমেরিকান স্বপ্ন, স্বাধীনতা বাস করেছেন এবং বুঝেছেন যে এটা একটি দুঃস্বপ্ন ছাড়া আর কিছুই না । অনন্য বাগ্মিতা ও ইংরেজী ভাষায় দখলের কল্যাণে, আনোয়ার আওলাকি একজন বিশিষ্ট মুসলিম আলিমে পরিণত হোন যিনি উম্মাহকে সতর্ক করেন আমেরিকার ভণ্ডামি, বিভ্রম ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে । তিনি মুসলিমদের প্রশ্ন করেন

“আর কতক্ষণ তোমরা ঘুমিয়ে থাকবে এবং স্বপ্ন দেখবে, যখন টমাহক এবং ক্রুজ মিসাইলের বজ্রধ্বনি ধ্বনিত হচ্ছে তোমাদের মাথার উপর, আর কতক্ষণ ঘুমাবে বি-৫২ বোমারুদের আওয়াজ এবং তোমাদের স্ত্রী ও শিশুদের আর্তনাদ শুনেও? আর কতক্ষণ তোমরা দেখতে চাও তোমাদের উত্তম সন্তানদের গুয়ান্তানামোতে পাঠানো হচ্ছে, যখন জালিমরা হোয়াইট হাউসে বসে শরাব পান ও ভোজন বিলাস মত্ত ? ”

এটা আমেরিকার জন্য একটা বিব্রতকর ব্যাপার ছিল, কারণ ইমাম আনোয়ার আওলাকি একজন সুশিক্ষিত আমেরিকান নাগরিক ছিলেন যিনি একাধারে ইসলাম ও ধর্মনিরপেক্ষবাদ উভয়েই পাণ্ডিত্য অর্জন করেছিলেন ও আমেরিকাতে বাস করতেন এবং সেখানেই বেড়ে উঠেছিলেন, তাই তিনি সেখানকার সংস্কৃতি বুঝতে পেরেছিলেন এবং সরকারের ভণ্ডামি ও এর বৈদেশিক ইশতেহার (যেমনঃ পররাষ্ট্র নীতি) তার ভালোভাবে জানা হয়ে গিয়েছিল, তাই যখন তিনি এগুলো বলতে শুরু করলেন, তখন মুসলিম বিশ্বের টনক নড়ল এবং এটাই ওবামা ও আমেরিকাকে রাগান্বিত করে বসল, তারা এটাকে মুসলিম বিশ্বে তাদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠায় হুমকি ও চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখতে লাগল ।

তাই, যেকোন উপায়ে তাকে নিস্তব্ধ করতে হত, কিন্তু এর জন্য কি মুল্য দিতে হত ?
ইমাম আনোয়ার আওলাকি তার কর্মকাণ্ড ও কথায়, আমেরিকাকে চ্যালেঞ্জ করেছেন একটি সহজ চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে, তোমরা বল তোমরা বাক স্বাধীনতা, মুক্তি ও ন্যায়ে বিশ্বাস কর, তাহলে আমি তোমাদের জুলুম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলব, আমি চ্যালেঞ্জ করব মুসলিম বিশ্বে তোমাদের অন্যায় হস্তক্ষেপের, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে থাকা তোমাদের পুতুলদের মুখোশ উন্মোচন করে, কিন্তু আমি জানি তোমরা কখনই স্বাধীনতার মুখোশে তোমাদের বীভৎস চেহারা লুকোতে পারবে না ।

তাই আমেরিকার জন্য দুটি উপায় ছিলঃ

• আওলাকিকে মুসলিমদের বিরুদ্ধে তাদের জুলুম এবং তাদের দ্বিমুখনীতি ফাঁস করার স্বাধীনতা দেওয়া
• তাদের স্বাধীনতার বাণী সমগ্র বিশ্বের সামনে বিসর্জন দেওয়া ।

তাই একটি বিবর্ণ অর্থনীতি, বিচ্ছিন্ন রাজনৈতিক স্বত্বা, দুটি মৃত্যুকূপ ( ইরাক ও আফগানিস্তান ) নিয়ে অবশেষে ওবামা গং সিদ্ধান্ত নিল যে তাদের তথাকথিত স্বাধীনতার বাণীকে পুনরায় পুরো বিশ্বের সামনে বিসর্জন দিবে । যা তারা ইতিমধ্যে করে দেখিয়েছে আবু গারিব, গুয়ান্তানামো বে, ইরাক যুদ্ধ, শায়খ উসামা বিন লাদেন (রহঃ) এর গুপ্তহত্যায় । তাই, কিভাবে আমেরিকা আল্লাহ্‌র ক্রোধ থেকে লাভবান হবে, যেখানে সবচেয়ে বড় মুনাফা হচ্ছে আল্লাহ্‌র সন্তুষ্টি অর্জন ? কিভাবে আমেরিকা এইরকম একজন মহান ব্যক্তির হত্যাকাণ্ড থেকে লাভবান হবে যেখানে তারা তাদের ভণ্ডামি পুরো বিশ্বের সামনে প্রকাশ করে দিয়েছে? কিভাবে আমেরিকা এই হত্যাকাণ্ড থেকে লাভবান হবে যেখানে তারা রাগান্বিত করেছে পুরো বিশ্বের ‘ মডারেট’ একইসাথে ‘চরমপন্থী’ মুসলিমদের ?

আমেরিকা কখনই ইমাম আনোয়ার আওলাকির হত্যাকাণ্ড থেকে লাভবান হতে পারবে না । এটা এজন্য যে মুসলিম উম্মাহ তাদের আলেমদের মৃত্যুতে জেগে উঠে । আমাদের দুর্গ আমাদের জ্ঞানীদের কালি এবং আমাদের শহীদদের খুলি দিয়ে তৈরি, এই দুর্গ তার সুউচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে যাবে এবং আমাদের উম্মাহ ঊষার দিগন্তে বিজয় দেখতে পাবে – সেই বিজয় যার জন্য আল্লাহ্‌ আমাদের প্রস্তুত করছেন ।

# ইসরাইলীরা ১৯৪৮ সালে বাইতুল মোকাদ্দাসের পশ্চিম অংশ এবং ১৯৬৭ সালের যুদ্ধে এর পূর্ব অংশ দখল করে নেয়। এরপর ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে আমেরিকার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগিতায় ইসরাইল ফিলিস্তিনিদের উপর ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে একের পর এক ফিলিস্তিনি এলাকা দখল করে চলেছে এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ইহুদীদের এনে এইখানে বসতি স্থাপন করে চলেছে । বিশ্ববাসী নীরব ! কারণ মুসলিমদের মানবাধিকার থাকতে নেই ।

# ইরাক বার বার প্রত্যাখ্যান করার পরও ব্যাপক বিধ্বংসী অস্ত্র থাকার অভিযোগে ইরাকে হামলা চালায় আমেরিকার নেতৃত্বাধীন জোট । ইরাক ধ্বংস করে দেয় কিন্তু ইরাকে কোন বিধ্বংসী অস্ত্র তারা পায় নাই । হাজার নারী-শিশুসহ লাখ লাখ নিরীহ মানুষকে হত্যা করে আমেরিকা ব্যাপক নৃশংসতা চালিয়ে ইরাক থেকে বিপুল পরিমাণ তেল সম্পদ লুট করে । বিশ্ববাসী নীরব ! কারণ মুসলিমদের মানবাধিকার থাকতে নেই ।

# এইভাবে আফগানিস্তান......মিসরসহ বিশ্বের বিভিন্ন মুসলিম রাষ্ট্রে ইহুদী-খ্রিস্টান চক্র কিছু নামধারী মোনাফেক মুসলিম নেতার সহযোগিতায় মুসলিমদের নির্মম ভাবে মেরে চলেছে । বিশ্ববাসী নীরব ! কারণ মুসলিমদের মানবাধিকার থাকতে নেই।

# উগ্রপন্থি হিন্দু শিখ কত্রিক বাবরি মসজিদ ধ্বংস করে দিয়ে গুজরাটে ভারতীয় ইতিহাসে সবচেয়ে নির্মমভাবে মুসলিম নিধনের কথা কারো অজানা থাকার কথা নয় । এছাড়া আসাম-কাশ্মীরসহ ভারতের বিভিন্ন প্রদেশে মুসলিমদের উপর নির্যাতন-হত্যা তো সবসময় আছেই । বিশ্ববাসী নীরব ! কারণ মুসলিমদের মানবাধিকার থাকতে নেই ।

# উগ্রপন্থি বৌদ্ধ কত্রিক মিয়ানমারে নৃশংসতার কথা আমরা সবাই জানি । 'জীবে হত্যা মহাপাপ' স্লোগানধারী এই বৌদ্ধরা হাজার হাজার মুসলিম নিধনের পাশাপাশি মুসলিম নারীদের ধর্ষণসহ নিরপরাধ শিশুকে টুকরা করতেও দ্বিধা বোধ করেনি । বিশ্ববাসী নীরব ! কারণ মুসলিমদের মানবাধিকার থাকতে নেই ।

# নাস্তিক্যবাদ ও কমিউনিজম হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে বর্বর(লেখার আকারের কারণে বিগত শতাব্দিতে বিশ্বব্যাপী তাদের নৃশংসতার চিত্র দেয়া গেল না) একটা গোষ্ঠী যারা শুধু ধর্মের নয় , সমগ্র মানবজাতির শত্রু !

নোট আকারে ছাড়া কখনো খোলাসা করা সম্ভব নয় যে , বিশ্বব্যাপী মুসলিমদের উপর উগ্রপন্থিরা কি পরিমাণ অমানবিক সন্ত্রাসবাদ চালাচ্ছে । কেউ কি জানাতে পারবেন , মুসলিমরা অন্য কোন জাতির দেশ জোরপূর্বক দখল করে নিয়ে সেখানে হত্যা-ধর্ষণ-নারী-শিশুদের নির্মমভাবে হত্যা করে ব্যাপক ধ্বংসাযজ্ঞ চালিয়েছে !! আমেরিকা কত্রিক জাপানের মত কোন রাষ্ট্রে পারমাণবিক বোমা মেরেছে !!

এই সেই আমেরিকা যারা একের পর এক মুসলিম দেশসমুহ দখল করে সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করে চলেছে , এইক্ষেত্রে যেসব মুসলিম শাসক তাদের দালালি করবেনা তাদের উপর মিথ্যা অভিযোগ তুলে তাদের যুদ্ধের মুখোমুখি করছে। আর এই যুদ্ধে আল্লাহর পথের মুজাহিদরা যদি নিজেদের পবিত্র ভূমি রক্ষার জন্য , ইসলামের জন্য প্রতিরোধ গড়ে তোলে তখন সেটাকে বলা হয় "সন্ত্রাস" । আর মুসলিমদের বিরুদ্ধে এই শব্দটা ব্যাপকহারে প্রচার করার জন্য আমেরিকা আগে থেকেই ইসলাম বিরোধী মিডিয়া প্রস্তুত রেখেছে , যে মিডিয়ায় ধোঁকায় পরছে মুসলিম উম্মাহ'র অবুঝ মুসলিমরা সহ বিশ্ব সম্প্রদায় !!!

আমেরিকা কত্রিক ৯/১১ এর নাটকের প্রমাণসহ বিস্তারিত রুপ লিখে স্ট্যাটাসকে আর বড় করব না , শুধু এক ভাইয়ের একটা স্ট্যাটাস দিয়ে ব্যাপারটার ইতি টানবো-

"৯/১১ এর জন্য দাড়িয়ে থেকে যদি এক মিনিট নিরবতা পালন করতে হয় , তাহলে যুগ যুগ ধরে বিশ্বব্যাপী মুসলিম হত্যার জন্য আজীবন দাড়িয়ে থাকা উচিত"

by  "Mir Sajjad"


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন